১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের ১০ দফা দাবি

ঢাকা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের  ১০ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে পাঁচ হাজার অটোরিক্সা নামানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনের নেতারা।

‘ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী থ্রি হুইলার লাইসেন্সধারী সিএনজি অটোরিক্সা চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিক্সার দ্রুত গেজেট প্রকাশ সহ ১০ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি সমূহের মধ্যে রয়েছে, ঢাকা মহানগরীতে বসবাসকারী থ্রি হুইলার লাইসেন্সধারীদের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিক্সার গ্যাজেট প্রকাশ ও বিতরণের ব্যবস্থা, সরকারী আদেশ অমান্য করে ৯০০টাকা বেশি জমা নেয়া মালিকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা ও গ্যারেজে মোবাইলকোর্ট পরিচালনা, ঢাকা জেলার নিবন্ধিত অটোরিক্সা মহানগরে চলতে না দেয়া, মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচলের ব্যবস্থা, এ্যাপস ভিত্তিক পরিবহন সেবা রাজধানীতে বন্ধ করা, পেশাজিবী ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নকালে ব্যবহারিক পরীক্ষা বন্ধ, সড়ক পরিবহন আইনে থ্রি হুইলারকে শ্রম আইনের ন্যায় হালকা যানে অন্তর্ভূক্ত করা, ইউনিয়নের পরিচয়পত্র ছাড়া অটোরিক্সা চালানো বন্ধ করা, চুরি-ছিনতাই ও চালক হত্যা বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ খোকন বলেন, ২০০২ সালে পরিবেশ দূষণের কারণে ঢাকা মহানগর থেকে প্রায় ৩৭হাজার টু-স্ট্রোক থ্রি হুইলার অটোরিক্সা উচ্ছেদ করে প্রায় ১৩হাজার ফোর স্ট্রোক থ্রি-হুইলার অটোরিক্সা চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। যাত্রী সাধারণ ও বিপুল সংখ্যক চালকের চাহিদার তুলনায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সা সংখ্যা কম হওয়ায় সরকার দৈনিক জমা নির্ধারণ করা সত্বেও মালিকরা ইচ্ছা মাফিক জমা নিচ্ছেন। ফলে চালকরা ইচ্ছা থাকার পরও মিটারে যাতায়াত করতে পারছেন না। তাই অটোরিক্সা চালকদের বিরুদ্ধে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ অহরহ। এই অবস্থায় অটোরিক্সা খাতে শৃঙ্খলা ফিরাতে ও পরিবহনের সেবার মান বাড়তে ২০০৭ সালে রাজধানীতে থ্রি হুইলার লাইসেন্সধারীদের মধ্যে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার অটোরিক্সা বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ। সিদ্ধান্তের বিপরীতে অটোরিক্সা মালিকরা উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। চূড়ান্ত শুনানিতে সরকারের সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় পাঁচ হাজার সিএনজি অটোরিক্সা লাইসেন্সধারীদের মধ্যে বিতরণে আইনগত আর কোন বাঁধা নেই।

গত ১০ বছরে ২০০অটোরিক্সা চালককে হত্যার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, অটোরিক্সা মালিকরা গাড়ি চুরির মূল হোতা। তারা কখনই চালকের স্বার্থ দেখেন না। গাড়ি চুরির পর চালকের মুক্তির জন্য যদি মালিকের কাছে টাকা চেয়ে ফোন করা হয় তখন মুক্তিপন দেয়া হয় না। কিন্তু চালককে হত্যার পর চোরদের থেকে টাকার বিণিময়ে গাড়ি ছাড়িয়ে আনা হয়।

তাছাড়া বাড়তি জমা আদায়কারী ২০ গেরেজ মালিকের বিরুদ্ধে বিআরটিএতে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোক দেখানো কয়েকটি গেরেজে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মালিকদের বাড়তি জমা রাখার নৈরাজ্য এখনও চলমান। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি সরদার মোঃ সোবহান।