১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র ॥ পরীক্ষার আগেই ১০ ভাগ ঝরে গেল

কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র ॥ পরীক্ষার আগেই ১০ ভাগ ঝরে গেল

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ হাবিবা জান্নাত। পঞ্চম শেণিতে পড়ছিল। বাবার সঙ্গে তাঁর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মা আরেক বিয়ে করে ঢাকায় চলে গেছেন। সঙ্গে জান্নাতি। ওই শেষ। শিক্ষকদের ভাষ্য, জান্নাতি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেত। এখন জান্নাতির শিক্ষাজীবনের কী হবে। শুরুতেই শিক্ষার শেষ শঙ্কাধনি। ওই স্কুলের ৫৩ জনের ৪৯ জনে অংশ নেয় প্রাক সমাপনিতে। চার জন নেই। কারও আবার হদিস নেই। চরনজীব স্কুলে ভর্তি ছিল ১০ জন। প্রাক সমাপনিতে অংশ নেয় ছয় জন। গোলবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির খাতায় নয় জন। পরীক্ষায় পাঁচ জন। পূর্ব সোনাতলার দশা বেহাল। ফিফটি ফিফটি। খাতাপত্রে ছিল ৩০। পরীক্ষা দেয় ১৫ জন। নেই অর্ধেক। দক্ষিণ কমরপুরে আরও ভয়াবহ খবর। ভর্তির হিসাবে ৩০ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১১ জন। শিক্ষকদের দাবি বিভিন্ন মাদ্রাসায় চলে গেছে। লালুয়া রহিম উদ্দিনের ৪৯ জনের নেই সাতজন। পশ্চিম মধুখালীতে ২৬ জনের নেই চার জন। ডালবুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যা রাণী জানান, তার ভর্তির পরে আছে এখন ২০ জন। সাগর ঢাকায়। সালাহউদ্দিন শ্রমজীবির কাজ করছে। আর নাজনীন ও মরিয়ম কোথায় জানাতে পারেন নি। মধ্য পাটুয়ায় ২২ জনের আছে ১৪ জন। সৈয়দ গাজী স্কুলে ২৩ জনের ২০ জন। পেয়ারপুর আমেনা খাতুন স্কুলে ৩২ জনের আছে ২৮। আলীগঞ্জের আমারতা স্কুলের ১৭ জনের আছে ৭জন। বৈদ্যপাড়ায় ২০ জনে ১৭ জন। খাজুরায় ৩৬ জনে নেই চারজন। পশ্চিম ধানখালীর ৩৫ জনে আছে ২৯ জন। পাটুয়ায় ৩৩ জনের আছে ২৮ জন। দক্ষিণ চালিতাবুনিয়ার ৩৯ জনে নেই তিনজন। যেন হিসাবটায় গোলমাল। শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বেহালদশার হিশাব-নিকাশ এটি। অন্য ক্লাশেরও হাল খারাপ। মাত্র ৩৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ভর্তির হিসেব থেকেই ১৩৯ শিক্ষার্থী কমে গেল। এমনিভাবেই ২০১৮ সালের জানুয়ারির ভর্তির হিসেবে ১৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৯ টি কিন্ডার গার্টেনে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল ৪৫৩৭ জন। অথচ মডেল সমাপনিতে অংশ নেয় ৪০৬৭। নেই ৪৭০ জন। শতকরা ১০ ভাগেরও বেশি শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষার আগেই ঝরে গেল। আর প্রাক সমাপনি পরীক্ষা ১৫ অক্টোবর শেষ হলেও এর কোন সঠিক পরিসংখ্যান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দিতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে পাওয়া যায় অবাক করা তথ্য। নেই কোন সঠিক হিশাব-নিকাশ। অন্তত ৫০ জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দারিদ্র্য, অন্যস্কুল কিংবা মাদ্রাসায় চলে গেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল আহমেদ জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক সমন্বয়সহ এসব সমস্যা উত্তরণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়টি আরও বেশি তদারকির আওতায় নেয়া হচ্ছে।