২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহীতে পদ্মা বাঁধে ধস ॥ সরে যাচ্ছে ব্লক

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নগরীর টি-বাঁধের পশ্চিমের (পুলিশ লাইনের গেটের সামনে) সদ্য সংস্কার হওয়া বাঁধের ব্লকে ধস দেখা দিয়েছে। হঠাৎ ব্লøকে ধস দেখা দেয়ায় এলাকাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড এরই মধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে শুরু করেছে। গেল বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয় এই বাঁধটি। তবে বছর না ঘুরতেই সেখানে ধস দেখা দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে তারা। শহর রক্ষা বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরে বাঁধের সুরক্ষায় বসান ব্লকগুলো দেবে গেছে। আবার কিছু ব্লক ধসে নিচে নদীর দিকে নেমে গেছে। ফলে ব্লকের ফাঁকগুলোতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ব্লকের নিচের মাটি। স্থানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গিয়েও রাখা হয়েছে। আর বাঁধের ধস রোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে সেই ব্লকের ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে পদ্মানদীর পানি অস্বভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় টি-বাঁধসহ আশপাশের বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গন প্রতিরোধে ২০১৭ সালে এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ এলাকার দেড় শ’ মিটার এলাকা সংস্কারের কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটি শুরু হয় ২০১৫ সালে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাজে ধীর গতি ও গাফিলতির অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। এছাড়া প্রতিবছর নদীতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী এই জিও ব্যাগ ফেলর মূল কারণ নদীর স্র্রোতের গতিপথ তীরের বাইরের দিকে নিয়ে যাওয়া। বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান না করে এবারও এই নদীর তীরের বেশ কিছু এলাকায় একইভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য মতে, উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে এ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নদীর পানি আবার অস্বাভাবিক হারে কমতে থাকে। গত এক সপ্তাহে নদীর পানি প্রায় আট ফিট নেমে ১৫ দশমিক ২৪ মিটরে ঠেকেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে বন্যার পর অস্বাভাবিক হারে নদীর পানি নেমে যাবার কারণে তীরে ভাঙ্গন দেখা দেয়। তবে বাঁধ রক্ষায় নিম্নমানের কাজের কারণে বছর না ঘুরতেই এখানকার বাঁধটিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এদিকে এত অল্প সময়ে নতুন বাঁধে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মকলেছুর রহমান বলেন, মাত্র ৫ দিনে ৮ ফিট পানি নেমে গেছে। যা অস্বাভাবিক। ফলে নদী তীরের এই অংশ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই। ভাঙ্গন প্রতিরোধে পাউবো দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে।