১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তারেকের ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল : নাসিমা ফেরদৌসী

তারেকের ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল : নাসিমা ফেরদৌসী

সংবাদদাতা, পাথরঘাটা, বরগুনা ॥ ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় রায়ে গ্রেনেড হামলার হুকুমদাতা তারেক রহমানের ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। যেখানে জামায়াত-বিএনপির আমলে তারেকের হুকুমে আমাদের ওপর এ হামলা হয়েছে, আর তাকেই দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড।

এমন আক্ষেপের কথাটি জানালেন ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাসিমা ফেরদৌসী। রায় ঘোষণার পরের দিন বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২ টার দিকে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

নাসিমা ফেরদৌসী তিনি বলেন,গত ১৪ বছর ২ মাস ১৯ দিন ধরে আমরা গ্রেনেড হামলায় যারা আহত হয়েছি প্রত্যেকেই, প্রতিক্ষনে যন্ত্রণায় ভুগছি। মরার মতো আমরা এখনো বেঁচে আছি। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ এ গ্রেনেড হামলা গুরুতর আহত তারেক রহমানের ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল।

অল্পের জন্য ওই হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি,ওই সময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি (প্রয়াত) জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতা-কর্মীগ্রেনড হামলার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলা করেন

নাসিমা ফেরদৌসী বলেন,এমন রায় দেখতে দীর্ঘ ১৪ বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। তারেক রহমানসহ অধিকাংশ গডফাদারদের মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে মৃত্যু দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। নিজে আহত হয়েছি।অজ্ঞান ছিলাম কয়েক ঘন্টা।মৃত ভেবে আমাকে লাশের গাড়ীতে তোলা হয়ে ছিল। কিছুক্ষন পরে যখন নড়েচড়ে উঠি কে বা কারা যেন তখন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। সাজা বাড়াতে আমরা সরকার এবং আদালতের কাছে আবেদন করবো। তিনি পাশাপাশি আরও বলেন যাদেরকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে তাদের দ্রুত তম সময়ের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করার জোর দাবি জানান ।

১৪ বছর ২ মাস ১৯ দিনের মাথায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার দায়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবার, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।একই রায়ে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ১১জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ডাদেশ দেওয়ার রায় দেন ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন।