২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুক্রবার বৈরি আবহাওয়াও মাওয়ায় উঠছে পদ্মা সেতুর নতুন স্প্যান

শুক্রবার বৈরি আবহাওয়াও মাওয়ায় উঠছে পদ্মা সেতুর নতুন স্প্যান

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মাওয়া থেকে ফিরে ॥ শুক্রবার বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে মাওয়ায় উঠছে পদ্মা সেতুর নতুন স্প্যান। এই স্প্যানটি ওঠার মধ্য দিয়ে এই প্রথম মাওয়া প্রান্তে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতু। মাওয়া প্রান্তে এই প্রথম সেতুর ১৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। শুক্রবার সকালে মাওয়ার ৪ ও ৫ নম্বর খুঁটির ওপর পদ্মা সেতুর ধূসর রংয়ের ৬ষ্ঠ স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকাল ১০টার দিকে স্প্যানটি খুঁটির কাছে এসে পৌঁছায়। কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ থেকে ‘১এফ’ নাম্বার স্প্যানটি ৩৬শ’ টন ক্ষমতার ভাসমান ক্রেনের সাথে সেট করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় স্প্যান নিয়ে জাহাজটি রওনা হয়। পরে খুঁটির সামনে এসে জাহাজটি নোঙ্গর করে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে স্প্যানটি সেদিন খুঁটির ওপরে ওঠানো হয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবারও স্প্যানটি খুঁিটর উপর বসানো যায়নি। এই স্প্যানটি মাওয়া প্রান্তের ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির উপর বসানোর কথা ছিল। কিন্তু খুঁটি দু’টো প্রস্তুত না হওয়ায় এবং কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপে জায়গা না থাকার কারণে এই স্প্যানটি অস্থায়ীভাবে ৪ ও ৫ নং খুটির ওপর বসানো হচ্ছে।

কারণ ১নং মডিউলের এই খুঁটি দু’টি এখনও সম্পন্ন হয়নি। অথচ সর্বপ্রথম এই খুঁটির দু’টিরই কাজ শুরু হয়েছিল। সেই অনুযায়ী চীন থেকে সর্বপ্রথম ‘১এফ’ স্প্যানটি বাংলাদেশে এসেছিল। নদীর তলদেশে মাটি নরম থাকার কারণে এই খুঁটির নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী অন্য ৭টি খুঁটির মত এই দু’টি খুঁটিতেও খাঁজকাটা (ট্যাম) পাইল বসবে। আর ২২ খুঁটির মত এই খুঁটিতেও ৭টি পাইল বসবে। তাই এখনও খুঁটি দুটো সম্পন্ন হয়নি।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৭ নম্বর খুঁটিতেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে মূল সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছিলেন।

পরবর্তীতে ৬ নং খুঁটিতেও পাইল স্থাপন শুরু হয়। পরে ৬ ও ৭ নং খুঁটিতে ৩টি করে পাইল স্থাপনের পর পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করতে গিয়ে মাটির তলদেশে নরম মাটি ধরা পড়ে। পরবতীতে দীর্ঘ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়।

প্রথম স্প্যানটি দীর্ঘদিন ধরে কুমারভোগের ওয়ার্কশপে রং করাসহ একেবারে প্রস্তুত অবস্থায় রাখা ছিল। এতে নতুন করে আসা স্প্যানের জায়গা সঙ্কুলান হচ্ছিল না। আর তাই জায়গা সঙ্কুলানের জন্য সম্পূর্ণ হওয়া পাশের এই খুঁটি দু’টিতে অস্থায়ীভাবে এই স্প্যান বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ৬ ও ৭ নং খুঁটি সম্পন্ন হবার পর এটি সরিয়ে নেওয়া হবে।

এ পর্যন্ত জাজিরা প্রান্তে ৫টি স্প্যান উঠেছে। ৩৭ থেকে ৪২ পর্যন্ত ৬টি খুঁটিতে ৫টি স্প্যান বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের স্প্যানটি নিয়ে এর সংখ্যা হলো ৬। ইতোমধ্যে জাজিরায় প্রান্তে পৌনে এক কিলোমিটার সেতু দৃশ্যমান হয়েছে। আর মাওয়া প্রান্তে দৃশ্যমান হলো ১৫০ মিটার। দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ীভাবে স্প্যানটি বসানো হলেও এর প্রক্রিয়া অনেকটা স্থায়ী স্প্যান বসানোর মতোই। কারণ এই অস্থায়ী স্প্যানটি অনেকদিন ধরে এই খুঁটির উপর রাখতে হবে। ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটি সম্পূর্ণ প্রস্তত হবার পর এই স্প্যানটি সরিয়ে নেওয়া হবে। তাই শক্ত করেই বসানো হচ্ছে স্প্যানটি। পদ্মা সেতুর ৪২টি খুঁটিতে ৪১ স্প্যান বসবে। এর মধ্যে ১৪ খুঁটি সম্পন্ন করা হয়েছে। আর নদীতে ১৮০টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে।