১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবসম্পদ উন্নয়ন

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। দেশের মানুষ আজ সম্পদ হিসেবে অগ্রগতির পথে। তাই দেখা যাচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে আছে। এই অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছে সরকারী নীতিমালার যথাযথ ব্যবহার। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্ভরশীল এই মানব সম্পদের ওপরই। বাঙালী যে আর অলসপ্রবণ জাতি নয়, এমনকি দেশের জন্যও নয় বোঝাস্বরূপ। এখন তো বাঙালী পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি এগিয়ে। ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর পিছিয়ে পড়ছে প্রতিবেশীরা। বিশ্বব্যাংক বলছে, মানবসম্পদ উন্নয়ন বাংলাদেশ ভাল করেছে। আরও ভাল করার সুযোগ রয়েছে। কেননা, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান মান বিবেচনায় এদেশের শিশুরা প্রতিবেশী দুটি দেশের শিশুদের চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার, শিশুদের স্কুলে পাঠগ্রহণের সময়কাল, শিক্ষার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ষাট বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা এবং শিশুদের সঠিক আকারে বেড়ে ওঠাসহ কয়েকটি সূচক দিয়ে বিশ্বব্যাংক ২০১৮ সালের মানবসম্পদ সূচক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সূচক অনুযায়ী, ১৫৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। ভারত ১১৫ ও পাকিস্তান ১৩৪তম অবস্থানে রয়েছে। আদর্শ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা পেলে একটি শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শতভাগ উৎপাদনশীলতা দেখাতে পারে। কিন্তু নিজ দেশে ভিন্ন ভিন্ন মানের সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী বেড়ে ওঠে শিশুরা। তাই সবাই সমানভাবে উৎপাদনশীল হতে পারে না। এটা বাস্তব যে, একটি শিশু আদর্শ অবস্থায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পূর্ণ সুযোগ পেয়ে বেড়ে উঠতে পারলে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তার উৎপাদনশীলতা যে অবস্থায় পৌঁছানোর কথা; বাংলাদেশে জন্ম হলে তার উৎপাদনশীলতা হবে তার ৪৮ শতাংশ। এই অর্জনের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের কার্যকর নীতিমালার যথাযথ প্রয়োগই মূলত কাজ করেছে। গত এক দশক ধরেই শেখ হাসিনার সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে বেশি প্রাধান্য দিয়ে আসছে। প্রতিবছর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকার বিনিয়োগ বাড়াছে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নিচ্ছে, যা তৈরি করছে মেধাসম্পদ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জনে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। যেখানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিন থেকে চার শতাংশ শিক্ষা খাতে এবং দুই শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে খরচ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন। যেখানে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে। মানবসম্পদ সূচকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের চেয়ে এগিয়ে। আর প্রাপ্তবয়স্কদের বেঁচে থাকার হার ৮৭ শতাংশ। বর্তমানে জন্ম নেয়া বিশ্বের ৫৬ শতাংশ শিশু কর্মক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ বিকাশ করতে পারবে না। আর এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারই দায়ী, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাদের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বাংলাদেশ এসব দেশের তালিকায় নেই। বরং এই খাতে অধিক বরাদ্দের কারণে মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে প্রতিবেশীদের পশ্চাতে ফেলে। দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশকে দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে হবে। এজন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে বাঞ্ছানীয়।