১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আহমাদী নিয়োগ দিয়ে বিপাকে ইমরান

  • এনামুল হক

ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক এ ইনসাফ পার্টির সরকার আতিফ মিয়াকে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করায় ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। কারণ প্রিন্সটনের অধ্যাপক আতিফ মিয়া আহমাদীয়া সম্প্রদায়ভুক্ত।

গত ৪ সেপ্টেম্বর দেশটির তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াক চৌধুরী এই নিযুক্তির সমর্থনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাতে পাকিস্তানের সঙ্কুুচিত হয়ে আসা উদারপন্থীদের আনন্দিত হওয়ার কথা। ফাওয়াদ ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে বলেন, ‘আতিফ মিয়া আহমাদীয়া সম্প্রদায়ের হওয়ায় কিছুই যায় আসে না। যে মানুষটি আগামী ৫ বছরের মধ্যে নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন বলে সবাই মনে করেন তাকে কেন এই পদে নিয়োগ দেয়া হবে না?’

পাকিস্তানে আহমাদীর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। এদের অমুসলমান ঘোষণা করার পর থেকে গত ৪৪ বছরে আর কোন রাজনীতিক এত খোলামেলাভাবে তাদের সমর্থনে বক্তব্য দেননি। আহমাদীরা তাদের নেতা ১৮৩৫ সালে জন্মগ্রহণকারী মির্জা গোলাম আহমদকে মহানবী হযরত মুহম্মদ (দ) পরবর্তী নবী বলে মনে করে। সে কারণে অনেক পাকিস্তানী আহমাদীদের বিধর্মী হিসেবে দেখে, দেশের প্রচলিত আইনে আহমাদীদের কোরান পাঠও নিষিদ্ধ। নানা প্রতিকূলতার কারণে গত এক দশকে অর্ধেক সংখ্যক আহমাদী পাকিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। আহমাদীরা ধণাঢ্য ইহুদীদের সমর্থনপুষ্ট অন্তর্ঘাতক এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও গজিয়ে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইমরানের দল এ ধরনের আশঙ্কা কাজেও।

কিন্তু আতিফ মিয়ার সমর্থনে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সুর বাতাসে মিলিয়ে যেতেই না যেতেই হৈচৈ জুড়ে বসে নতুন গজিয়ে ওঠা ইসলামী দল তেহরিকী লাব্বায়েক। দলটির একমাত্র লক্ষ্য ব্লাসফেমি যারা করে তাদের শাস্তি দেয়া। তেহরিকী লাব্বায়েক আতিফ মিয়ার আশু বরখাস্ত দাবি করে। তাদের চাপের মুখে পিছু হটে ইমরান সরকার। গত ৭ সেপ্টেম্বর আতিফকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। এর প্রতিবাদে ১৮ সদস্যের অর্থনৈতিক পরিষদের বিদেশ থেকে আনা আরও দুই সদস্য পদত্যাগ করে বসেন। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের এর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত ছিল। ২০১৪ সালে বিরোধী দলে থাকাকালে তিনি তার সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী পদে আতিফ মিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে ইসলামপন্থীদের চাপে পড়ে তা থেকে সরে এসেছিলেন।

তবে এ ব্যাপারে অবস্থান নেয়ার মতো রাজনৈতিক মূলধন ইমরান খানের দলের রয়েছে। ইসলামপন্থীদের মধ্যে দলটির ব্যাপক সমর্থন ও বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর নজিরবিহীন সমর্থন আছে। শোনা যায় যে আতিফ মিয়ার নিয়োগ নিয়ে ইমরানের দলের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি আছে। পার্লামেন্টে দলটি কোনভাবে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। পাকিস্তানের মতো দেশে আহমাদী ইস্যুটি একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। কাজেই বিরোধী দল আতিফের ইস্যুটিকে নিয়ে যে উস্কে দেবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রধান বিরোধী দল পিএমএল (নেওয়াজ) ক্যাডাররা ঠিক তাই করছে। তেহরিকী লাব্বায়েক যদি আরেক বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে নগরজীবন অচল করে দেয় তাহলে ইমরান খান সরকারের ক্ষমতার প্রারম্ভিক দিনগুলো মস্তো ব্যাঘাতের সম্মুখীন হবে। ইমরানের দল যদি আহমাদীদের পক্ষে দাঁড়ানোর আর কোন চেষ্টা না চালায় তার পরও তাদের সম্ভবত আরও সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তেহরিকী লাব্বায়েক ইদানীং সত্যিই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাদের তহবিল সংগ্রহ ও রিক্রুটমেন্ট বেড়েছে। ইতোমধ্যে তারা ইমরান সরকারকে একটি ব্লাসফেমাস কঠিন প্রতিযোগিতা নিয়ে অলন্দাজ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাধ্য করেছে। প্রতিযোগিতাটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট