২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল আজ

মিথুন আশরাফ ॥ ‘আশা করি সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচে ফাটিয়ে দেব।’ কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে রবিবার শ্বাসরুদ্ধকর, নাটকীয় ম্যাচে ৩ রানে জিতে বাংলাদেশ। তাতে করে ফাইনালের আশা টিকে থাকে। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘সুপারফোরে’র শেষ ম্যাচে লড়াই করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনাল ম্যাচরূপে দাঁড় হয়ে গেছে। যে দল জিতবে তারাই ভারতের বিপক্ষে শুক্রবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়াই করবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচকে আমলে নিয়েই ফাটিয়ে দেয়ার কথাটি বলেছেন মাশরাফি। তা কী সম্ভব?

সবাই জানে, পাকিস্তান দলটিকে নিয়ে আগাম কিছু অনুমান করা কঠিন। এশিয়া কাপের গ্রুপপর্ব হোক কিংবা এখন পর্যন্ত ‘সুপারফোরে’ ম্যাচগুলোতে হোক; পাকিস্তান নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। গ্রুপপর্বে হংকংকে সহজেই হারিয়েছে। কিন্তু এরপর ভারতের কাছে অনায়াসে হেরেছে। পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ গিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে জিততে বারোটা বেজে গিয়েছিল পাকিস্তানের। হারের সম্মুখে পড়ে গিয়েছিল। ভারতের বিপক্ষে তো নাস্তানাবুদ হয়েই চলেছে। আবারও ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। এবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান।

বাংলাদেশও যে খুব ভাল ক্রিকেট খেলছে তা নয়। গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। উড়ন্ত সূচনা হয়েছে। কিন্তু এরপর আবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে মাটিতে নেমেছে। পাত্তাই পায়নি। ‘সুপারফোরে’ ভারতের কাছেও একই হাল হয়েছে। তাতে করে হায় হায় রবই উঠেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল শেষ পর্যন্ত জিতেছে। কিন্তু শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের ‘ম্যাজিক’ বোলিং না হলে জয় আর মিলত না। জয় পেতে অনেক ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তাতে করে দলের দুর্বলতাও চোখে পড়েছে। তবে এমন জয়ে আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে ক্রিকেটারদের। যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে দেয়াও সম্ভব। পাকিস্তান যে এবার এশিয়া কাপে বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ খেলছে।

অবশ্য যে কোন মুহূর্তে পাকিস্তান দলটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তা দেখাও গেছে। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফেবারিট তালিকায় না থেকেও শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। আর এশিয়া কাপে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস তো আছেই। পাকিস্তান দলটি যে কোন মুহূর্তে যে কোন দলকে হারিয়ে আবার রেসে এসে পড়তে পারে। তা সবারই জানা আছে। এখানেই আছে ভয়। তবে পাকিস্তানই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটির আগে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তান দলের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার কিন্তু দলকে নিয়ে আছেন চরম ভয়ে। তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্কট চলছে। ব্যর্থতার ভয় কিছুটা হলেও ড্রেসিংরুমে গ্রাস করেছে। ক্রিকেট দল হিসেবে এখন আমরা কি অবস্থায় আছি সেটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি আমরা।’

শোয়েব মালিক, ইমাম উল হক, বাবর আজম, সরফরাজ আহমেদকে নিজেদের মেলে ধরতে পারছেন। কিন্তু যাদের দিকে নজর, সেই ব্যাটসম্যান ফখর জামান, বোলার মোহাম্মদ আমির, হাসান আলিরা কিছুই করতে পারছেন না। এ ক্রিকেটাররা নিজেদের মেলে ধরতে না পারলে পাকিস্তানের আসলে কোন গতিই নেই। আত্মবিশ্বাসও পাক ক্রিকেটারদের নড়বড়ে হয়ে গেছে। মিকি আর্থার যেমন জানান, ‘ক্রিকেট আত্মবিশ্বাসের খেলা। অথচ ফখর জামানকে দেখুন। আমরা সবাই জানি ও’ কতটা অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়া খেলোয়াড় সে। আমাদের প্রত্যাশা থাকে ও ভাল শুরু এনে দেবে দলকে। কিন্তু এই মুহূর্তে নিজের খেলা নিয়ে ও’র মধ্যে যেন দ্বিধাদ্বন্দ্ব চলছে।’ তবে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াবে তাছাড়া কোন গতি নেই; তাও জানিয়ে দিয়েছেন আর্থার, ‘তবে আমাদের তো এখানেই থেমে যাওয়ার উপায় নেই। এগিয়ে যেতে হবে। আশাকরি দ্রুতই আমরা ঘুরে দাঁড়াব এবং আরও ভাল এবং শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসব।’ ফিরে আসতে হলে আজই আসতে হবে না হলেই যে বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে।

পাকিস্তানকে বিদায় করেই ফাইনালে খেলার আশা আছে বাংলাদেশের। ২০১৫ সালের এপ্রিলে দুই দল পরস্পরের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছিল। বাংলাদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছিল পাকিস্তান। এবারও পাকিস্তানকে হারাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস চাপের মধ্যে থেকেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে রেকর্ড ১২৮ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় স্কোর দাঁড় করানোয় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর শেষ ওভারে গিয়ে আফগানিস্তানের জিততে ৬ বলে ৮ রানের দরকার ছিল। আফগানিস্তানের হাতেই ছিল ম্যাচ। কিন্তু মুস্তাফিজ কি অসাধারণ বোলিং করেছেন। প্রথম বলে ২ রান দেন। পরের বলে রশিদ খানকে আউট করে দেন। শেষ চার বলে ২টি লেগ বাই হয়। ওভারটিতে ৪ রানের বেশি হয়নি। ম্যাজিশিয়ানের ভূমিকায় আবির্ভূত হন মুস্তাফিজ। আর এমন পারফর্মেন্সকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও দেখতে চান আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হওয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বলেছেন, ‘এই খেলাটাকে আমাদের পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।’ তা নিয়ে যেতে পারলেই হয়ে যায়। আজ ‘অঘোষিত’ সেমিফাইনালে তাহলে জেতাও হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবারও এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলাও নিশ্চিত করে নেবে।