১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৩০ পরিবারের পুনর্বাসন পল্লীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১৩০ পরিবারের পুনর্বাসন পল্লীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া ॥ ২৭ অক্টোবর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুতকেন্দ্রের জন্য এক হাজার একর অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবার এখন পুনর্বাসন পল্লীতে বসবাসের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। বুঝে নেবেন ‘স্বপ্নের ঠিকানা।’ এসব পরিবার শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সেমিপাকা আধুনিক সুবিধা সংবলিত ঘরটি বুঝে নেয়ার জন্য। তাও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেবেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার ২০১৬ সাল থেকে বাড়িঘর ছেড়ে শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনেছেন। যারপরনাই দুর্ভোগে মানবেতর জীবন-যাপন করেছেন বেড়িবাঁধের স্লোপে। কাদাবৃষ্টি ঝড়-ঝঞ্জা, ধুলাবালিতে একাকার হয়ে কোনমতে ছাপড়ার ঘরে অবস্থান করেছেন। কখনও পুনর্বাসনের ঘর না পাওয়ার হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন। এখন সেই কাঙ্খিত সেমিপাকা ঘরটি আর স্বপ্ন নয়। চোখের সামনেই দৃশ্যমান। সব কষ্ট, মনের ক্লেশ যেন ভুলে যাবেন এসব মানুষ। নিজের ঘরটিতে অবস্থান করে স্থায়ী মালিকানার বাস্তবতার স্বাদ পেতে যাচ্ছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজার ১৩০টি পরিবার ২৭ অক্টোবর তাদের ঘর বুঝে পাচ্ছেন। কষ্টের অবসান ঘটানোর কাউন্ট-ডাউনের পালা চলছে তাঁদের। এসব পরিবারে যেন আর তর সইছেনা। এখন এই পুনর্বাসন পল্লী দুর থেকে দেখে যে কারও স্বাদ জাগে বসবাসের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৬ একর জমির ওপর এই পুনর্বাসন পল্লীর সব ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন। একেবারে প্রস্তুত। বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। দু’টি ডিজাইনে করা হয়েছে এই সেমিপাকা ঘরগুলো। যেসব পরিবারের ২০ শতকের বেশি জমির বসতি নষ্ট হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে সাত শতক জমিতে ১২ শ’ বর্গফুট আয়তনের ৮২টি এবং যাদের কম ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য সাড়ে পাঁচ শতক জমিতে এক হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪৮ টি ঘর করা হয়েছে। সব ঘর গুলো এল টাইপের। দখিনমুখো। ঘরের প্রত্যেকটিতে ১৫ দশমিক সাত ফুট আয়তনে বাথরুমসহ একটি মাস্টার বেডরুম ছাড়াও আরও দুইটি ১৫ ফুট আয়তনের বেডরুম রয়েছে। ১০ দশমিক চার ফুট আয়তনের একটি ডাইনিংরুম। ১২ দশমিক দুই ফুটের রান্নাঘর। এছাড়া একটি কমন বাথরুম রয়েছে। সামনের বরান্দা লোহার গ্রিল দিয়ে আটকানো রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরের সামনে একটি খালি জায়গা থাকছে যেখানে শাক-সবজির আবাদ কিংবা গবাদিপশু কিংবা হাঁস-মুরগি পালনের সুযোগ থাকছে। পুনর্বাসন পল্লীতে ৩৬ হাজার ৯২৯ এবং ২৪ হাজার ৫৫৪ বর্গফুট আয়তনের দুটি পুকুর খনন করা হয়েছে। যার উত্তর-দক্ষিন দিকে প্রশস্থ ঘাটলা করা হয়েছে। করা হয়েছে চারদিকে বশার বেঞ্চি। স্বপ্নের ঠিকানায় নিরাপদ পানির জন্য ৪৮টি গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। আধুনিক দ্বিতল, দৃষ্টিনন্দন মসজিদ করা হয়েছে। ২৩ শতক জমিতে করা হয় মসজিদটি। দ্বিতল কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছে। নিচতলায় থাকবে ক্লিনিক। এই কমিউনিটি সেন্টারের আয়তন ৪০০ বর্গমিটার। রাখা হয়েছে খেলার মাঠ। সাতটি দোকান নিয়ে একটি শপিং সেন্টার করা হয়েছে। করা হয়েছে কাঁচাবাজার। রয়েছে ঈদগাঁ মাঠ। দ্বিতল একটি স্কুল ভবন করা হয়েছে। যেখানে টেকনিক্যাল শাখার অগ্রাধিকার থাকবে। স্বপ্নের ঠিকানার সন্তানেরা কারিগরি শিক্ষা নেয়ার সুযোগ পাবে। ভেতরের পানি নিষ্কাশনের সাড়ে চার কিমি ড্রেনসহ ভেতরের ১২ ফুট প্রস্থ দুই কিমি সড়ক করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট কবরস্থান করা হয়েছে। দুর থেকে দেখা এই পল্লী এখন নজরকাড়ে অন্যদেরও। সার্বক্ষণিক বিদ্যুত সুবিধা থাকছে। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিসুত্রে জানা গেছে, এখান থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুত বিক্রি থেকে দশমিক তিন পয়সা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মধুপাড়া গ্রামের সাজেদা বেগম জানান, এখন মনে খুব শান্তি পাইতেছি। আগে অনেকে অনেক বলেছে। এখন দেখি আসলেই সত্যি ঘর পাইতাছি। যা ভাবতে পারছেন না সে। তিনি জানান, অনেক কষ্ট করেছি, ১৬ সাল থেকে। একই অনুভূতি কৃষক অলিউর রহমানের। এতো সুন্দর ঘর পাবেন তা ভাবতে পারেন নি। পুনর্বাসন পল্লীর সঙ্গে মূল ওয়াপদা সড়কের সংযোগ সড়কটি করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১৬ ফুট প্রস্ত হচ্ছে এসড়কটি। জানালেন এলজিইডি কলাপাড়ার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের যথাযথভাবে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি এসব মানুষের কাছে তাঁদের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ বাস্তবে দৃশ্যমান করবেন আগামি ২৭ অক্টোবর। এ সবের সকল প্রস্তুতি চলছে।