১২ অক্টোবর ২০১৮

নীলফামারী-১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন চান এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডোমার এবং ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন। অভিযোগ উঠেছে ভাই ভাতিজা ও জামাতার কর্মফলের কারণে এলাকার সাধারণ ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা বললেন, ওই ভাই ভাতিজাদের আমলনামা মোটেই ভাল নয়। তাদের রয়েছে আগুন খাওয়া বাহিনী। এ কারণেই এলাকার আওয়ামী লীগের ৯০ শতাংশ নেতা-কর্মী এমপির বিপক্ষে চলে গেছে। আগামী নির্বাচনে শুধু প্রতীক হলে চলবে না। প্রতীকের সঙ্গে আসনটি ধরে রাখতে এবার দলের পক্ষে একজন জনপ্রিয় প্রার্থী দিতে হবে। এই দাবি এলাকার সাধারণ ভোটারদেরও ।

ডোমার উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমার কাছে মনে হয় তিনি সুবিধার রাজনীতি করেন। এক সময় জাতীয় পার্টি করতেন। ওইদল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমপি হয়ে ভাই ভাতিজা, জামাতা নিয়ে আগুন খাওয়া টিম বানিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে চলছেন। ডোমার-ডিমলার উন্নয়নে তার কোন অবদান নেই। কারণ রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, কাজের বিনিময়ে টাকা, ভিজিডি, ভিজিএফ এগুলো যেই এমপি হোক এমনিতেই আসে। সরকারের নিয়মিত উন্নয়নের অংশ হিসেবে এসব বরাদ্দ দেয়া হয়। তিনি বলেন এলাকায় বহু শিক্ষিত বেকার আছে। এমপি সাহেব নিজের টাকায় করতে না চাইলে সরকারী টাকায় একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কলকারখানা করে এদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং জামায়াত শিবির পরিবারের লোকজনকে সরকারী চাকরি দিয়েছেন। এ কারণে আফতাব উদ্দিন সরকারের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না এলাকাবাসী। ডিমলা উপজেলার হাফিজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি হয়েছেন মানে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় গুপ্তধন পাওয়ার মতো কাহিনী। নির্বাচনী এলাকা প্রায় সবকটি সড়কের অবস্থা করুণ। সড়কসমূহের অবস্থা দেখলেই পুরো নির্বাচনী এলাকার সড়কগুলো স¤পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। দলের কোন নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। এক ভাই আবুল কাশেমকে ডিমলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। আরেক ভাই ইব্রাহিম কামাল ডিমলা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ভাতিজা আবু সায়েম সরকার ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে বর্তমানে আহ্বায়ক হয়ে এক নায়কতন্ত্র কায়েম করছে। আবার উপজেলা জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আপন ভাতিজা ফেরদৌস পারভেজকে পদায়ন করা হয়েছে। ভাতিজা এইচ এম ফিরোজ ডিমলা উপজেলার হাটবাজার ইজারা ও হাসপাতালের পথ্য সরবরাহ ঠিকাদারী হাতিয়ে নিয়েছে। হাটবাজারে তাদের ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। হাসপাতালে রোগীদের বয়লার মুরগি খেতে দিচ্ছে। বড় মেয়ে জামাই কামরুল ইসলামকে বানিয়েছেন দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি। এলাকাবাসীর অভিযোগ এই জামাতা ছিলেন বিএনপি নেতা। তাকে আওয়ামী লীগে যোগদান করান এমপি শ্বশুর। বিভিন্ন স্কুল কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ডিমলায় ১৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কে আসামি হবেন, কে হবেন না, সেটা ঠিক করেছেন কামরুলই। এতে অনেক প্রকৃত অপরাধী টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আবার টাকা না দেয়ার কারণে অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি আসামি হয়েছেন। এলাকার রমিজ উদ্দিন বললেন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান রয়েছে। এমপি হবার পর তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই কিছুই করতে পারেননি। যা করছে সব প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতেই করছেন। এমপির কারণে আজ ডিমলা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের কমপ্লেক্স ভবন হচ্ছে না। অথচ তিনি আওয়ামী লীগের এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে দুই উপজেলার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেন। কিন্তু আফতাব উদ্দিন সরকার এমপি হয়ে এলাকার উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ডোমার শহরে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি ১০ শয্যা হাসপাতাল। এখানে যে হাসপাতালটি আছে, সেটি উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার দূরে। রোগীদের শহর থেকে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল চায় সাধারণ মানুষ। তারা মনে করেন, এই আসনে ভাল প্রার্থী না দিলে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারবে না। তবে আফতাব উদ্দিন সরকার তার ও তার পরিবারের ভাই ভাতিজা ও জামাই এর বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন এসব ভিত্তিহীন। এ গুলো বানানো কথা। এদিকে নীলফামারী-১ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় রয়েছে এই এলাকার মেয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক স¤পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. হামিদা বানু শোভা, ডোমারের ছেলে সুপ্রীমকোর্টের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল, ডিমলার ছেলে ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি। এ ছাড়া বর্তমান এমপি আফতাব উদ্দিন সরকারও পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। ডোমার-ডিমলা ঘুরে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক শক্তিশালী। সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক ভাল।