১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহজ কর ব্যবস্থা

‘করাদালত’ পত্রিকার তিন দশক পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন যা বলেছেন তা সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান কর ব্যবস্থা সহজ করুন। দেশের কর আইন অত্যন্ত ড্রাই ও জটিল বিষয়। এক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতি আরও একটি ইংরেজী শব্দ ব্যবহার করেছেন, আর তা হলো এমবিগুয়াস অর্থাৎ দ্ব্যর্থক। সে অবস্থায় করদাতাদের এই আইন সম্পর্কে ভয়ভীতি ও দোলাচল প্রবণতা থাকা স্বাভাবিক ও সঙ্গত। মূলত এই প্রবণতা থেকেই দেশের সাধারণ মানুষ সহজে কর দিতে চান না বরং শত হাত দূরে থাকেন। আর কখনওবা নিহায়েত করের পাল্লায় পড়লেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় লিপ্ত হতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। দেশে আয়ের অনুপাতে করদাতার সংখ্যা সে কারণেই অত্যন্ত কম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও এ বিষয়ে অবহিত। অনেকটা সেই প্রেক্ষাপটেই প্রধান বিচারপতি করের বিস্তৃতি প্রসারের জন্য করবান্ধব সংস্কৃতি চালু করার ওপর সমধিক গুরুত্বারোপ করেছেন। জনসাধারণ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন সেজন্য রিটার্ন দাখিল ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের পদ্ধতি আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাগুলো নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। সে ক্ষেত্রে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর আদায়ের ক্ষেত্রে এসব সমস্যা সঙ্কট সম্পর্কে কমবেশি অবহিত। গত কয়েক বছর ধরেই তারা সাধারণ মানুষের মন থেকে ‘করভীতি’ দূর করার জন্য রাজধানীসহ দেশের অনেক স্থানে মাস ও সপ্তাহব্যাপী কর মেলার আয়োজন করছে। তাতে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে। দলে দলে মানুষ এসব মেলায় জড়ো হয়ে কর প্রদান সম্পর্কে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং করও দিচ্ছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই কার্যক্রম সবিশেষ প্রশংসিত হয়েছে এবং দিন দিন কর আদায়ের পরিমাণও বাড়ছে। এক দশক আগে এনবিআর আয়কর খাতে রাজস্বের মাত্র ২০ শতাংশ আদায় করতে সক্ষম হতো। ইতোমধ্যে এই হার তারা উন্নীত করেছে ৩৫ শতাংশে, যা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআর রাজস্বের ৫০ শতাংশ আয়কর আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে দৃঢ়ভাবে। সে ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে পারে।

সেই অবস্থা অর্জন করতে হলে এখন পর্যন্ত পথে অনেক বাধা, তবে ও কিন্তু আছে। এর অন্যতম হলো কর আদায়ের ব্যবস্থা সহজ ও সরল করা। আয়কর বিবরণীতে গৃহকর্মীর বেতন, ডিশ সংযোগ ও বর্জ্য অপসারণের বিল উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। এটি অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। বাস্তবতা হলো এখন পর্যন্ত দেশের খুব কম সংখ্যক মানুষই গৃহকর্মী রাখতে সক্ষম হন এবং ডিশ-বর্জ্য-পানি-গ্যাস বিল ইত্যাদির হিসাব সারা বছর ধরে রাখেন না। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য এক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘যারা কর দেয় তারাই সমস্যার সম্মুখীন হয়, যারা কর দেয় না তাদের কোন সমস্যা হয় না।’ এই অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিদ্যমান কর আইনকে আরও সহজ-সরল করে উপস্থাপন করা হলে জনগণ উৎসাহিত হবে কর প্রদানে। এর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক তথা ডিজিটালাইজড করা এখন সময়ের দাবি।