১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের উত্তর দিনাজপুরে পুলিশ-বিরোধী সংঘর্ষ ॥ বাসে আগুন

ভারতের উত্তর দিনাজপুরে পুলিশ-বিরোধী সংঘর্ষ ॥ বাসে আগুন

অনলাইন ডেস্ক ॥ বাস ভাঙচুর। বাসে আগুন। পুলিশের গাড়িতে হামলা। রাস্তায় টায়ার জ্বালানো। পথ অবরোধ। পুলিশ-বিরোধী সংঘর্ষ। দফায় দফায় একাধিক ঘটনায় কার্যত অগ্নিগর্ভ উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর।

আজ বুধবার রাজ্য জুড়ে বিজেপি-র ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্ধে সকাল থেকেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় ইসলামপুরে। এ দিন সকাল থেকেই বন্ধ রুখতে পুলিশ-প্রশাসনের তৎপতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি, বন্ধ সফল করতে সচেষ্ট ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক জায়গায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়ায়। তা নিয়ে এ দিন সকাল থেকেই ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

দাড়িভিট-কাণ্ডকে ঘিরেই মূলত এই বন্ধের ডাক। ফলে এই জেলায় গোলমালের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এ দিন তা-ই বাস্তবে পরিণত হয়। উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিট গ্রামে যে দুই ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে এই বন্ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি, সেই গ্রামে বিক্ষোভে সামিল হন নিহত ছাত্র তাপস বর্মণের মা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গ্রামবাসীরাও। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছিল।

দাড়িভি়ট ছাড়াও ইসলামপুরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক ঘটনায় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় জেলা। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তায় গাড়ির টায়ার ফেলে তা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গ পরিবহণ নিগমের একটি বাসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ, যাত্রী থাকা সত্ত্বেও ওই বাসের জানলায় ঢিল ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় জানলার কাচ। তাতে আতঙ্কিত হয়ে বাস থেকে নেমে দৌড়ে পালাতে থাকেন যাত্রীরা। এর পর সেই বাসের তেলের ট্যাঙ্কে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে গোটা বাসটি। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি জেলার একাধিক জায়গায় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বন্ধ সমর্থনকারীদের। অভিযোগ,এ দিন দাড়িভিট গ্রামে পুলিশের উপর ব্যাপক ইটবৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। পরিস্থিতি সামলাতে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে দু’পক্ষের বেশ কয়েক জন আহত হন। ওই ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছন উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার। বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পৌঁছন উত্তরবঙ্গে আইজি আনন্দ কুমার।

এর পরই রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় ঘটনাস্থল। এক দিকে বিক্ষোভকারী। আর অন্য দিকে বিশাল পুলশিবাহিনী-র্যাফ। দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। এক সময় বিশাল পুলিশ বাহিনীর দাপটে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে পড়েন তাঁরা। তাঁদের খুঁজে বার করতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

এ দিন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে গোটা ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করছিলেন রাজ্য যুব বিজেপি-র সভাপতি দেবজিৎ ঘোষ। পুলিশের নজরে তা পড়ামাত্র তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আটক করা হয়।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা