১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহী নগরে বাদশার বিলবোর্ড উন্নয়নের বার্তা

রাজশাহী নগরে বাদশার বিলবোর্ড উন্নয়নের বার্তা

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগর নিয়ে গঠিত গুরুত্বপূর্ণ রাজশাহী-২ (সদর) আসন। এ আসনে পরপর দুবার আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এবার এ আসনে ১৪ দলের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। তাই উন্নয়নের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। হঠাৎ করেই রাজশাহী নগরীর মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড ঝুলিয়ে রাজশাহীসহ দেশের উন্নয়ন বার্তার প্রচার শুরু করেছেন তিনি।

‘উন্নয়নের গতিশীলতায় গড়ে তুলি আমাদের রাজশাহী’ স্লোগানে ছবি সংবলিত বিলবোর্ড এখন শোভা পাচ্ছে রাজশাহী নগরীতে। এসব বিলবোর্ডে গত দুই টার্মে তিনি কি কি উন্নয়ন করেছেন তার বার্তাও দেয়া হচ্ছে নগরবাসীকে। মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত জেনেই ভোটের মাঠে আগাম বার্তা দিয়েছেন বার্তাবলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক হিসেবে দলে বেশ প্রভাব বিস্তার করে আছেন বাদশা। তাই জোটগত নির্বাচন হলে মনোনয়ন দৌড়ে তাকেই এগিয়ে রাখছেন সবাই। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়েও আছেন প্রভাবশালী মিজানুর রহমান মিনু। তবে নগরীতে এখনও সেভাবে প্রচারে নেই মিনু কিংবা তার সমর্থকরা।

এ আসনে প্রথম নৌকার জয় হয় ২০০৮ সালে। সেবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা বাদশা। টানা দুই মেয়াদে জোটের এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডে বেশ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন তিনি।

এদিকে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জোটের নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এগিয়ে থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে এবার মহানগর আওয়ামী লীগের একটি অংশ চাইছেন দলীয় প্রার্থী। তাদের এ দাবি ইতোমধ্যে দলের হাইকমান্ডেও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখানে বাদশার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। কেন্দ্রীয় মহাজোটে বাদশার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ অঞ্চলের মানুষকে উজ্জীবিত করতে বাদশার অবদান অসামান্য। এ ছাড়া দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আর সংগ্রামের অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ বাদশার প্রতি রয়েছে মানুষের ভালবাসা। এ আসনের ভোটাররা তাকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই জানেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার রাজশাহী বিমানবন্দর এবং রেশম কারখানা বন্ধ করে দেয়। ফজলে হোসেন বাদশা তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে এ দুটি প্রতিষ্ঠান চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিমানবন্দর চালু করেন বাদশা। রেশম কারাখানাও প্রাথমিকভাবে চালু করেছেন তিনি। তাই রাজশাহীর জনমত বাদশার পক্ষে রয়েছে বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা। রাজশাহীর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আগামী নির্বাচন সম্পর্কে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে রাজশাহীর উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। রাজশাহীর বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের দরকার। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য রাজশাহীতে পোশাক কারখানাসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বিষয়গুলো রাজশাহীবাসীর কাছে উত্থাপন করেছি। তারা আমার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাধারণ ভোটাররা তাকে নির্বাচিত করবেন বলে আশা করেন তিনি।

রাজশাহী-২ আসনের সঙ্গে আগে পবা উপজেলা যুক্ত ছিল। ২০০৮ সালে সীমানা পুনঃর্নির্ধারণ করা হয়। এ সময় শুধু সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড নিয়ে এ আসন গঠিত হয়। এ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু। এ ছাড়া তিনি একটানা ১৭ বছর ছিলেন রাজশাহীর মেয়র। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মিনু এখন দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা। রাজশাহী অঞ্চলে বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিনু। কিন্তু দলীয় কোন্দলের কারণে মিনুর সেই ফর্ম এখন তেমন নেই। আপাতত মাঠেও নেই তিনি।

তবে মিনুর সমর্থকরা বলছেন, মিনুই পুরো উত্তরাঞ্চলে বিএনপির ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা। সংগঠনের প্রতি মিনুর আন্তরিকতা, ত্যাগ ও দায়বদ্ধতার কারণে বিএনপির হাইকমান্ড তাকে রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন দেবে বলে তাদের দাবি।