২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশব্যাপী নিরাপত্তাহীনতা ও মানুষের মনে ভীতি ক্রমবর্ধমান ॥ রিজভী

দেশব্যাপী নিরাপত্তাহীনতা ও মানুষের মনে ভীতি ক্রমবর্ধমান ॥ রিজভী

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।’

বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে জনসভা সফল করার জন্য আহ্বান জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

‘আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাতের জন্য দুর্নীতিবাজরা জোট বেঁধেছে’ এবং ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেবে’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তিনি তার সামনে-পেছনে, ডানে-বায়ে যারা তাকে ঘিরে আছে তাদের দিকে তাকান না, শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কুৎসা রটাতেই ব্যস্ত থাকছেন। তার মুখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদগার হাস্যকর।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নিকট জাতি জানতে চায়- বিগত দশ বছরে ব্যাংক-বীমা লুটের টাকা গেল কোথায়? শেয়ারবাজার লুটের টাকা গেল কোথায়? ব্যাংকে আমানতকৃত টাকা চেক দিয়ে মানুষ না পেয়ে ফেরত আসে কেন? বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করেছে কে? এখনও কেন রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি? আর্থিক খাত ধ্বংস করলো কে? কানাডাতে বেগম পল্লী ও মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তৈরি করেছে কারা? গত দশ বছরে বিদেশে লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে কারা? প্রায় প্রতিদিন গড়ে ৪/৫ জন নিরীহ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে কার নির্দেশে? সর্বোপরি দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলের মুখে দেশ থেকে বিতাড়নের নির্দেশ দিয়েছে কে? বর্তমানে দেশজুড়ে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও লুটপাটের যে মহোৎসব চলছে, প্রধানমন্ত্রী তার অসত্য ভাষণে তা ধামাচাপা দিতে পারবেন না- জনগণ এটিকে নিরেট চাপাবাজি বলেই গণ্য করে।’

রিজভী বলেন, ‘আসল জারিজুরি ফাঁস হওয়ার ভয়েই শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ছেন না। সেজন্য সকলের মুখ বন্ধ রাখতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন জাতীয় সংসদে পাশ করেছেন- যেটিকে জনগণ সন্ত্রাসী-আইন বলেই মনে করে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ফ্যাসিস্ট সরকারেরই ভাষা। কারণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন শুধু স্বাধীন সাংবাদিকতার পথই রুদ্ধ করেনি, জীবন-জীবিকার নিরাপত্তহীনতায় পড়েছে সাংবাদিক সমাজ। দেশব্যাপী নিরাপত্তাহীনতা ও মানুষের মনে ভীতি ক্রমবর্ধমান।