১৫ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ

জনগণের কল্যাণ ও গণতান্ত্রিক চিন্তা বিকাশের বড় অস্ত্র হচ্ছে স্বাধীন মিডিয়া তথা সম্প্রচার মাধ্যম। মানুষকে রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রভাবিত করতে সম্প্রচার মাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তাই সমাজের প্রতি মিডিয়া কর্মীদের দায়বদ্ধতা অনেক। বিশেষ করে সাংবাদিকদের। সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। তাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের হতে হবে দায়িত্ব সচেতন। মিডিয়া কর্মীদের হতে হবে আপন দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সজাগ। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতি মুনাফার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে জনকল্যাণ ও জনশিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (এটিসিও) এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এই আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণ মনোরঞ্জনের জন্য যে টেলিভিশন দেখে সেটিকে শিক্ষার একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তার নিজের উন্নয়ন এবং সমাজ বিনির্মাণেও ব্যবহার করা যায়। সবাই সবার লাভের বিষয়টা দেখবে, কিন্তু সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধটাও গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই বেশি বেশি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচারে যাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট-২০১৮’ সম্পর্কে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এটি কোন বাধার সৃষ্টি করবে না। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আইনটির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এটিসিও নেতৃবৃন্দ এ সময় অনলাইন মিডিয়াগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি আমরা দেশকে যে কোন অপশক্তির কবল থেকে দূরে রাখতে চাই। গণমাধ্যম বিশেষ করে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার বিকাশে ভূমিকা রেখে এক্ষেত্রে কার্যকরী অবদান রাখতে পারে। যখন ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট-২০১৮’ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা হচ্ছিল সেই মুহূর্তে এই ধরনের বৈঠক অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এই আইনটি নিয়ে স্বচ্ছতা ও নির্ভরতার একটা দুয়ার উন্মুক্ত হলো বলে আমরা মনে করি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ ৫টি ধারা বিলুপ্ত করা হলেও এ ধারার অনুরূপ বেশকিছু বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বিষয়টি উদ্বেগের। কারণ এ বিধানগুলোর অপপ্রয়োগের আশঙ্কা প্রবল।

বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এদেশে মিডিয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। জনগোষ্ঠীর বিরাট অংশ তথ্য শিক্ষা ও বিনোদনের জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর উপর নির্ভরশীল। এটি তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, যারা মানুষের সুখ-দুঃখের কথা তুলে ধরেন মিডিয়ার মাধ্যমে এবং সুদূর পল্লীর খবর প্রচার বা সম্প্রচার করেন তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেন। অপ্রিয় হলেও সত্য, দেশে এমন অনেক মিডিয়া আছে যারা যথাযথভাবে এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। কোন কোন মিডিয়ায় দেখা যায়, ঘটনার গভীরে না পৌঁছে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। কিছু মিডিয়া অনুমাননির্ভর তথ্য, অসত্য বা অর্ধসত্য ঘটনা প্রকাশেও আগ্রহী। অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা কারও পক্ষে হয়ে কিংবা কারও দ্বারা প্ররোচিত হয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। অনেকে হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাসের আশ্রয় নেন। আমরা মনে করি পত্রিকায় যাচ্ছেতাই লেখা যাবে না। টেলিভিশনে যাচ্ছেতাই সম্প্রচার করা যাবে না। মিডিয়ার কাছে এমন কিছু প্রচার কাম্য নয়, যাতে মন্দ ছাড়া ভাল কিছু নেই। মিডিয়া অনেক ক্ষমতাধর। শক্তিমানরাও ভয় পায় এই ক্ষমতাকে। তাই বলে মিডিয়ার শক্তির অপপ্রয়োগ কাম্য নয়।