২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরানে আইএসের হামলা

পশ্চিমা বিশ্বের চক্ষুশূল ইরানের আহভাজ শহরে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সামরিক কুচকাওয়াজে বন্দুক হামলা চালানো হয়েছে। দুর্বৃত্তদের নির্বিচার গুলিতে কমপক্ষে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫৩ জন। নিহতদের মধ্যে নয়জনই সামরিক বাহিনীর সদস্য। অন্যরা দর্শনার্থী নারী ও শিশু। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় প্যারেড গ্রাউন্ডের পার্শ্ববর্তী এক পার্ক থেকে চার বন্দুকধারী প্যারেড স্কয়ারের দিকে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে আসে। এ সময় আক্রমণকারীরা মঞ্চে থাকা উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তাদের দিকেও গুলি ছোড়ে। হামলার সময় বন্দুকধারীদের পরনে সামরিক পোশাক ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের বার্ষিকী। ইরান প্রতিবছর এই দিনে ইরাকের সঙ্গে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত চলা যুদ্ধের বিজয় উদযাপন করে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্যারেডের আয়োজন করা হয়। এমনই এক প্যারেডে এই হামলা চালানো হয়। হামলার প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই হামলাকারী নিহত হয়। দুই হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ‘একটি বিদেশী সরকার’ হামলায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠলেওÑ কোন ইসলামী চরমপন্থী গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে বলেও ধারণা করা হয়েছিল। অবশ্য পরে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। এই হামলার মধ্য দিয়ে এটা আবারও প্রমাণিত হলো মধ্যপ্রাচ্যে আইএস যুগের অবসান এখনও হয়নি।

আহভাজ তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ খুজেস্তানের রাজধানী। অতীতে প্রদেশটির পাইপলাইন লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা চালিয়েছে আরব বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। গোষ্ঠীটি গত কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা তেলসমৃদ্ধ খুজেস্তানকে ইরান থেকে পৃথক করার লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনও এটাই করতে চেয়েছিলেন। এই হামলার পেছনে ‘একটি বিদেশী সরকারের’ সমর্থিত ‘সন্ত্রাসীরা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ। ওই সরকার আইএস সন্ত্রাসীদের অস্ত্র দিয়ে লালন-পালন করছে। ইরান আঞ্চলিক সন্ত্রাসের সমর্থকদের এবং তাদের প্রভু যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী বলে ধরে নিয়েছে। এভাবে ইরানীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য শিগগরিই সমুচিত জবাব দেবে তেহরান।’

এমনিতেই ইরানে নানা অস্থিরতা বিরাজ করছে। নানা সময়ে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলায় বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল দেশটিকে। কয়েক মাস আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং সরকারী নীতিবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছিল। এই হামলার সঙ্গে ওই আন্দোলনের কোন যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। একথা সত্য যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ রাষ্ট্রই পরিচালিত হয় পশ্চিমা বিশ্বের নির্দেশিত পথে। ইরান তার ব্যতিক্রম। এক সময় পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থনপুষ্ট এই দেশটির সঙ্গে এখন নানা বৈরী ভাব বিরাজ করছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নিজের সামর্থ্য তুলে ধরতে নানা সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠনের জন্ম হয়েছে ইরানের হাত ধরে। এখন সেই সুসম্পর্ক নেই কারও সঙ্গে। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এই চুক্তি বয়কট করেছে ইতোমধ্যে। ইরানের বিক্ষোভে তাৎক্ষণিক মার্কিন প্রতিক্রিয়াকে দৃষ্টিকটু হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাই নানা কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশের বিরাগভাজন দেশটি। এমনকি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নেই প্রতিবেশী বহু দেশেরও। আমরা মনে করি শুধু প্রতিবেশী নয়, বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কই এনে দিতে পারে শান্তি। এই হামলার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে, সেই শান্তির পথ খুঁজতে হবে ইরানকে।