১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তাজিকিস্তানকে হারিয়ে নতুন চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিন

জাহিদুল আলম জয় ॥ ম্যাচের পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা, নাটকীয়তা। কি হয়, কি হয়। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শূটআউটে তাজিকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে পঞ্চম বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের শিরোপা জিতে নিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন।

শুক্রবার রাতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটসহ মোট ১২০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য অমীমাংসিত থাকে। এরপর টাইব্রেকারে জিতে উল্লাসে মাতোয়ারা হয় ফিলিস্তিন। দলটির গোলরক্ষক রামি হামাদা তাজিকিস্তানের চতুর্থ ও পঞ্চম পেনাল্টি শট আটকে দিয়ে হিরো বনে যান। পেনাল্টি শূটআউটে ফিলিস্তিনের হয়ে প্রথম চার শটেই গোল করেন বদলি জোনাথন, মাহমুদ, মুসাব বাট ও অধিনায়ক আব্দাল্লাহ লতিফ। তাজিকরা দু’টি শট মিস করায় ফিলিস্তিনের পঞ্চম শট নেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তাজিকদের হয়ে তিন গোল করেন আব্দু গাফারোভ, নাজারোভ ও আসরোরভ। দলটির হয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন কমরন ও তাবারজি ডাভলাটমির। গ্রুপপর্বেও তাজিকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ফিলিস্তিন। স্বপ্নের ফাইনালে বাংলাদেশ না থাকলেও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে উল্লেখযোগ্য দর্শক সমাগম হয়। প্রায় ১০/১২ হাজার দর্শক গ্যালারিকে মাতিয়ে রাখেন। ম্যাচ উপভোগ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খেলা শেষে তিনি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এছাড়া ফাইনাল ম্যাচে মাঠে ছিলেন বিনোদন জগতের তারকারাও। এর মধ্যে অন্যতম অভিনেত্রী জয়া আহসান, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

গ্রুপপর্বে হারের প্রতিশোধ নিতে ম্যাচের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে তাজিকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তম মিনিটে ভাল সুযোগ আসে দলটির। এ সময় ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে তাজিক স্ট্রাইকার এরগাশেভ জাহংগিরের নেয়া ডান পায়ের শট অল্পের জন্য সাইডপোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ১০ মিনিটে আবারও তাজিকদের আক্রমণ। এবার দলটির অধিনায়ক ফাতখুল্লুর নেয়া শট ফিলিস্তিন গোলরক্ষক রামিক হামাদা ফিস্ট করে প্রতিহত করেন।

শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করতে থাকে ফিলিস্তিন। যে কারণে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমজমাট হয়ে ওঠে। ২৩ মিনিটে জোরালো আক্রমণ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। এ সময় ফিলিস্তিন মিডফিল্ডার মোহাম্মদ রশিদ ডি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে কিছুটা ডানে বল দেন ফরোয়ার্ড হেলাল মুসাকে। হেলাল মুসার নেয়া ডান পায়ের শট তাজিকিস্তান গোলরক্ষক রিজুয়েভ রোস্তম ডানদিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। ২৫ মিনিটে আবারও গোল করতে ব্যর্থ হয় ফিলিস্তিন। এ সময় ফিলিস্তিনের ফরোয়ার্ড হেলাল মুসা মাঝ মাঠ থেকে থ্রু পাসে বল দেন ফরোয়ার্ড খালেদ সালেমকে। খালেদ সালেম ক্ষিপ্রতার সঙ্গে বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাজিক ফরোয়ার্ড তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি কিছুটা ঘুরে বাম পায়ের নেয়া শট সাইডবারে লেগে ফেরত আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ফিলিস্তিন। ২৯ মিনিটে ফিলিস্তিনকে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত করেন তাজিকিস্তান গোলরক্ষক। ডি বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার ইসলাম বর্তনের জোরালো শট গোলে প্রবেশের মুহূর্তে ফিস্ট করে রক্ষা করেন তাজিক কিপার রোস্তম। তিন মিনিট পর তাজিক অধিনায়ক ফাতখুল্লু ফিলিস্তিন স্ট্রাইকার সামেত মারাবাকে ফাউল করলে দুই দলের খেলোয়াড়রা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েক মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয় বাংলাদেশের রেফারি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। এ ঘটনার জেরে ৩৬ মিনিটে তাজিক অধিনায়ক ফাতখুল্লুকে রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। সংঘর্ষের সময় ফিলিস্তিনের ৩নং জার্সিধারী মোহাম্মেদ রশিদ তাজিক অধিনায়ককে ধাক্কা দেয়ার কারণে তাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করে দেন। আট মিনিট বন্ধ থাকার পর আবারও খেলা শুরু হয়। গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

বিরতির পরও আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে ফিলিস্তিন। ৫৭ মিনিটে মিডফিল্ডার হেলাল মুসার কাছ থেকে বল পেয়ে আরেক মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ জাহেরের নেয়া বাম পায়ের শট তাজিক গোলরক্ষক রিজুয়েভ রোস্তম কিছুটা লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করে তাজিকরাও। ৭৪ মিনিটে বামপ্রান্ত থেকে তাজিক ডিফেন্ডার নাজারভের নেয়া শট সাইড নেটে লাগলে গোলবঞ্চিত হয় তারা। ৭৯ মিনিটে ফিলিস্তিনের জালে বলও জড়িয়ে দিয়েছিল তাজিকিস্তান। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি মিজানুর রহমান। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে (৯১ মিনিট) নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে ১০ জনের তাজিকস্তান। বদলি খেলোয়াড় আবদু গাফারভ গোলমুখে চমৎকার ক্রস করেন। কিন্তু তা থেকে তাজিক খেলোয়াড় বজোরভ পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। এখানেও কোন দল জাল খুঁজে না পাওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ভাগ্যনির্ধারণী পেনাল্টি শূটআউটে। যেখানে শেষ হাসি হেসেছে ফিলিস্তিন।