১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আধুনিক গণপরিবহন

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে যেসব কথা শোনা যায় তার ভেতর নেতিবাচক মন্তব্যই বেশি। এটা ঠিক যে প্রায় দুই কোটি নগরবাসীর যে শহরে বসবাস তার গণপরিবহন ব্যবস্থা সামাল দেয়া সহজ কথা নয়। মাঝে মধ্যে গণপরিবহন ব্যবস্থায় নৈরাজ্যও নেমে আসে, সেটিও অস্বীকারের নয়। তবে চিরকাল এমনটাই রয়ে যাবে, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না- এমনটা যারা ভাবেন তারা নিঃসন্দেহে হতাশাবাদী। জনবান্ধব সরকার মানুষের দুরবস্থার অবসান ঘটানোয় সচেষ্ট হবেন নাÑ এমনটা ভাবাও কাজের কথা নয়। জনকণ্ঠে শনিবার রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থা সংক্রান্ত আশাব্যঞ্জক প্রতিবেদনটি ঢাকাবাসীর মনে আশার আলো জ্বালাবে, এটুকু আশা করা যায়। ‘ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক হচ্ছে’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন, মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে সরকার। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (এমআরটি), দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (বিআরটি), তিন স্তরবিশিষ্ট লিঙ্ক রোড, আটটি র‌্যাডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণ। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের কাজও হাতে নেয়া হয়েছে।

চলমান মেট্রোরেলের কর্মযজ্ঞের কারণে নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে খুবই সমস্যায় পড়ে যান মেট্রোরেলের কাজ যেখানটায় চলছে তার পাশ দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীরা। ২০৩৫ সাল নাগাদ রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেলের প্রসারতা বাড়াতে চায় সরকার। এজন্য নেয়া হয়েছে মোট পাঁচটি মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) প্রকল্প।

রাজধানীকে সচল করতে আরও চারটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। বলা যায় রাজধানীর বড় একটা অংশ এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। ফলে গতি বাড়বে নাগরীর মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায়। এর চারটি হবে আন্ডারগ্রাউন্ডে, অন্যটি হবে এলিভেটেড মেট্রোরেল। পাঁচটি মেট্রোরেলের মধ্যে প্রথমটি এলিভেটেড মেট্রোরেল যার কাজ চলমান। এর একটি পর্ব আগামী বছর এবং আরেকটি পর্ব ২০২০ সালে শেষ হবে।

২০ কিলোমিটার দূরত্বের প্রথম মেট্রোরেলটি ঢাকার উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলে গিয়ে শেষ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলা ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিলে আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। খরচেও সাশ্রয় হবে। প্রতিটি ট্রেনে ৬টি কম্পার্টমেন্ট থাকবে, যাতে প্রায় ১৭০০ যাত্রী বহন করা যাবে। ফলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার এবং প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। এসবই হালের যানজটে নাকাল ঢাকাবাসীর জন্য বিরাট সুসংবাদ।

আগামীতে আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে। খিলক্ষেত স্টেশন থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক এবং বারিধারা নতুন বাজার পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হবে। বারিধারা এলিভেটেড স্টেশন থেকে উত্তর বাড্ডা-গুলশান-১-বাড্ডা-রামপুরা স্টেশন পর্যন্ত হবে এলিভেটেড রেলপথ। রামপুরা এলিভেটেড স্টেশন থেকে মালিবাগ-রাজারবাগ-কমলাপুর পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল হবে। পরিকল্পিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা বা অনাকাক্সিক্ষত গতিহীনতা না এলে মাত্র দেড় থেকে সর্বোচ্চ দুই দশকের মধ্যেই ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা সুগম, যাত্রীবান্ধব ও আধুনিক হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।