১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

ঢাকায় পরপর কয়েকটা দিন ‘তিতলি’র কল্যাণে বর্ষামৌসুম উপভোগ করা গেল। বলে দেয়ার দরকার পড়ে না তিতলি (বাংলা অর্থ প্রজাপতি) হলো বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় যা এবারের মতো আমাদের ছাড় দিয়ে বিদায় নিয়েছে। বলা যায় বর্ষাকাল আর হেমন্তের মিশেলে এক নবধারার আবহাওয়া বিরাজ করেছে ক’দিন ঢাকায়। হেমন্ত আসার আগেই হিমহিম পরশে কাবু হয়েছে নাজুক শরীর।

তারপরও সুসংবাদ দিয়েই শুরু করা যাক আজকের লেখা। নীলক্ষেতে নির্মিত হচ্ছে কর্মজীবী নারীদের জন্য আধুনিক হোস্টেল। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নীলক্ষেতে এই হোস্টেল নির্মাণ করতে যাচ্ছে। ১০ তলা এ হোস্টেল ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। হোস্টেলটি নির্মাণের ফলে কর্মজীবী নারীদের ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। কেননা এখানে মাত্র একটি হোস্টেলে বিপুলসংখ্যক একাকী কর্মজীবী নারীর স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। হোস্টেলটিতে থাকবে অত্যাধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা। এ সকল সুবিধার মধ্যে রয়েছে- কনফারেন্স রুম, হোস্টেল সুপারের জন্য ডুপ্লেক্স বাসভবন, নামাজের রুম, লাইব্রেরি, নিউজ রুম, লন্ড্রি, ইন্ডোর গেমস রুম, কিচেন, ওয়াইফাই সুবিধা। সমাজের বাস্তবতা হলো একটা ছেলে যেমন একা বাসা ভাড়া করে থাকতে পারে কিন্তু একজন মেয়ের পক্ষে একা বাসা ভাড়া করে থাকা নানা কারণেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। আবার বেসরকারীভাবে মেয়েদের জন্য খুব বেশি মেসও চালু হয়নি। এরকম একটি পরিস্থিতিতে নতুন আরেকটি নারী কর্মজীবী হোস্টেল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে বেশ ভাল খবর।

আসা যাক ঘরোয়া দুঃসংবাদে। ঘরে ঘরে হঠাৎ করে মশার আনাগোনা বেড়ে গেছে! বলা যায় রাতারাতি মশার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিষয়টি কিছুটা অবাক করার মতোই। তবে তার চেয়েও বেশি অবাক করা ব্যাপার ( হতাশাজনকও) নামী স্প্রে ছিটিয়েও মশাকে কাবু করা যাচ্ছে না। খবরে পড়লাম ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বহনকারী এডিস মশার শক্তি বেড়েছে। সেই শক্তি হলো মানুষকে আরো শক্তভাবে রোগাক্রান্ত করা। কিন্তু আত্মরক্ষার শক্তিও যদি তাদের বেড়ে যায় তাহলে তো দুশ্চিন্তার কথা। সিটি করপোরেশনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নকল প্রসাধনসামগ্রী

রূপসচেতন বলে নয়, মেয়েরা কমবেশী প্রসাধন ব্যবহার করে থাকে। বিদেশী কসমেটিকসের ওপর সবারই আকর্ষণ থাকে। ব্যবসায়ীরা এটি ভাল বোঝে। এই চাহিদাটিকেই কাজে লাগায় অসাধু ব্যবসায়ী। তারা রীতিমতো নকল প্রসাধনীর কারখানা খুলে বসে। রাজধানীতে মাঝেমধ্যে এমন কারখানা ‘আবিষ্কার’ করে র‌্যাব। চকবাজারে এমনই একটি কারখানার সন্ধান মিলেছিল কয়েকদিন আগে, যেখানে তৈরি হতো ল্যাকমে, ট্রেসেমি, জনসন তথা বিদেশী ব্র্যান্ড কোম্পানির প্রসাধনী! ভুয়া বারকোডও সংযুক্ত হতো। নকল প্রসাধনী ডবল ক্ষতিকারক। একজন ক্রেতা পয়সা খরচ করে পেলেন রদ্দি মাল। তারপর সেটি ব্যবহার করে ত্বককে করে তুললেন স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে নকল ওষুধ সেবন করার তুলনায় এটি অবশ্য কম বিপজ্জনক। নকল-ভেজাল ওষুধে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে, আর নকল প্রসাধনে চামড়া জ্বলে যাবার। যাহোক, পুরান ঢাকার চকবাজারে কয়েকটি নকল প্রসাধনসামগ্রী তৈরির কারখানা ও গুদামে অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব-১০ ও বিএসটিআইয়ের একটি দল। নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কারখানাগুলোতে ল্যাকমে, ট্রেসেমি, জনসন এ্যান্ড জনসন, ইউনিলিভারসহ অনেক নামী কোম্পানির নকল প্রসাধন পণ্য তৈরি হতো। এই কাজের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে তিনটি কারখানা এবং ৮টি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়। নকল পণ্য বিক্রি বন্ধে বিক্রেতারাই যে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন, সেকথা বলাই বাহুল্য।

আবাসিক এলাকায় হাঁকডাক

শুক্রবার সকালে বহু চাকরিজীবীই বেলা করে ঘুম থেকে ওঠেন। তবে বেশ সকাল থেকেই তাদের আর নিñিদ্র ঘুম (সাউন্ড স্লিপ) যে হয় না সেটি ভুক্তভোগীমাত্রই জানবেন। ভিখিরি আর ফেরিঅলার হাঁকডাক মাঝেমধ্যে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। ‘আম্মা গো, আমি ল্যাঙড়া-খোঁড়া...’ বলে শুক্রবারেই যে ভিক্ষুকটি আমাদের পাড়ায় আসে তার গলার স্বর বেশ তীব্র, তার সঙ্গে নাটুকেপনাও যোগ করা হয়; যেন কতোকাল খেতে পায় না। এখুনি খেতে না পারলে নির্ঘাৎ মারা যাবে! আর অবিরাম এই ‘ঘোষণা ও আহ্বান’ চলতেই থাকে। ফলে কানে পশবেই। কুম্ভকর্ণেরও ঘুম ভাঙবে।

ঢাকার আবাসিক এলাকার সকাল হয় হরেক রকম হকার আর ফেরিওয়ালার হাঁকডাকে। এসব ডাকাডাকি ঘুমকাতুরেদের বিরক্তি ঘটায়, অসুস্থ ব্যক্তিদের কানে কর্কশ লাগে; পরিবারের শুদ্ধতাবাদী সদস্যের কাছে চিৎকার-চেঁচামেচি বলে মনে হয়। তবে গৃহকর্ত্রী, গৃহকর্মী ও রাঁধুনীদের জন্য এসব বিকিকিনির আহ্বান যে নিত্যপ্রয়োজনীয়- তা স্বীকার করতেই হবে। তারা কান পেতে শোনেন বা বলতে পারি কান খোলা রাখেন। গ্রাম ও শহুরে নাগরিকদের ভেতর স্পষ্ট দু’ধরনের আবেদন ছড়ায় সকাল বেলার ওইসব আগন্তুক; গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় সবজিওয়ালাদের গাড়ি আসে না। ঝাঁকি ভর্তি মাছ মাথায় করে ফেরি করতে আসে না ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা একনিষ্ঠ নিকেরি- তাই গ্রামীণ যেসব অধিবাসী ইট-সিমেন্ট-ধুলো- ধোঁয়ার শহর ঢাকায় বসতি গড়েন তাদের কাছে ধীরে ধীরে সহনীয় হয়ে ওঠে হকার ফেরিওয়ালারা। আর অভিজাত শহুরেরা, যারা সামান্য টয়লেট পেপার কেনার জন্যও অভিজাত সুপার শপে ছোটেন, তাদের কাছে এরা এক মিশ্র অনুভূতির নাম। উদাসীন দু’চোখে তাদের উপস্থিতি উপেক্ষা করতে চাইলেও ঠেকায় পড়ে জ্যান্ত জিয়ল বা টাটকা টমেটো কিনতেই হয়।

ঢাকা শহর যে এক অর্থে ‘অভিবাসীদের শহর’ তাতে কোন সন্দেহ নেই। ছিন্নমূল, নদী ভাঙ্গনের শিকার ও ভূমিহীন কৃষক এবং ক্ষেতমজুর বা মৎস্য চাষী হয়েও ক্রমশ কর্মহীন- এমন লোকের সংখ্যাই বেশি? নাকি ঢাকার আগন্তুক হিসেবে তারাই সংখ্যাগুরু যারা চাকরি সূত্রে কিংবা চাকরি সন্ধানে এই নগরের দ্বারস্থ হয়েছে? শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসে শিক্ষা সমাপনের পর এখানেই থিঁতু হয়ে যাওয়া মানুষও তো লাখ লাখ! ঢাকায় স্বকর্মসংস্থানের সংগ্রামে নিয়োজিত ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে কত বিচিত্র পেশাতেই না জড়িয়েছে। ঢাকার আদি বাসিন্দারা আছেন, আছে তাদের নিজস্বতাখচিত ভাষা। বরং গত অর্ধশতকের অতি নগরায়ন ও শহর সম্প্রসারণের ফলে তারাই হয়ে উঠেছেন সংখ্যালঘু। দেশের প্রতিটি জেলার মানুষ এই ঢাকাকে নিজের শহর করে নিয়েছে। বাংলাদেশ এমনই একটি দেশ তার প্রতিটি জেলার মানুষের রয়েছে নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষা, আর ভাষা থাকলে তার উচ্চারণ-বাচন স্বরভঙ্গিও পৃথক হবে। নগরের অলিগলির হকার-ফেরিওয়ালাদের খরিদ্দার শ্রুতি আকর্ষণকারী বয়ান থেকে তাদের শেকড় চিনে নেয়া এমন কঠিন কিছু নয়। এসব থেকে অবশ্য ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যেও প্রকাশিত হতে পারে।

আমাদের গলিতে যে গুটিকতক মাছ বিক্রেতা আসেন তাদের একজন ধরে ধরে প্রতিটি মাছের নাম বলেনÑ যেমন ওই পাঙ্গাস মাছ, ওই কাতল মাছ, ওই চিংড়ি মাছ... গলার স্বর শুনে ভেবেছিলাম অল্পবয়সী কোন তরুণ হবে। পরে দেখি দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ। তার কাঁধের দু’দিকে বৃত্তাকার বিরাট ডালার ভারে তার উচ্চতা ২৫ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। মুরগি বিক্রেতারা সব কোথায় গেল! এখন তাদের প্রায় দেখাই যায় না। বরং বাতিল ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী সংগ্রহকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। তবে গলির বাদশা হলো সবজি বিক্রেতারা। সারাটা সকাল এ মাথা ও মাথাজুড়ে তাদেরই দাপট। টাকার দাম যে পড়ে যাচ্ছে তার ধারাবাহিক সাক্ষী তো এরাই। এক শ’ টাকার নোটে যে সবজি মেলে তাতে ছোট্ট সংসারের দু’বেলার চাহিদা মেটানো দায়। সে যাক, সবজির ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘিরে মহিলাদের আড্ডা কিন্তু জমে ওঠে।

নাটম-লে ম্যাকবেথ

শেক্সপীয়ারের কালজয়ী নাটক ম্যাকবেথ ঢাকায় প্রথম মঞ্চায়িত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সেটি ছিল ঢাকার প্রধান দুটি নাট্যদল থিয়েটার ও নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের যৌথ পরিবেশনা। ম্যাকবেথ হয়েছিলেন নাগরিকের আলী যাকের আর লেডি ম্যাকবেথ ফেরদৌসী মজুমদারÑ সেই সময়ের শক্তিমান দুই অভিনয়শিল্পী। আশির দশকে শেক্সপীয়ারের নাটক মঞ্চায়নের একটি ধারাই চালু হয়েছিল, মনে পড়ে। ওথেলো নাটকটিতে ডেসডিমোনা চরিত্রে রূপদান করেছিলেন তারানা হালিম। ফুলার রোডে অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলেই সম্ভবত ওথেলো দেখেছিলাম। সে সময়ে আমি নিজেও একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বলছিলাম ম্যাকবেথের কথা। অনেক কাল পরে এটি পদাতিক নাট্য সংসদও মঞ্চে এনেছিল। সম্প্রতি আবারও নতুন রূপে ম্যাকবেথ মঞ্চায়িত হচ্ছে ঢাকায়, তবে বড় মিলনায়তনের বড় মঞ্চে নয়। হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারের পেছনটায় ‘নাটম-লে’। সম্ভবত এটি শুরুতে ছিল সেমিনারকক্ষ, পরে নাটকের মহড়াকক্ষ হয়ে ওঠে। আর ম্যাকবেথের সুবাদে অধুনা হলটি রীতিমতো হাউসফুল রঙ্গমঞ্চই বটে। তবে স্বীকারে দোষ দেখি না, দর্শকরা খুব স্বস্তিভরে এখানে নাটক উপভোগ করতে পারেন না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাটকের নির্দেশক ড. ইসরাফিল শাহীনের আমন্ত্রণে ম্যাকবেথ দেখতে গিয়ে তেমনটাই মনে হলো। শাহীন আর আমি অভিন্ন নাট্যদলের (আরণ্যক) নাট্যকর্মী ছিলাম সেই আশির দশকের শুরুতে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। নাটকশেষে গুণী নাট্য ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য শেষে ড. শাহীন খেদের সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যশালা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কথাটি উল্লেখ করলেন।

ম্যাকবেথের গল্পটি অনেকেরই জানা। স্কটিশ সেনাপতি ম্যাকবেথ যুদ্ধ জয় করে ফিরে আসছিলেন নিজ গন্তব্যে। পথে এক রহস্যময় শক্তি তাঁর পথ আটকে ভবিষ্যদ্বাণী উচ্চারণ করে, একসময় ম্যাকবেথ হবে কডোর প্রধান। ওই ঘটনার পর ম্যাকবেথের চিঠি পেয়ে লেডি ম্যাকবেথ জানতে পারেন বিস্তারিত, জন্ম নেয় উচ্চাকাক্সক্ষা। রাজা ডানকানকে হত্যার জন্য তিনি ম্যাকবেথকে প্ররোচিত করেন। পরে রাজাকে হত্যা করে সিংহাসনে বসেন ম্যাকবেথ। ঘটনাকে আড়াল ও রাজা হত্যার দায় কৌশলে এড়াতে ম্যাকবেথ একে একে হত্যা করে ডানকানের দেহরক্ষীদ্বয়, ব্যাংকো ও ম্যাকডাফের স্ত্রী-সন্তানদের। কিন্তু এই উচ্চাকাক্সক্ষা বাঁচাতে পারে না ম্যাকবেথকে। সেও নিহত হয়। নাটম-লে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনয়সমৃদ্ধ নাটকটি দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল এটি কেন শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। নাট্যকার মামুনুর রশীদ আন্তরিকভাবেই নাটকের ডিজাইন, মঞ্চসজ্জা এবং আলোকসম্পাত পরিকল্পনার (লাইট) প্রশংসা করলেন। এসব দায়িত্ব পালন করেছেন আরেক বিভাগীয় শিক্ষক এবং গুণী নাট্যজন সৈয়দ জামিল আহমেদ। সংগীত পরিকল্পনায় মহসিনা আক্তার। মঞ্চায়নশেষে ৩৫ বছর আগে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়নের স্মৃতিচারণ করলেন সারা যাকের ও নিমা আনাম। বলাবাহুল্য তারাও মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন। একটু সমালোচনা করলেন রামেন্দু মজুমদার। তিনি বললেন যে অভিনয়শিল্পীদের বাচিক অভিনয় যথাযথ নয়, বেশ চড়া স্বরে তারা সংলাপ আউড়েছেন। মামুনুর রশীদ অবশ্য উপর্যুপরি রিহার্সাল ও শো করার জন্য পাত্রপাত্রীদের স্বরযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে প্রধান প্রধান দুতিনটে চরিত্রের সংলাপ উপস্থাপনে আরও উন্নত কিছু করার সুযোগটি কাজে লাগানোই যায়। ম্যাকবেথকে বলা হয় মহাকাব্যিক নাটক। নাটকটির অনুবাদক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক প্রধান কয়েকটি চরিত্রের সংলাপে কবিতার প্রবহমান অক্ষরবৃত্তের চলন প্রয়োগ করেছেন। তাই পর্ব বুঝে, যতিচিহ্ন মেনে সংলাপ প্রক্ষেপণ করলে নাটকে ভিন্ন মাত্রা চলে আসতে বাধ্য। বিশেষ করে মনোলগের জায়গাগুলোয়। তারপরও বলব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ঢাকার নাট্যপ্রেমীদের যে ম্যাকবেথ উপহার দিলেন সেটি মানসম্পন্ন, উপভোগ্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ। প্রত্যাশা করি শুধু নাটম-লে নয়, বড় মঞ্চে এটি প্রায় নিয়মিতভাবেই প্রদর্শিত হবে। শুধু নাট্যপ্রেমী দর্শক নয়, ঢাকার সব নাট্যদলের সকল নাট্যকর্মীও দেখুক এই নাটক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলতে যাদের ভাল লাগে, এই নাটক তাদের মুখ বন্ধ করবে, আশা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত শিল্পের শিক্ষা ও চর্চা হচ্ছে, এবং আগামীতে এখান থেকেই গুণী নাটক ও সংগীতশিল্পী বেরিয়ে আসবেনÑ এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

১৪ অক্টোবর ২০১৮

marufraihan71@gmail.com