২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইশতেহার তৈরিতে হাত দিয়েছে আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জোর নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করতে এবারও চমকের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। এবারের দলের নির্বাচনী ইশতেহারের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে- ‘সমৃদ্ধির বাংলাদেশ ঃ দিন বদল শুরু করেছি, দিন বদল এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে’। তবে নামটি এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে বিগত দুই নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনের ইশতেহারেও অনেক কিছুই চমক থাকছে। ‘আগামী একশ’ বছরে কেমন দেখতে চাই বাংলাদেশকে’ শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডেল্টা প্লান-২১০০ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে।

দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইশতেহার প্রণয়ণে বিভিন্ন সেক্টরের কোন কোন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে, ইশতেহারে কী কী থাকবে- তার একটি গাইড লাইনও তাঁকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, ড. আবদুর রাজ্জাককে আহ্বায়ক করে প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ১২ সদস্যের ‘ইশতেহার প্রণয়ন উপ-কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। পরে এ কমিটির পরিধি আরও বাড়তে পারে।

দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইতোমধ্যে দলের ইশতেহার প্রণয়নের জন্য উপ-কমিটিকে গ্রিনসিগন্যাল দিয়েছেন বলেও দলটির একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। সিগন্যাল পেয়ে ইতোমধ্যে গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশে নতুন নির্বাচনী কার্যালয়ে ইশতেহার উপ-কমিটির সদস্যরা একটি বৈঠকও করেছেন। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে ইশতেহারটি তৈরি করা হবে।

দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দলের ইশতেহার প্রণয়ন উপ-কমিটিতে আরও রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ কৃষি বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাত্তার ম-ল, আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার বজলুল হক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও ব্যারিস্টার ফরহাদ হোসেন। বাকি সদস্যদের নাম শীঘ্রই অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইশতেহার প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক জনকণ্ঠকে ইশতেহার প্রণয়নে প্রাথমিকভাবে একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে তিনি জনকণ্ঠকে জানান, উপ-কমিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে বেশ কয়েকজন মিলে আমরা কাজ করছি। আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে দলের ইশতেহারে অনেক কিছুই থাকবে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ইশতেহারের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘দিন বদলের সনদ’ স্লোগান সংবলিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা ইশতেহারটি জাতির মন জয় করে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ‘দিন বদলের সনদ’ এর আদলে তরুণদের মন জয় এবং নতুন প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে এবারও একটি আকর্ষণীয় স্লোগান অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিল ক্ষমতাসীন দলটি। ওই নির্বাচনে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ ঘোষণা দেয় ‘দিন বদলের বাংলাদেশ’।

টানা প্রায় পৌনে ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার সারাদেশে তাক লাগানো উন্নয়নের মাধ্যমে সত্যিই দেশকে বদলে দিয়েছেন। সারাবিশ্বই এখন একবাক্য স্বীকার করছেন- ‘বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হচ্ছে বাংলাদেশ।’ এ বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের নতুন প্রজন্ম এবং নারী ভোটারদের বিষয়টি মাথায় রেখে আরেকটি চমকের ইশতেহার প্রণয়নের কাজে হাত দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

এবারের ইশতেহারে ব্লু-ইকোনমি এবং নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পাশাপাশি সন্ত্রাস-দুর্নীতি-জঙ্গীবাদ-মাদকমুক্ত দেশ গড়া এবং উন্নয়ন-গণতন্ত্র-সুশাসনের ওপর আলোকপাত করা হবে। ফলে বরাবরের মতো এবারও বেশকিছু চমক থাকবে ইশতেহারে। গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ইশতেহারের অসমাপ্ত লক্ষ্যমাত্রাগুলোও এবারের ইশতেহারে সংযুক্ত থাকবে। এসব লক্ষ্যকে প্রাধান্য দিয়েই হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে চমকপ্রদ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনী ইশতেহার উপহার দিতে কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে ভিশন-২০৪১ কে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। এবারে একটি নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে ইশতেহারে। বিভিন্ন মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ, নিম্নবিত্ত-উচ্চবিত্তসহ সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টিও উল্লেখ থাকবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। উন্নয়ন ও সুশাসনের ওপর অগ্রাধিকার দিয়ে আর্থ-সামাজিক চলমান অগ্রযাত্রার রোডম্যাপ তুলে ধরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যত করণীয়গুলোও এবারের ইশতেহারে স্পষ্ট করা হবে।

ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির একাধিক সদস্য’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচার এবং বিভিন্ন সমাবেশ ও জনসভাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে যেসব প্রতিশ্রুতি, সম্ভাবনা ও অঙ্গীকার করেছেন, সেগুলোও দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশেষ করে সম্প্রতি একনেকে পাস হওয়া আগামী একশ’ বছরের ডেল্টা প্লানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি গ্রামকে নগর উন্নয়নের ধারায় উন্নীত করতে এবং তৃণমূলে নাগরিক সেবা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে গৃহীত পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নীত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণে ইশতেহারে রোডম্যাপ তুলে ধরা হবে।