১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাবনাবাদ পাড়ের দেড় হাজার পরিবারের ঘরের আদল পাল্টে গেছে

রাবনাবাদ পাড়ের দেড় হাজার পরিবারের ঘরের আদল পাল্টে গেছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ হঠাৎ দেখলে মনে হবে হয়তো রাখাইন পাড়ার টংঘর। কিন্তু না। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে কোনমতে বাঁচতে ঘরটিকে এভাবে করেছেন। পাটাতন দিয়ে থাকেন। অধিকাংশ ঘরের ধরন প্রায় এক ধরনের। রাবনাবাদ পাড়ের দেড় হাজার পরিবারের ঘরের আদল পাল্টে গেছে কোথাও আবার ঘর পড়ে আছে মানুষ নেই। আসলে রাখাইন গ্রাম নয় কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের লালুয়ার চারিপাড়ার দৃশ্যপট। যে সব গিলে খেয়েছে এখনও সেই রাক্ষুসে রাবনাবাদই জীবিকার ভরসা। এখন মাছ ধরা বন্ধ। বেকার। ধার-দেনায় কাহিল। কাঁদা পেরিয়ে ঘরবাড়ি, সড়কে চলাচল। স্যান্ডেল পায়ে ওঠেনা বহু বছর। টয়লেট পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ থাকেনা। অস্বাভাবিক জোয়ার আসলে পাটাতনও ডুবে যায়। অনেক রাতে কাঁথা-বালিশ ভিজে যায়। ১১টি বছর বাঁধ ভাঙ্গা জনপদ চারিপাড়াসহ ৭/৮টি গ্রামের অন্তত দেড় হাজার পরিবারে এখন চলছে অমানিশার হতাশা। কষ্টের যেন শেষ নেই। কবে মাংশ দিয়ে দুবেলা খেয়েছেন এমন মানুষ খুঁজতে হয় গ্রাম ঘুরে ঘুরে। প্রকৃতির হানায় সক্ষম মানুষ এখন সঙ্গতিহারা। চরম প্রতিকূলতায় জেলে, হাইলা-কামলা শ্রেণির মানুষগুলো এখন মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কায় পড়েছেন। দিন শেষে কথা একটাই ভাঙ্গা বেড়িবাঁধটি মেরামত করে দেয়া হোক। তাইলে এসব মনুষ কোমর সোজা করে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। কারন জমি থাকবেনা অনাবাদি। কোন না কোন ফসল ফলাতে পারতেন। পারবেন পুকুরে মাছ চাষ করতে। পারবেন হাঁস-মুরগির পালন। সরকারিভাবে এসব হত-দরিদ্র পরিবারের বিশেষ খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজন। অভিযোগও রয়েছে এসব মানুষ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর চালসহ বিভিন্ন সহায়তাও ঠিকমতো পায়না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, ওই এলাকার ৫০০ পরিবারকে বিশেষ সহায়তা হিসেবে ২০ কেজি করে চাল দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।