২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে ৩ হাজার ৮৭১ পরিবার ঘর পেয়ে খুশি

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটে ৩ হাজার ৮৭১ দরিদ্র পরিবার ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। হতদরিদ্র যাদের নিজের একটু জমি আছে, কিন্তু থাকার মতো মানসম্মত ঘর নেই, সেসব পরিবারকে সেমিপাকা ঘর দিচ্ছে সরকার। এক লাখ টাকা বাজেটে সেমিপাকা ঘরের সঙ্গে রয়েছে একটি টয়লেটও। মাথা গোঁজার নিশ্চিন্ত ঠাঁই পেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো এখন মহাখুশি।

সিডর আইলা বিধ্বস্ত বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘর পেয়েছে ৯১ দরিদ্র পরিবার। এখানে উপজেলা সদরের রায়েন্দা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও হাওয়া বেগম বলেন, সিডরে আমাদের অনেকের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। পরে অর্থাভাবে ভাল ঘর তৈরি করতে পারেনি। ভাঙ্গাচোরা ছাপড়া ঘরে থাকতাম। ঝড়-বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যেত ঘরের মেঝে। এখন সরকার আমাদের ঘর দিয়েছে, সঙ্গে পাকা টয়লেটও আছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পাকা ঘরে থাকার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা কখনও ভাবতেও পারেনি যে পাকা ঘর পাব। ঘর পেয়ে রত্মা আক্তার বলেন, ছেলে ও ছেলের বউ নিয়ে ছাপড়া ঘরের একপাশে থাকতাম। অন্যপাশে নিজের পোষা দুটি গরু রাখতাম। গন্ধে ঘুমোতে কষ্ট হতো। এখন সরকারী পাকা ঘরে থাকি। আর গরু দুটোও এখন খুব ভাল আছে। ঘরপ্রাপ্ত খাদিজা বেগম, আব্দুর রহিম আকন ও কবির তালুকদারসহ অনেকে বলেন, আমাদের খুবই কম জমি ছিল। আমরা জমির ওপর কোনমতে গোল ও ছন দিয়ে ঝুপড়ি করে থাকতাম। কিছুদিন আগে টিএনও অফিসের লোকেরা আমাদের পাকা ঘর করে দেয়। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে পাকা ঘরে থাকি। ভাবতে খুব ভাল লাগে, যে আমাদের মতো গরিবেরাও পাকা মেঝেতে ঘুমাতে পারে। ঘর প্রদানের জন্য তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্র্ঘায়ু কামনা করেন।

স্থানীয় রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন রুমী বলেন, ইউনিয়নে যাদের জমি আছে কিন্তু থাকার মতো ভাল ঘর নেই, তাদের তালিকা তৈরি করে দিয়েছি। বিনামূল্যে সেমিপাকা ঘর পেয়ে দরিদ্ররা মহাখুশি হয়েছেন। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় শরণখোলায় ৪ ইউনিয়ন থেকে প্রথম পর্যায়ে ৯১ পরিবারের তালিকা প্রেরণ করা হয়েছিল। তাতে ৯১ ঘর অনুমোদন হয়ে নির্মাণের জন্য ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এক লাখ টাকা করে যে বাজেট সরকার থেকে দেয়া হয়েছে তা দিয়েই নির্দিষ্ট ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে শরণখোলা উপজেলার ঘরগুলো। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৮৫ ঘর নির্মাণ কাজ চলছে।