১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা উপলক্ষে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী এখন অবস্থান করছেন ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বালিতে। সেখানে প্রায় প্রতিদিনই তাঁর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আইএমএফের প্রধানসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকদের। সেখানেও বিশ্বব্যাংক বলেছে, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বের রোল মডেল। শুধু এটুকু বলেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশের চলমান প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে আগামী এক বছরের জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই দিতে সম্মত হয়েছে ব্যাংকটি। এর বাইরেও রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণের লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের জন্য এক বিলিয়ন ডলার অনুদান প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক, যার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। তদুপরি বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা ও তার সমাধানে গত জুলাইয়ে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রধান এবং ইউএনএইচআরের প্রধানসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা। তারা প্রধানত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বৃদ্ধিসহ আর্থিক সাহায্য ও অনুদান বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন তা বোধ করি ছাপিয়ে গেছে সবাইকে। তিনি বলেছেন, দারিদ্র্য নিরসন ও সবার জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আবির্ভূত হয়েছে ‘বিশ্বনেতা’ হিসেবে। এও বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নতি অন্যান্য দেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

সত্য বটে, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ নানা সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মডেল। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। চলতি বছর অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে এডিপি বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের হার প্রায় ৯৪ শতাংশ। রেকর্ড পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। পোশাক রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ প্রবাসী আয়ও বেড়েছে সন্তোষজনক হারে। ব্যাংক সুদের হার এক ডিজিটে নেমে এলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও বাড়বে নিঃসন্দেহে।

এর মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মিলেছে স্বীকৃতি। নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে আশাব্যঞ্জক গতিতে, যা নিয়ে অযথা টানাপোড়েন চলেছিল বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে। জ্বালানি ও বিদ্যুত উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। এগিয়ে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রসহ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চক্রমণ করছে ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথ। দেশের মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকারের সুফল ভোগ করছে অনেকাংশে। শিক্ষার হারসহ মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। তবে এসবের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে যে কোন মূল্যে গণতন্ত্রকে আরও সংহত ও শক্তিশালী করতে হবে।