১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে নৌকা প্রতীকে ব্যাপক সাড়া

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফরে ব্যাপক সাড়া জেগেছে কক্সবাজারে। কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর কক্সবাজার ঘুরে যাওয়ার পর সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও নৌকা প্রতীকের প্রতি ঝুঁক বেড়েছে।

সূত্র জানায়, সেতুমন্ত্রীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের এ সফর যদি জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের কাজে লাগাতে পারলে কক্সবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে চকরিয়া ছাড়া বাকি তিনটি আসন আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন বলা যেতে পারে। সোমবার কেন্দ্রীয় নেতাদের কক্সবাজার ত্যাগ করার পর সকাল থেকে শহরের অলিগলিতে, চা দোকানে ও বিভিন্ন ক্লাবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন কক্সবাজারের যেসব উন্নয়ন করেছে, তা আলোচনায় আসছে। পাশাপাশি বিএনপি সরকারের ক্ষমতাসীন আমলে কলাতলী সি-বিচ সড়কের উভয় পাশে প্লট বণ্টনের যে হড়োহুড়ি ছিল তাও আলোচনায় আসছে। স্থানীয়রা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, আর বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে প্লট দখল ও বিক্রি কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়।

জানা যায়, ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনের মধ্যে দুটি বিএনপির, একটি আওয়ামী লীগের ও একটি জামায়াতের গড়ে উঠে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে ওইসময় জেলার চারটি আসনের মধ্যে ১টি পায় আওয়ামী লীগ, আর তিনটি আসন লাভ করে বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই বিএনপি জয়ী হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুটি আসনে বিএনপি, একটিতে আওয়ামী লীগ ও একটিতে জামায়াত জয় লাভ করে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জেলার তিনটি আসন আওয়ামী লীগের ও একটি আসন জাতীয় পার্টির অনুকূলে যায়। এবার আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪টি আসনই আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট দখলে নিতে চায়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট নির্বাচনে আসলে এখানকার ৪টি আসনেই আওয়ামী লীগ ও জোটের প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপরও মহেশখালী-কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর-রামু ও উখিয়া-টেকনাফে জনপ্রিয়তা যাচাই করে প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে এই তিনটি আসন আওয়ামী লীগ ঘরে উঠে আসতে পারে। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপিতে প্রার্থী নিয়ে কোন প্রতিযোগিতা নেই। সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী সাবেক সাংসদ হাসিনা আহমেদ এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত বলা চলে। ১৯৭৩ সালের পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ জয়ের মুখ দেখেনি। বর্তমানেও এ আসনে একই অবস্থা বিরাজ করছে। ভোটারদের মন জয়ে পিছিয়ে রয়েছে চকরিয়া পেকুয়া আওয়াম লীগ। চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামী লীগের হারানো ইমেজ ও ঐতিহ্য ফেরাতে হলে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীর বিকল্প নেই বলে জানান বিশ্লেষকরা। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান সাংসদ হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা নিশ্চিত বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজার ৬২২ জন। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪৩৬ জন। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮১ হাজার ৭৬৫ জন ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৩ জন।

এদিকে জেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও চকরিয়া বাস টার্মিনাল প্রাঙ্গণে রবিবার বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ধানের শীষ পেটের বিষ, সাপের বিষ, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। বিলবোর্ড, ব্যানার, সাইনবোর্ড, গেট এসবে কাজ আর হবেনা, ভাল ব্যবহার নিয়ে জনগণের কাছে যান। দুঃসময়ের কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সদর রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, মহেশখালী কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব) ফোরকান আহমদ ও মাহবুবুল হক চৌধুরী। বিশাল এই জনসভায় সদর, রামু, কক্সবাজার পৌর এলাকার ও গ্রামাঞ্চল থেকে প্রায় শতাধিক মিছিল ডাকঢোল বাজিয়ে হাজার হাজার লোকজন জনসভাস্থলে সমবেত হন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পার হতে না হতেই জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। জনসভায় নারীদের বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি ঘটে। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে ড. কামাল হোসেন নতুন করে নাটক করছেন। নাটক করে কোন লাভ নেই। আওয়ামী লীগকে সরানো কঠিন। কারণ জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় আসার দিন শেষ হয়ে গেছে।

