২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময় সভা

পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে ১৪ দলের মতবিনিময় সভা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তির বিজয়ের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী এবং পেশাজীবী নেতারা। তাঁরা অভিন্ন কণ্ঠে বলেছেন, সংখ্যালঘু, সংস্কৃতিকর্মী ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ডিসেম্বর মাসের মহাপরীক্ষার নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে। আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নিয়ে কখনও ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে পারে না। কারণ জাতীয় ঐক্য হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে। স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শক্তির কখনও ঐক্য হতে পারে না।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। বক্তারা সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির মহাঐক্য গড়ে তোলা এবং জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে যোগ দেয়া সুযোগ সন্ধানী নেতাদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি এবং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি।

পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র মহাসচিব অধ্যাপক ডাঃ এহতেশামুল হক, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট ইউসূফ হোসেন হুমায়ুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ(আইইবি)’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সবুর, গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় চৌদ্দ দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে জনগণ তাদের রায় দেবে। তবে বিএনপি-জামায়াতকে কোন ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে মাঠে ময়দানে প্রতিহত করা হবে। যে কোন মূল্যে তাদের ষড়যন্ত্রের জবাব দেয়া হবে। আর সবাইকে মনে রাখতে হবে আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তির বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। তিনি জানান, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সে সমাবেশে পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। এ মাস থেকে দেশের জেলা ও উপজেলায় ১৪ দলের উদ্যোগে যে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সে সমাবেশে বিএনপি-জামায়াত ও যুক্তফ্রন্টের নেতাদের মুখোশ উম্মোচন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময় আমরা মাঠে নামতে পারিনি। তারপরও মাঠ ছাড়িনি। বিএনপি-জামায়াত গত দশ বছরে আন্দোলন করতে পারেনি। কারণ তারা কি নিয়ে আন্দোলন করবে সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নয়। ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সমালোচনা করে মেনন বলেন, ড. কামাল হোসেন বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আমাদের সঙ্গে থাকলেও সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর তাদের সঙ্গে চলে যান এবং অনির্ধারিত সময় যে ওই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে তার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেন। আর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ওই সরকারের উপদেষ্টা থাকার সময় টেলিভিশনের টকশোতে আমরা কোন কথা বলতে পারতাম না। আদালতে ও টেলিভিশনে একজন করে সেনা কর্মকর্তা বসিয়ে রাখা হতো।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেয়া ও না নেয়ার ওপর ১৪ দলের ঐক্য নির্ভর করছে না। যতদিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নির্মূল না হবে ততদিন পর্যন্ত এ ঐক্য থাকবে। আর সংখ্যালঘু, সংস্কৃতিকর্মী ও সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ডিসেম্বর মাসের মহাপরীক্ষার নির্বাচনে বিজয়ী হতে হবে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের ঐক্য জাতির জন্য হুমকি। কারণ আদর্শ ছাড়া কোন ঐক্য হতে পারে না। এ সম্পর্কে জনগণকে জানাতে হবে। আগামী অক্টোবরের পর বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনকে বানচাল করতে নাশকতার যে ষড়যন্ত্র করেছে তা প্রতিহত করার জন্য পাল্টা পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সাংবাদিক-কলামিস্ট শাহরিয়ার কবির বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিয়ে কখনও ইনক্লুসিভ নির্বাচন হতে পারে না। কারণ জাতীয় ঐক্য হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে স্বাধীনতা বিরোধীদের কখনও ঐক্য হতে পারে না। গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের মতো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর যাতে কোন হামলা হতে না পারে সেজন্য সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করতে বিশেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতার কোন বিকল্প নেই।