১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুজব শনাক্তকরণ সেল

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবার গঠিত হচ্ছে ৯ সদস্যবিশিষ্ট গুজব শনাক্তকরণ সেল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ঠেকাতে এই সেল গঠন করেছে সরকার। সেলের প্রধান করা হয়েছে তথ্য অধিদফতরের উপপ্রধান তথ্য অফিসারকে। চলতি মাস থেকেই শুরু হবে এই সেলের কার্যক্রম। এই সেলের অধীনে কর্মরতরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করবে। সেলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের আরও একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে। এই সেলের অন্যতম কাজ হবে, কোনটি সত্য আর কোনটি গুজব সেটি শনাক্ত করে গণমাধ্যমকে অবহিত করা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, কোনটিকে আমরা গুজব ধরছি, সেটি শনাক্ত করা একটি চ্যালেঞ্জ। এর জন্য তিনি আপাতত একটি সংজ্ঞাও নির্ধারণ করেছেন। আর সেটি হলো, গুজব হচ্ছে এমন মিথ্যা বা অসত্য বা বানোয়াট তথ্য বা অতিরঞ্জন, যেটির কারণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণœ হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হয়, সর্বোপরি রাষ্ট্র বিব্রতকর অবস্থায় নিপতিত হয়। অথবা এর বাইরেও অন্য কিছু, যা কোন একটি আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে। এর বাইরে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুক এবং অনলাইনে কোন গুজবগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো নির্ধারণ করা। তদনুযায়ী এগুলো আসলে গুজব কিনা, তা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অকুস্থলে গিয়ে সরেজমিনে নিশ্চিত হওয়া। সে অবস্থায় গুজব প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর গুজব না হলে কিছুই করার থাকবে না সংশ্লিষ্টদের। গুজব শনাক্তকরণসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার স্বার্থে তথ্য মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা একযোগে কাজ করবে।

নিকট অতীতে গুজবের আধিক্য ও প্রাবল্য আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বিশেষ করে সড়কে নিরাপত্তা বিধানকল্পে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে গুজব ছড়িয়ে সহিংস তথা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরের ভয়াবহ অপচেষ্টা আমরা দেখেছি। বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সহায়তায় বানোয়াট ছবি ও অসত্য ভুয়া খবর ফেসবুক লাইভ ও অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সম্পূর্ণ বিপথে চালানোর হীন চেষ্টা হয়েছিল। গুজব রটনাকারীরা যে কতটা নিচে নামতে পারে, তারও আলামত মিলেছে এই সময়ে। ঝিগাতলার আওয়ামী লীগ অফিসে নারী শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও গুমসহ একাধিক শিক্ষার্থীকে হত্যার খবরও প্রচার করা হয়েছে এ সময়। যার সঙ্গে একজন খ্যাতনামা আলোকচিত্রশিল্পী এবং জনৈক অভিনেত্রীর জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অনুরূপ প্রমাণ মিলেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও। যেখানে গুজব রটনাকারীরা ছিল জামায়াত-শিবিরের সদস্য। এই কুচক্রী মহলটি এমনকি রাতের আঁধারে মুখোশ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে ভয়াবহ হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করতেও বাকি রাখেনি। এরও আগে এই কুচক্রী মহলটি যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী অপরাধে আজীবন দ-প্রাপ্ত সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে সচিত্র গুজব ছড়িয়ে বগুড়াসহ সারাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে দিয়ে বেশ কয়েকজন নিরপরাধ মানুষ হত্যার দায়েও অভিযুক্ত। বিএনপি-জামায়াত জোট গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল ও ভ-ুল করার উদ্দেশ্যে আগুনে বোমা, পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে, ট্র্রেন-বাসে অগ্নিসংযোগ করে অগণিত নিরীহ মানুষকে হত্যার দায়েও অভিযুক্ত হয়েছে সুস্পষ্টভাবে। মূলত এসব হীন অপচেষ্টার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই ছিল বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো। সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় যথাসময়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে জামায়াত-শিবির পরিচালিত এসব আন্দোলন ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াত মদদপুষ্ট ফেসবুক ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা আবারও তাদের হীনস্বার্থ উদ্ধারে লিপ্ত হবে তাতে আর বিচিত্র কি? সুতরাং সময় থাকতে সাবধান হওয়ার বিকল্প নেই। গুজব শনাক্তকরণ সেল এই লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে বলেই প্রত্যাশা। তাই বলে অযথা নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না।