১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারি নিয়োগে আদিবাসীদের পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল রাখার দাবি

সরকারি নিয়োগে আদিবাসীদের পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল রাখার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিসহ সরকারি সকল নিয়োগে আদিবাসীদের পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন আদিবাসী ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশে ৪৫টি ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার প্রায় ৩০ লাখ আদিবাসী বাস করে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মজীবি আদিবাসীর সংখ্যা খুব নগন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ই আদিবাসীদের প্রতি আন্তরিক ও যত্নশীল। তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব ও নজরদারীর কারণে চাকুরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা পেয়ে আসছে আদিবাসীরা। কিন্তু সম্প্রতি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে আদিবাসী কোটা বাতিল অনগ্রসর আদিবাসীরা হতবাক হয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে পিছিয়েপড়া আদিবাসীরা আবার উন্নয়নের ¯্রােতের বাইরে ছিটকে পড়বে।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে আদিবাসী কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আয়োজিত আদিবাসী গণ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে আদিবাসী ছাত্র নেতারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন(বাগাছাস), কেন্দ্রীয় সংসদ এই কর্মসূচীর আযোজন করে। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি লিংকন দিব্রা এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনুপ হাদিমা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানাগর শাখার সভাপতি নিপুন ত্রিপুরা , ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অসীম ত্রিপুরা , আদিবাসী যুব পরিষদের সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং ,হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের সভাপতি সতীর্থ চিরান, আদিবাসী কোটা সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উন্নয়ন দালবৎ , বাগাছাস,ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি প্যাট্রিক চিসিম ও সাধারণ সম্পাদক জেউন্স রিচার্স ঘাগ্রা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা আদিবাসীদের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারি সকল চাকরিতে আদিবাসীদের ৫% কোটা পুনর্বহালের জোর দাবি করেন। তাঁরা বলেন, কোন তথ্য বা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদিবাসীরা এগিয়ে গেছে বলে কোটা বাতিলের বক্তব্য দিলেন তার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, কানাডা, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পিছিয়ে পড়া ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আন্তরিক হস্তক্ষেপে এতোদিন শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে কোটা সুবিধার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের কারণে অনগ্ররসতার অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিল আদিবাসীরা। কিন্তু আদিবাসী কোটা বাতিল হওয়ায় তাদের মধ্যে আবার হতাশা দেখা দিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আদিবাসীরা।