১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাঙ্গুনিয়ায় প্রচারে এগিয়ে আওয়ামী লীগ॥ বিএনপির তৎপরতা কম

পান্থনিবাস বড়ুয়া, রাঙ্গুনিয়া ॥ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর ও খরণদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদ চট্টগ্রাম-৭ আসন। এই আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনের সাম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা এখন তৎপর। বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপি হারানো গৌরব ফিরে আনতে চাইলেও মাঠে প্রকাশ্যে তৎপর নয়। ইসলামী ঐক্যজোটের তৎপরতা রাঙ্গুনিয়ায় সংসদ নির্বাচনে নতুনভাবে আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম এবং এলডিপির নুরুল আলম মনোয়ন পাওয়ার প্রত্যাশী। এলাকায় বর্তমান এমপি ড. হাছান মাহমুদ সাংগঠনিক কার্যক্রমে তৎপর আছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে বিএনপির দুর্গে আঘাত হানেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি ওই মেয়াদে বন ও পরিবেশমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে হাছান মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এ নেতার একক আধিপত্য রয়েছে। মনোনয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দুই মেয়াদে রাঙ্গুনিয়ায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছি। পাইপলাইনে আছে আরও সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকার প্রকল্প। সম্প্রতি কর্ণফুলী নদী ও ইছামতি ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেবল সরকারী টাকায় নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে এলাকার কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় ও চাকরি খাতে মানুষকে সহায়তা দিয়েছি। এত উন্নয়ন অতীতে আর কেউ করেনি।

রাঙ্গুনিয়ায় আওয়ামী লীগের সাম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যাংকার ওসমান গণি চৌধুরী। চট্টগ্রাম বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার ফয়সল ইকবাল। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যে কেউ চাইতে পারে। তবে আমি মনে করি রাঙ্গুনিয়া আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। কেউ মনোনয়ন চাইবে না। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ব্যাংকার ওসমান গণি চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগে আমার পারিবারিক অবদান রয়েছে। আমার পিতা ওবায়দুর রহমান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ছিলেন। ডাক্তার ফয়সল ইকবাল চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকৎসক পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী আলোচনায় রয়েছে। তবে বহিরাগত নেতৃত্বের অপবাদ নিয়ে এলাকায় দলেও সমালোচনা রয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে দলের মধ্যে একটি গ্রুপ তৎপর। এক্ষেত্রে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক কুতুব উদ্দিন বাহারকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি করে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্থানীয় বিএনপি নেতা শওকত আলী নুরও বিএনপি মনোনয়ন চাইবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সার্বিক উন্নয়ন মাদক সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আদর্শ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা গড়ার প্রত্যয়ে মিনার প্রতীক নিয়ে রাঙ্গুনিয়া আসনে নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক এমপি নজরুল ইসলামও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন।