১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল

বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে এলএনজির প্রথম চালান আসার পর থেকে সার্বিকভাবে স্বস্তি নেমে এসেছিল দেশের জ্বালানির বাজারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিরাজ করছে এক ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস। রাজধানী ও অন্যত্র অনেককাল যাবতই বিরাজ করছে কমবেশি গ্যাস সঙ্কট। সিলিন্ডার গ্যাসও দুর্লভ ও দুর্মূল্য। অনেক স্থানে পর্যাপ্ত সরবরাহ তো দূরের কথা, সুলভও নয়। এ অবস্থায় দেশে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ ও প্রাপ্তি সুনিশ্চিত করা সম্ভব হলে এর সামগ্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে জ্বালানি সেক্টরে। সার ও বিদ্যুত সেক্টরসহ শিল্প কলকারখানাগুলো সচল থাকবে সারা বছর। বন উজাড়সহ জ্বালানি কাঠের ওপর চাপ কমবে। তবে এর জন্য সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে নিয়মিত এলএনজির সরবরাহ। আর সে লক্ষ্যেই সরকার ভাসমান টার্মিনাল থেকে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনার দিকে অগ্রসর হয়েছে। মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং পায়রায় স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনার কাজ শীঘ্রই আরম্ভ করা হবে।

বলাবাহুল্য, আমাদের যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে তাতে বিদ্যমান গ্যাসে আমাদের প্রয়োজন মিটছে না। আমাদের আরও প্রচুর গ্যাস দরকার। প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস এক সময়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে। সেজন্য নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান জরুরী। দেশে গ্যাস অনুসন্ধান থেমে নেই, তবে তার গতি বাড়ানো প্রয়োজন। এটা ঠিক যে, অনুসন্ধান করে গ্যাস পাওয়া গেলে সেটি লাইনে নিয়ে আসতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মকা- বসে থাকতে পারে না। সেজন্য সব সময়ই বিকল্প পথ খোলা রাখতে হয়।

বর্তমানে দেশে দৈনিক ৩৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭৫ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। আর এই ঘাটতি দূর করতে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রথম দিকে এই এলএনজি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ করা হবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে, বিশেষ করে ক্যাপটিভ পাওয়ার স্টেশনগুলোতে। নিকট ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে।

গত কয়েক বছর ধরে অগভীর সমুদ্র উপকূলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও অনুসন্ধান অব্যাহত থাকলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবেলায় তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে ব্যবহৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদও খুব দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। সে অবস্থায় সরকার বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে অথবা একেবারে বন্ধ করে দিয়ে রফতানিনির্ভর পণ্য ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য গ্যাস ব্যবহারে সবিশেষ আগ্রহী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী নিঃসন্দেহে।

উল্লেখ্য, একাধিক দেশী কোম্পানিকে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার উৎপাদনের জন্য সুযোগ-সুবিধাসহ অনুমোদন দেয়া হলেও তারা এর অপব্যবহার করছে। মাঝখানে মিটার বসিয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ ও ব্যবহার সীমিত রাখার একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সেই অবস্থান থেকে সরকার সরে এসেছে। যা হোক, এলপি গ্যাস ও এলএনজি সিলিন্ডার সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী হলে গ্যাস ব্যবহারকারীদের তা মেনে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে বিদেশ থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ডিপো স্থাপন করতে হবে। এর পাশাপাশি স্থলে-জলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানও জোরদার করা চাই।