১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা

  • নবম ও দশম শ্রেণি;###;সুধীর বরণ মাঝি

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষক, হাইমচর কলেজ, হাইমচর-চাঁদপুর।

মোবাইল : ০১৭৯৪৭৭৭৫৩৫

(পূর্ব প্রকাশের পর)

চতুর্থ অধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্ন

৩।

নীলু ও আদিবা দুই বান্ধবী। তারা নবম শ্রেণিতে পড়ে। আদিবা নিয়মিত স্কুলে আসলে ও নীলু স্কুলে প্রায়ই অনিয়মিত। অনকে দিন পর নীলু স্কুলে আসলে শিক্ষকের প্রশ্নের জবাবে বলে, ’প্রায়ই তার পেট ব্যাথা থাকে,সাথে বমি ও পাতলা পায়খানা হয়।

ক) আনন্দদায়ক/আনন্দময় জীবনের পূর্বশর্ত কী?

খ) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ করা যায় কীভাবে- ব্যাখ্যা কর।

গ) নীলু কোন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছে ?

ব্যাখ্যা কর।

ঘ) আদিবা সুস্থ থাকার পিছনে কোন বিষয়টি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে তুমি মনে কর ? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক) উত্তর ঃ আনন্দদায়ক/আনন্দময় জীবনের পূর্বশর্ত হচ্ছে শারীরিক সুস্থতা। শরীর সুস্থ না থাকলে কোন কাজে আনন্দ পাওয় যায় না। আনন্দদায়ক/আনন্দময় জীবনের জন্য নিজেকে সুস্থ রাখা প্রয়োজন।

খ) উত্তর ঃ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া কীভাবে রোধ করা যায় তা ব্যাখ্যা করা হলো। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক দারিদ্র এবং তারা গ্রামে বাস করে। তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ে অধিকাংশ শিশু ক্ষুধার্ত থাকে। এজন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্নকালীন টিফিন প্রোগ্রাম চালু করলে শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ করা যায়।

গ) উত্তর ঃ নীলু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার সংক্রামক রোগ আক্রন্ত হয়েছে। রোগ জীবনের অংশ। সারাজীবন রোগমুক্ত থাকা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে রোগ এড়ানো বা রোগ প্রতিরোধ করা যায়। সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা বলতে শরীর রেগাক্রান্ত হওয়াকে বুঝায়। নীলুর রোগের কারণ নানা রকমের জীবাণুর আক্রমণ। আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত নানা রকম জীবাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে।এই জীবাণু নানা উপায়ে দেহে প্রবেশ করে।যেমন-বাতাস,পানি,খাবার ইত্যাদি। নীলুর শরীরের জীবাণুগলো পানি এবং খাদ্য বাহিত। ব্যক্তিগত ও পারিপাশ্বিক অপরিচ্ছন্নতা,পরিমিত বিশ্রাম ও ঘুম না নেওয়া,ব্যায়াম ও খেলাধুলা না করা, পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করা,শরীরের যতœ বিষয়ক সকল কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন না করা এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যনীতি সম্পর্কে অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে নীলু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার সংক্রামক রোগ আক্রন্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও উদাসীনতা সুস্বাস্থ্য গঠনের প্রধান অন্তরায়।

ঘ) উত্তর ঃ আদিবা সুস্থ থাকার পিছনে যে বিষয়টি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে হয় তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো। আবিদা সুস্থ থাকার পিছনে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যরক্ষার ধারণা ও এর কৌশল মেনে চলা। যদি চাও সুস্থ থাকতে, মেনে চলো স্বাস্থ্যবিধি। সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তুলার ভিত্তি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়মকানুন বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত ও পারিপাশ্বিক পরিচ্ছন্নতা,পরিমিত বিশ্রাম ও ঘুম,পরিমিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করা, পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা ইত্যাদি। এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দেহ ও মনকে সুস্থ ও সবল রাখা যায়। নিজ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা,স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং এবিষয়ের সকল নিয়মকানুন মেনে চলাই আদিবার সুস্থ থাকার পিছনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। শিশুকাল থেকে যৌবনকাল পর্যন্ত একজন মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক উন্নতি ঘটে। এ সময়ে আদিবা বয়স উপযোগী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। সুস্থ থাকার বিষয়টি শালরীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত। সুস্থভাবে জীবন যাপনের জন্য শরীরের যতœ এবং স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়ম মেনে চলতে হয়। সময়ানুবর্তিতাও সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।