২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটবলে অপরাজিতা

দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের অনুর্ধ ১৮ দল। এর আগে দেশের ফুটবল-কিশোরীরা চার জাতি কিশোরী ফুটবলে (অনুর্ধ ১৫) অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তার মানে আমরা একথা বলতেই পারি যে, দক্ষিণ এশিয়ার বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলে এখন বাংলাদেশেরই একচ্ছত্র আধিপত্য। ফুটবল লড়াইয়ে এই অপরূপ অপরাজিতাদের অভিনন্দন। এই টুর্নামেন্টের দারুণ সূচনা করেছিল বাংলার মেয়েরা পাকিস্তানের জালে ১৭টি গোল জড়িয়ে। সবশেষে ফাইনালের দাবিদার নেপালকেও পরাস্ত করেছে তারা। এছাড়া সবচেয়ে বেশি গোল দেয়া (২৪) এবং সবচেয়ে কম গোল (১) খাওয়ারও কৃতিত্ব আমাদের এই নারী ফুটবলারদের। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড স্বপ্না ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। ফাইনালে একমাত্র গোলদাতা মাসুরা পারভীনকে আমাদের বিশেষ ধন্যবাদ। অধিনায়ক মৌসুমীর নেতৃত্বের অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য। শাবাশ বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক ট্রফি দেশবাসীকে উপহার দিয়েছিল নারী ক্রিকেটাররা। এবার নারী ফুটবলাররাও দেশের জন্য নিয়ে এলো আন্তর্জাতিক ট্রফি। সত্যিই এ এক পরম পাওয়া। প্রেরণাদায়ী অর্জন।

গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সাফ, এএফসি এবং আমন্ত্রণমূলক মিলিয়ে ছয়টি টুর্নামেন্টের মধ্যে পাঁচটিতেই বাংলাদেশের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একটিতে শুধু ফাইনালে হেরেছে। আমরা এটা আশা করতে পারি যে, মেয়েদের ফুটবলের দিকে এবার কর্তৃপক্ষ বিশেষ দৃষ্টি দেবে। যে কিশোরী এবং তরুণীরা তাদের চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে, দারুণ প্রতিযোগিতার উদাহরণ উপহার দিয়ে এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য বয়ে নিয়ে এলো দেশের জন্য, নিশ্চয়ই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হবে। অল্প বয়সী মেয়েরা যে ফুটবলের মতো একচেটিয়া পুরুষদের অধিকারে থাকা একটি আনন্দদায়ক খেলায় বেশি করে যুক্ত হচ্ছে, তাতে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। একটুখানি বাড়তি যতœ আর আর্থিক সুবিধা পেলে আমাদের মেয়েরা যে আরও বড় আন্তর্জাতিক আসরে বিরাট সাফল্য অর্জন করবেÑ এমনটা আমরা আশা করতেই পারি। তাই তাদেরকে সেভাবে গড়ে তুলতে হবে। সব ধরনের সহযোগিতার পথ রচনা করতে হবে।

কিশোরী-তরুণীরা যে আকর্ষণীয় ফুটবল খেলছে, মেয়েদের ফুটবলে যে জাগরণ তার পেছনে অনন্য ভূমিকা রাখছে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে আয়োজিত বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপের নিয়মিত আয়োজন। প্রতিভা অন্বেষণের এমন আরও অনেক আয়োজন চাই। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের পরিচর্যার প্রতিও দিতে হবে মনোযোগ। খেলাধুলায় ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সে কথা বলাই বাহুল্য। ফুটবলে মেয়েরা ভাল খেলছে এবং আরও ভাল করবে- এমন সম্ভাবনা শুধু সংগঠকরা দেখছেন তা নয়, দেশবাসীও আশায় বুক বাঁধছে। তাদের প্রতি এ মনোযোগ অব্যাহত এবং প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে সংশ্লিষ্ট সবাই সদা যতœবান হবেন- এটাই একান্তভাবে কাম্য। ক্রিকেটে আমাদের সাফল্যের ঝুলি ভরে উঠছে। ফুটবল, হকি এবং অন্যান্য খেলাতেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের স্থান করে নিতে হলে সুষ্ঠু ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা চাই। দেশে বরাবরই খেলাধুলায় মেয়েরা সফলতা দেখিয়ে আসছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও যথাযথ পরিচর্যা এখন সময়ের দাবি।