১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গল্প ॥ পুরনো উপাখ্যান

  • আশরাফ উদ্দীন আহ্মদ

বাঁশঝাড়ের ভেতর দিয়ে ভ্যানরিক্সা চলছে এখন, আকাশটা ফ্যাকাসে ভাতের মাড়ের মতো অনেকটা, হাল্কা রোদ গায়ে বেশ উষ্ণতা ছড়ায়, দূরের আকাশ যেন মেঘমালার মতো স্তূপ স্তূপ বক শাদা পালক। কার্তিক মাস গিয়ে অগ্রহায়ণে পড়েছে, শীতল আর উষ্ণতা মিলেমিশে একাকার। ধুলাবালির ওড়াউড়ি নেই তেমন, অজগরের মতো ক্লান্ত মাটি ফেলা সরু সড়ক, এঁকেবেঁকে চলে গেছে ইচ্ছামতো দূর-বহুদূর। মাটির ভেতর মায়া-মায়া একটা ভালবাসা ছড়ানো যেন, মনটা বড় বেশি ভাল হয়ে যায় এখানে।

বুলু আর হোসেন এখন নিমাইয়ের ভ্যানে, আর মাইলপাঁচেক দূরে গন্তব্য ওদের, যাচ্ছে বেশ ভাল জোরেই, পায়ে টানা ভ্যান বলেই দূরত্বটা বেশ বোঝা যাচ্ছে, যদিও অগ্রহায়ণ মাস, তার পরও বিরক্তি ছাড়ছে না, এদিকে আবার শ্যালোচালিত নছিমন বা ভটভটির তেমন যাওয়া-আসার চলন নেই। অনেক অনুনয়-বিনয় করে তবেই না নিমাইয়ের ভ্যান পাওয়া। দেশ-গ্রামের মানুষ এখন বেশ টাকাওয়ালা হয়ে গেছে, রোজগারপাতি করাটা এখন হয়ত আর তেমন কষ্টের নয়, তাই মানুষের কদর বেড়েছে, বসে থাকবে কিন্তু বেশি কষ্ট হলে যাবে না। কি চমৎকার দুনিয়ায় আমরা এসেছি বটে।

মহিষগাছির তালতলা গাঁয়ের প্রভাতি গুনিন এর সংবাদ তো সর্বপ্রথম নিমাই দেয় বুলুকে, হাতযশ বেশ আছে নাকি, দিকে-দিকে সুনাম ছড়িয়েছে... চল্লিশ/পঞ্চাশ বছর ধরে সফলতার সঙ্গে এ কাজ করছে, কেউই কখনও বিফল হয়নি, বুলু সমস্ত কিছু সবিস্তারে শুনে মনস্থির করেছে প্রভাতি গুনিনের কাছেই যাবে। হোসেনকে সঙ্গে নেয়ার বড় কারণ, সে তার বন্ধু ছাড়াও এসব লাইনে তারও কিছু নামযশ আছে, জানে কিছু অবশ্যই।

নিমাইয়ের ভ্যানে যাওয়ার সুবিধা হলো গুনিনের বাড়ি তার চেনা, নিয়মিত মানুষজনকে নিয়ে যাওয়ার কারণে গুনিনের বাড়ির পথটা ওর নখদর্পণে বলা যায়।

বুলু নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে, কিন্তু নিয়তি বলে একটা কথা আছে, নিয়তির খ-ন কেউ নাকি খ-াতে পারে না, কত ধুমধাম করে বিয়ে করল ময়নাগড়ের মল্লিকবাড়ির ছোট মেয়ে গয়নাকে, সংসার-ধর্ম ভালই চলছিল, মেঘে মেঘে বেলা যায় অবেলায়, কোলজুড়ে বাচ্চা এলো না বলেও নিন্দুকে যা বলে বলুক না কেন, বুলু তো একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি কোনদিন, বরং যে যা বলত, বুলু শুনে হেসে উড়িয়ে দিত, ওদিকে মাথা গলাতে নিষেধ করত সবসময়। এর মধ্যে হঠাৎ ভূতে ধরার রোগ জানান দিল, ভূত যেন ভূত নয়, মস্ত কাফন পরা জিনও কেউ কেউ বলে, অনেকে আবার দেখেছেও ওর ঘরে যেতে-আসতে, গয়নার অনেক চিকিৎসা করেছে হোসেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, একসময় সেও হাল ছেড়ে দেয় এবং তখনই নিমাইয়ের কাছে জানতে পারে প্রভাতি গুনিনের কথা, খবরটা প্রথমে শুনে মন সেভাবে সায় না দিলেও নিমাই বলে, একবার গেলে কি ক্ষতি, যদি কোন কূলকিনারা পাওয়া যায়, বলা তো যায় না, কার ভেতর কি আছে, মানুষই তো পারে মানুষের উপকার করতে, নাকি...

তারপর বুলু রাজি হয়, কিন্তু একটা প্রশ্ন তার মধ্যে বড় বেশি উঁকি দিচ্ছে, আসলে কি কিছু হবে, নাকি সবই মেকি।

হোসেন চালাক মানুষ, জীবনে অনেক কিছুই করেছে, সামনে থেকে অনেক বিচিত্র কিছুই দেখেছে, তাই সে অভিজ্ঞ মানুষ বটে, তার পরও সব কিছু ঠিকঠাক রেখে নিজেকে একটু তফাতে রাখতে চায়। তফাতটা সে এমনভাবে তৈরি করেছে যেন কেউ সহজে ধরতে না পারে। ভ্যান এখন চলছে খালপাড়ের পাশ দিয়ে, নিচে খাড়ি জমি, দূরে বকের সারি, পড়ন্ত বেলার সূর্য আরও যেন কমনীয়, এমন একটা মায়াবী রূপ কার না ভাল লেগে পারে, হোসেন মিয়া নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, শুধুই কি তাকিয়ে থাকা, নাকি আরও কিছু কথা গোপনে থাকে, মুখের কথা মুখেই আটকে থাকে, বড়ই হিসাবি সে, কিসের একটা ইঙ্গিত সে আঁচ করার চেষ্টা করে।

নিমাই অকস্মাৎ থামে ভাঙ্গা স্কুল ঘরটার কাছে, ওপাশে একটা চায়ের স্টল মতো, বিড়ি-সিগারেট-বিস্কুট বা নাড়ু-মোয়া-লাড্ডু আছে ভাঙ্গা বয়ামে, বুলু বলল, ভালই করেছ, একটু গলাটা ভিজিয়ে নেয়া যাক, চা-বিড়ি ছাড়া চলে কি আর!

দূরে অনেক মানুষের ভিড়, সম্ভবত হাটভাঙা মানুষ সব, কেউ-কেউ আবার মুখচেনা মনে হচ্ছে, কিছু কিছু মানুষ বড় পরিচিত ঠেকে, হয়ত এমনই হবে, অচেনা মানুষকে কখনও-সখনও বড় বেশি আপন এবং পরিচিত লাগে। হোসেন কি একটা কথা বলতে গিয়ে থেমে যায়। প্রভাতি গুনিন জাঁদরেল মানুষ বটে, গাছ-গাছালি কথা বলে ওর সঙ্গে, কেউ বা বলে ভূতে ধরার ঔষধি গাছও নাকি ওর সঙ্গে কথা বলে, অর্থাৎ গাছগাছড়া জাতীয় বস্তু যে ওর নখদর্পণে তা অনুমান করা যায় লোকের কথায়, বনবনানী কথা বলে কেউ বিশ্বাস না করলে কিভাবে বিশ্বাস করাতে হয় তা জানে গুনিন, শেকড়-বাকড়ে মানুষ নাকি আজকাল তেমন আর বিশ্বাস করে না, কিন্তু প্রভাতি গুনিন বিশ্বাস করাতে কিভাবে হয়, তাও পারে। যে যাই বলুক না কেন, হোসেন কিন্তু সবটা বিশ্বাস করে না, কারণ সেও জড়িবুটি আর তাবিজ-কবজ করতে পারে, বংশগতভাবে সে এ বিদ্যা রপ্ত করেছে, ওর বাপ কোন এক মস্ত পীরের মুরিদ ছিল একটা সময়, সেই পীর নাকি দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার সময় হোসেনের বাপকে কুদরতি শক্তি কিছু দান করে যায়, সেই কুদরতি ক্ষমতার জোর নাকি হেব্বি, বাপটা যখন চলে যায় হোসেন সেই শক্তি অর্জন করে, এমন একটা গল্প দু’চার গ্রামে বেশ ছড়িয়ে আছে অনেককাল থেকে, গল্পটা আবার পুনরায় হোসেন বয়ান করে। আর ভূতের ব্যাপার তো আসলে একটা উসিলা, এর মধ্যে অন্য কোন বিষয় আছে নিশ্চয়, এমন একটা মন্তব্য ছুড়ে দেয় শুধু, নিজেকে বাঁচানোর জন্য। বুলু কিছুই বলে না, শুধুই শুনে যায় মস্ত পীরের মুরিদের ব্যাটা যা বলছে তাই। একবার শুধু বলেছিল, তোমাকে তো দেখালাম, তুমি তো হাল ছেড়ে দিলে, এখন বলো কি করি, একটা হিল্লা না করলেই যে নয়।

একসময় প্রভাতি গুনিনের বাড়ি আসলে সবাই ভ্যান থেকে নামে, বাড়িতেই ছিল প্রভাতি, আসলেই জাঁদরেল মানুষ বটে, বিশাল একজন মানুষ, ভেতরে কতটুকু জিনিস আছে কে বা জানে, রং দেখে তো মানুষ চেনা যায় না। বুলু সবিস্তারে সব বলল একসময়, মাথা ঠা-া মানুষ, কিছু না বলে গাছ-গাছড়া শেকড়-বাকড় বার করে হামানদিস্তিতে ফেলে একমনে ছেঁতো করতে থাকল। হোসেন কোন শব্দ না করে দেখছে আসলে দৌড় কতদূর। নিমাই কিন্তু বেশ বিশ্বাসী এবং কিছুটা গর্বিত, তার দয়ায় বুলু আজ এমন একটা মানুষের সন্ধান পেয়েছে, অনেকটা সময় ধরে প্রভাতি নিজের মতো কাজ করে, তারপর সব বুঝিয়ে-সুঝিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয়। বুলু তাই নিয়ে যেন হাতে চাঁদ পাওয়ার দশা। মনে হয় যেন হোসেনকে আর তার দরকার নেই, নিশ্চয় এবার কাজ হবে, নিমাইয়ের দিকে তাকিয়ে ওর মনটা ভাল হয়ে যায় এখন। হোসেনও নাছোরবান্দা, শেষ দেখে ছাড়বে, অনেকক্ষণ কেটে যায়, একসময় প্রভাতি বলল, বাড়ি বাঁধতে হবে, দেখতে হবে বাড়িতে কোন্ ভূত এসেছে... একটু থেমে আবার জানাল, আমার আয়ত্তে পনেরো হাজারের মতো ভূত আছে, ওরা থাকলে অবশ্যই আমার এই শেকড়-বাকড়ে কাজ হবে, কিন্তু যদি না হয়, তবে বুঝতে হবে তারা আমার আয়ত্তের বাইরে, তখন অবশ্যই অন্য দাওয়াই দিতে হবে...

কবিরাজের কথা শুনে বুলু এখন অনেক আশ্বাস পেয়েছে বোঝা যাচ্ছে, ভূতের ব্যাপারটা আসলে এমনই হয়, যার তার ঘাড়ে ভর করল, ওদের আবার রুচিবোধ বেশ চাঙ্গা, দেখেশুনে তারপর ভর করে, কথা সেটা নয়, এখন তো হোসেন মিয়ার মাথায় রক্ত উঠে গেছে, সত্যসত্যিই যদি কাজ হয় তাহলে ওর তো পোয়াবারো, কিন্তু হোসেনকে মানুষ পাত্তা দেবে আর। পীরের ব্যাটা বলে কেউ আর মুছবে, তখন বলবে, ব্যর্থ তুমি হে, সব পারে বটে প্রভাতি...

তখন সে কোথায় মুখ লুকাবে, বাপ-দাদার এতকালের পীরগিরির বদনাম সে কিভাবে মেনে নেবে। জিন-ভূতের কারবার তার অনেকদিনের, নিজের বউ আলেয়াকে একবার দক্ষিণমুখো জিনটা ধরেছিল, কিন্তু বেশি দিন আছর করতে পারেনি, কারণ হোসেন মিয়া ধরে ফেলে বলেছিল, এমন শিক্ষা দেব যে পৃথিবী দেখতে আর পাবি না... ভয়ে ভয়ে জিন পালাতে দিশা খুঁজে পায়নি। সেটা অনেকদিন আগের কথা, পানির দেশে বিল-হাওড়ে নতুন পানির সঙ্গে অনেক কিছুই আসে, নোয়াবালীর বিধবা বউ নছিমনকে ধরেছিল সাগরপাড়ের জিন, দীর্ঘ পনেরো দিন ধরে ধান মাড়াইয়ের মতো ঝাঁড়িয়ে তবেই না সেই জিনকে বোতলে বন্দি করে, তারপর মাঝসাগরের গভীর পানিতে চিরকালের মতো রেখে আসে, সেই সংবাদ যত মানুষজন শুনেছে, ততই হোসেন মিয়ার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে, দু’-চার’ দশ গ্রাম নয়, বলা চলে দু’-চার শত গ্রামের মানুষ তাকে তখনই চিনেছে এক নামে, পীর বটে হোসেন মিয়া। অথচ আজ একজন প্রভাতির কাছে হেরে বসে থাকছে সে। এখন দেখতে চায় কবিরাজের দাওয়ায় বুলু কিভাবে কাজে লাগায়।

প্রভাতির গুনিনের কাজ শেষ হলে, সেই মহোঔষধি নিয়ে আবার তারা নিমায়ের ভ্যানে চড়েই বাড়ি ফিরে আসল। বুলু অর নিমাই বেশ রসিয়ে রসিয়ে অনেক গালগল্প করে মাতিয়ে তোলে পরিবেশ, ওদের মধ্যে একটা আস্থা ফিরে এসেছে মনে হচ্ছে, হোসেনের কাছে ব্যাপারটা মোটেই সম্মানের ঠেকছে না। কিছু একটা করতে হবে তাকে, ভ্যান চলছে নিমাইয়ের। একসময় নির্দিষ্ট গন্তব্যে এসে ঠেকে তাদের ভ্যান।

কয়েক দিন পরের ঘটনা, বুলুর বউয়ের ঘাড়ে যে জিন নাকি ভূতে ভর করেছিল, তা স্বচক্ষে মানুষজন দেখে, সে ভূত একরাত্রে ধরা দেয় বাড়ির পেছনের নয়ানজুলির পাশে, হাতেনাতে ধরা পড়ে ভূত যায় কোথায়! বড় ছালা দিয়ে মাথায় চেপে তাকে আনা হয় ইউনিয়ন পরিষদের দোচালা কুঁড়ের দাওয়ায়, সাত অঞ্চলের লোকে বিস্ময়ে হতবাক, কারও মুখে কোন কথা নেই, বুলু মাথা নিচু করে বসে আছে, ছালা খুলে দিলে দেখা গেল কানাই মুহুরীর ছোট ছেলে বলাই। অনেক প্রশ্নের বাণে সে আসল কথা বলতে বাধ্য হলো, যে সে বুলুর বউকে ভালবাসে এবং এ জন্যই সে জিনের ভান করে কাছে-পিঠে আসত, ঘটনা আর ধামাচাপা থাকল না বাতাসে বাতাসে ছড়িয়ে গেল দিগি¦দিক, ভূতের মায়ের সাতকলা দেখতে মানুষজনের আর কমতি নেই। জিন বা ভূত তখন আর কোথায় যাবে, ঠিক ওদের আদ্দিকালের তেঁতুলগাছটার ওপর পা ঝুলিয়ে বসে ঠিকঠিক নিচের কা-কারখানা দেখতে লাগল, প্রভাতি গুনিন খবর শুনে ছুটে এলো ঠিকই এবং গর্জন করে জানাল, জিন বা ভূতের প্রতি বিশ্বাস নেই বলে তোমরা যে ব্যঙ্গ করছ, সেটা উচিত নয় মনে রাখবে...

কথা শুনে সবাই সত্যসত্যিই থেমে গেল, সত্যিই তো এরপর কি হতে যাচ্ছে সেটা তো দেখা দরকার। সবাই ভূতের মতো থেমে যায়, এরপর আর কোন কাজ নেই যেন কারও। সত্যিই কি হতে যাচ্ছে কেউই বুঝে উঠতে পারছে না।

হোসেন মিয়া নিজেও দেখছে ব্যাপারটা কোন্ দিকে মোড় নেয়, কিন্তু মুখে কিছু আর বলছে না, বুলু হতভম্ব, সে হয়ত যা বোঝার সবই বুঝে গেছে, তাই নিস্তব্ধ, ওদিকে নিমাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে, কি যে হচ্ছে সেও জানতে চায়, এভাবে অনেকটা সময় কেটে যায়, সবার ওই একটা প্রশ্ন কি হতে যাচ্ছে এরপর, কিছু যে একটা হতে যাচ্ছে সবাই বুঝতে পারে, অথচ সময় বলে একটা ব্যবধান দাঁড়িয়ে আছে।

হোসেন মিয়ার মনে বেশ আনন্দ, এই কয়েকদিন তার চোখে ঘুম নামের জিনিসটা হারিয়ে গিয়েছিল, এখন বিষয়টা খোলসা হলো দেখে শক্তি যেন ফিরে পেয়েছে। তবে সে কিছুই বলবে না কাউকে, কথা না বলে শুধুই দেখবে, বুলুর মনটা ভারি খারাপ মনে হচ্ছে, গয়নার জন্য যে মানুষ জীবন দিতে পারে, তার চরিত্র এমন সে বা কি করে মেনে নিতে পারে। মানুষ এতটাই নিচে নামতে পারে সে ভাবনায় বুলুকে পাগল করে তুলছে। আদ্দিকালের তেঁতুলগাছটা সেই আগের মতো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ভূতটা এখন কোথায় কেউই তা খুঁজে পাচ্ছে না। প্রভাতি গুনিন সেই পূর্বের মতোই তড় পাচ্ছে, যেন সে সত্যিই এবার ভূতটাকে দিয়ে মানুষকে প্রমাণ করাবে সে কতো বড় ভূত ছাড়ানো কবিরাজ। গয়না মুখে কাপড় চাপা দিয়ে বসে আছে, তার কি কিছু বলার আছে, সে প্রশ্ন কেউই করছে না, কিন্তু একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে সবার মনে আসছে বুলু কি এখন গয়নাকে ঘরে তুলে নেবে। তেঁতুলগাছটা নিষ্পলক তাকিয়ে দেখছে তারপর কি হতে যাচ্ছে। বলাইকে ভূতের মতো না দেখালেও রাজপুত্রও কেউ বলবে না। ভূতের চেহারা কি ওর চেয়ে আরও বিভর্ষ, সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ, মাথার ওপর ওমন দশাসই চাঁদটাকে দেখে বলায়ের কথা ভুলে গয়নাকে লোকজন ভাল করে দেখে, এ দেখার যেন আর শেষ নেই।