১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নান্দাইলে ভাঙনের মুখে বিদ্যালয় ভবন

নান্দাইলে ভাঙনের মুখে বিদ্যালয় ভবন

সংবাদদাতা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ ॥ উপজেলায় রাজগাতী ইউনিয়নে অবস্থিত দক্ষিণ কয়রাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে পুকুরের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একনই ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ না নিলে বিদ্যালয়টির দুটি ভবন যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম।

সরেজমিনে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় কয়রাটি গ্রামের আব্দুর রহমান মুন্সি পাঁচ কাঠা জমি দান করেন। তার জমিতেই নির্মিত হয় কয়রাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। দীর্ঘ দিন পুকুরের পাড় সংস্কার না করায় ঢেউয়ের কারণে ভবনের চারপাশের মাটি সরে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টির ৫০শতক জমির মধ্যে প্রায় ২২শতক গ্রাস করেছে ওই পুকুর। এতে দুটি ভবনের নিচের অংশে মাটি সরে গেছে। দেবে গেছে ভবনের মেঝেও। বিদ্যালয়টির এক-তৃতীয়াংশ পানির উপর রয়েছে। ফলে যে কোন সময় ভবন ধসের ঘটনার আশঙ্কা করছে শিক্ষকরা।

কয়রাটি গ্রামের আট-দশজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকির মধ্যে থাকায় তাদের সন্তানরা স্কুলে আসাতে ভয় পায়। শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকবার এই পুকুরে পড়ার ঘটনা সবার জানা। এছাড়াও বিদ্যালয়টির আরো কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। বিদ্যালয়ের সামনে দিয়েমুশুলী-তাড়াইল সড়কে প্রতিদিন শত-শত যানবাহন চলাচল করে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টির একমাত্র শৌচাগারটির বেহাল অবস্থায় থাকায় ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। নেই কোন বিদ্যুত ব্যবস্থা। একমাত্র টিউবওয়েলটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। তাই বিশুদ্ধ পানির জন্য পাশের বাড়ি ঘরে যেতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের জমিদাতার নাতি মো. গাফফার বলেন, স্কুলটি রক্ষার জন্য পুকুরে মাটি ভরাট করা প্রয়োজন। এতে তার এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের কোন আপত্তি নেই। বরং অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকলে পুকুরটি ভরাট করে দিতেন বলে জানান এই জমিদাতার নাতি। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এবিএম আনোয়ারুল হক বলেন, ১৯৭৭ সালে ৫০শতক জমির ওপর ওই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির দুরাবস্থা ও ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় তারা সর্বদা শঙ্কায় রয়েছেন। যে কোন সময় পুকুরের পানিতে পড়ে কোমলমতি শিশুদের প্রাণহানি ঘটতে পারে। আর তার সাথে ভবন ধসের ঘটনাও ঘটতে পারে। নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যার কথা জানা ছিলনা। দ্রুত এই বিদ্যালয়ের ভবন রক্ষা সহ সকল সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।