চাঁপাইয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জানান, জেলার অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা শিবগঞ্জ। একে সন্ত্রাসের জনপদও বলা হয়। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ সংসদীয় আসন। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য কানসাট আন্দোলনের নেতা গোলাম রাব্বানী। সর্ববৃহৎ উপজেলা হবার অন্যতম কারণ ১০ হাজার হেক্টর আম বাগান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থল বন্দর সোনামসজিদ এই উপজেলার মধ্যে অবস্থিত। এছাড়াও উপজেলার তিন দিকে ভারতীয় সীমান্ত। এই উপজেলার মধ্য দিয়ে পদ্মা নদী প্রবেশ করায় গুরুত্ব বেড়েছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম একমাত্র আম বাজার কানসাট এলাকায়। বিধায় অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই সমৃদ্ধ। এ উপজেলা দীর্ঘদিন বিএনপি-জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গত দুই টার্মে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানে উন্নয়ন হয়েছে নজর কাড়া। প্রথমবারে নিয়ন্ত্রণ ছিল অবসরে থাকা আর্মি অফিসার ব্রিগেডিয়ার এনামুল হকের হাতে। তিনি সেইবার বিদ্যুত ও জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হয়েছেন কানসাট বিদ্যুত আন্দোলনের নেতা গেলাম রাব্বানী। প্রথম ও দ্বিতীয়বারেও বিএনপির প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞাকে পরাজিত করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এবারও আওয়ামী লীগ আসনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান এমপি গোলাম রাব্বানী ইদানীংকালে জনসংযোগ বৃদ্ধি করলেও ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) এনামুল হক পুনরায় আওয়ামী লীগের টিকেট পাওয়ার জন্য উপজেলার আনাচে কানাচে সব ধরনের গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, হুইপ মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মন্টু ডাক্তারের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সামিলউদ্দীন আহম্মেদ শিমূল মনোনয়ন পাবার আসায় দৌড়ঝাঁপ করছে। বাবা মন্টু ডাক্তারের ইমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ইমেজকে কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ডাঃ সামিল। তিনি দৌড়ে যাচ্ছেন পদ্মার চরে ডুবে যাওয়া মানুষের পাশে। তিনি সাধ্যমতো ত্রান সহযোগিতা করছেন বন্যা কবলিত এলাকায়। অপর প্রার্থী বুয়েটের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মাহতাব। তিনি এখন একজন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তিনি জনান এখন পর্যন্ত তিনি শতাধিক উঠান বৈঠক ও অর্ধ শতাধিক জনসভা করেছেন। মতবিনিময়ে সময়ক্ষেপণ করেছেন অনেক। তিনি আশা করছেন মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে সহযোগিতা করবেন। অপর প্রার্থী গোলাম রাব্বানী। একদিনের জন্যও বসে নেন। দুই ডজনের কাছাকাছি মানুষ নিহত হয় কানসাট আন্দোলনে। নিহতদের পরিবারের আক্ষেপ তারা নিহতদের পরিবার দুই লাখ করে টাকা পেলেও বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী এখন তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। পাশাপাশি রাব্বানীর কথা হচ্ছে কানসাট আন্দোলনে নিহত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার একটুও বাধা নেই। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা এখনও তিনি করে যাচ্ছেন। এসব পরিবারের কারো মা, বাবাসহ নানানভাবে ডেকে থাকেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে আছি একইভাবে নিহতদের পরিবারের দেখভাল করবেন।

পাশাপাশি এই উপজেলায় জামায়াতের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এতদিন তারা শুধু বিএনপিকে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে। এবার তারা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী দিয়ে বিএনপিকে মোকাবেলা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ জামায়াতের দখলে থাকলেও সব ধরনের উন্নয়ন কাজ হচ্ছে আওয়ামী লীগের নামে। এই উপজেলায় একটি পৌরসভা থাকলেও দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর। এখানে আওয়ামী লীগের দুটি ভাগ থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) এনামুল হকের নিয়ন্ত্রণে সব কিছু চলছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা মন্টু ডাক্তারের ছেলে ডাঃ সামিল উদ্দীন আহম্মেদ শিমূল এগিয়ে রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা থাকলেও আরও দুইজন মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। তবে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান মিঞার সাংগঠনিক অবস্থা দৃঢ়। তিনি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও জনসভা করে বেড়াচ্ছেন। একটি মহলের মতো ইতোমধ্যেই বিএনপির মনোনয়নের বড় ধরনের আশ্বাস পেয়েছেন একাধিক বারের সংসদ সদস্য বিএনপির অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা। তবে এই উপজেলায় অনেক আগে থেকেই জামায়াত-বিএনপির সম্পর্ক ভাল না থাকায় জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে বিএনপির অগ্রযাত্রা রুখে দিতে চাচ্ছে।

অন্যান্য দলের কোন নাম নিশানা নেই এই উপজেলায়। তাই এবারও বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বের কারণে আওয়ামী লীগ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, এই দ্বন্দ্ব ভোটের আগ পর্যন্ত বহাল থাকলে আওয়ামী লীগ আগের মতোই অনেক ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনবে।

আটঘরিয়ায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার ঈশ্বরদী থেকে জানান, ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া নিয়ে (পাবনা-৪) নির্বাচনী আসন। বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাব থাকা অবস্থায় ’৯১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার বিজয়ী হন। এর পর হাবিুবুর রহমান বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপিতে যোগদানের পর দলীয় প্রার্থী হতে না পেরে হাবিবুর রহমান বার বার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে দলীয় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার সন্তোষজনক ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগের বর্তমান ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের কাছে পরাজিত হন। শামসুর রহমান শরীফ এ আসনের বর্তমান এমপি ও ভূমিমন্ত্রী। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এবার এ আসনে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। শামসুর রহমান শরীফসহ আওয়ামী লীগের ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে রয়েছেন । তারা নানাভাবে নিজ নিজ পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। প্রত্যেকেই বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা এবং নৌকার পক্ষে কাজ করার কথা বলছেন। বিএনপি- জামায়াতের অপকর্মের কথা বলছেন। একই সঙ্গে তারা আগামীতে এ আসন এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করার কথাও বলছেন। এদের মধ্যে শামসুর রহমান শরীফ,্এ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু, ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, রফিকুল ইসলাম লিটন, প্রকৌশলী আঃ আলীম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এএসএম নজরুল ইসলাম রবি উল্লেখযোগ্য। সকলেই গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচী পালন করলেও এ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে উইস করতে বড়মাপের হোন্ডা শোডাউন, গণসংযোগ ও পাঁচটি পথসভায় বক্তব্য দিয়ে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর ঘোষণা দেন। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম লিটন আটঘরিয়ায় পথসভা, গণসংযোগ ও শোডাউন করে মানুষের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের দিয়ে সুশীল সমাজের মধ্যে গণসংযোগ চালাচ্ছেন বলে জানান। ভূমিমন্ত্রী বিশাল নৌকাবাইচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচী ও নেতাকর্মীদের দিয়ে নানামুখী উন্নয়নমুখী কর্মকা- চালাচ্ছেন।