১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডিমলায় সম্ভাব্য প্রার্থীর কার্যালয় ভাংচুর মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সরকার ফারহানা আক্তার সুমীর ডিমলা শহরের প্রচার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের ঘটনার মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। রবিবার দুপুরে সুমী এই অভিযোগ তুলে বলেন, আসামিরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা ও আত্মীয় হওয়ায় ডিমলা থানার ওসি তাদের আটকে গড়িমসি করছে। মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানীর মেয়ে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহশিক্ষা প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক (কল্যাণ ও পুনর্বাসন) সরকার ফারহানা আক্তার সুমী। মনোনয়ন প্রত্যাশী সুমীর ডিমলার কার্যালয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত মামলার আসামিরা ওই হামলা ও ভাংচুর করে। সুমী জানান, ঘটনার পর দিন ২৮ সেপ্টেম্বর ওসি মামলাটি রেকর্ড করে। সুমীর সমর্থক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালালউদ্দিন স্বাধীন মামলার বাদী হয়। আসামি করা হয়েছে সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকারের ভাতিজা ফেরদৌস পারভেজ, এইচ এম ফিরোজ, ময়নুল হক, সাইয়েন কাদির কানন, আবু সায়েম সরকার, সারোয়ান জাহান সোহাগ ও তাদের নেতৃত্বে গঠিত আগুন খাওয়া বাহিনীর ২০ জনকে। সুমী আরো অভিযোগ করে জানান, আমার নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সমর্থকদের মারধর এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ কার্যালয়ের আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল ভাংচুর করে তারা, যা এলাকার সাধারণ মানুষজনসহ পুলিশ প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ আমাদের মামলার পর আমার কার্যালয়ে হামলাকারীদের মধ্যে আগুন খাওয়া সন্ত্রাসী এনামুল হক মুন্না টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যে ঘটনা সাজিয়ে আমার সমর্থকদের মধ্যে নামীয় ২৩ জনসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করে ভুয়া মামলা দায়ের করে। তিনি ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে ওই ভুয়া মামলাটি দায়েরে সহযোগিতা করেছেন। অথচ আমার অফিসের হামলা ও ভাংচুরের প্রকৃত মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। নীলফামারী-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দীন সরকারের ভাই-ভাতিজা-জামাতা ও তাদের নেতৃত্বে গঠিত আগুন খাওয়া বাহিনীর কর্মফলের আমলনামায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ফলে তাদের কারণে রীতিমতো এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলছেন এই সংসদ সদস্য। এমন অভিযোগ খোদ দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া আগামী ২১ অক্টোবর ডিমলা উপজেলার তিন ইউনিয়ন খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ওই নির্বাচনে দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে এমপির সুপারিশে যাদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে চেয়ারম্যানপদে প্রার্থী করা হয়েছে এ নিয়ে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তারাও পড়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপক্ষের চাপে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, আগুন খাওয়া টিম এলাকার ত্রাস। পেশীশক্তি আর চাচার প্রভাবে তারা বেসামাল। এদিকে এই আসনে সরকার ফারহানা আক্তার সুমীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল।