১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধারাবাহিকতায় আস্থা

বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়া- তিনটি রাষ্ট্র সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রীকে যথেষ্ট আশাবাদী ও আত্মবিশ্বাসী বলেই প্রতীয়মান হয়েছিল। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিধর কয়েকটি দেশে তাৎপর্যপূর্ণ সফর থেকে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের প্রতি অন্যান্য দেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সেইসঙ্গে স্বদেশের ভাবমূর্তি সম্বন্ধে সম্যক ধারণা পাওয়া গিয়েছিল। বছরের শেষদিকে সৌদি আরবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরেও ইতিবাচক অর্জন ঘটেছে। সেই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তা সৌদি বাদশাহের উচ্চারণেই উঠে এসেছে। বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষিত হলে উভয় দেশের জন্যই সেটি ফলপ্রসূ হবে, দুদেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে- সে আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন বাদশাহ সালমান।

আমরা আগেও বলেছি গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। গণতন্ত্র বহাল থাকলে উন্নয়ন হয় দেশের, পক্ষান্তরে গণতন্ত্রবিরোধীরা ব্যাহত করে উন্নয়ন। তবে গণতন্ত্রকে আহত করে গণতন্ত্রবিরোধীরা নিজেদের আখের গোছানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয় না, তারা নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। এই গণতন্ত্রবিরোধীরা হতে পারে সামরিক স্বৈরশাসক, কিংবা ছদ্মবেশী গণতন্ত্রী। বাংলাদেশ তাদের প্রথম প্রত্যক্ষ করে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যাকা-ের পর। এখনও সেই অপশক্তি সক্রিয় বলেই গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়, উন্নয়নে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে, বাইরের অপবাদ জোটে। কয়েক মাস আগে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমালোচকদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের এত উন্নয়ন হচ্ছে। এ বক্তব্যে কোন যুক্তিশীল মানুষ দ্বিমত করবেন না। এইসঙ্গে এ সত্যও উচ্চারণ করতে হবে, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য দেশপ্রেমিক দায়িত্বশীল সরকারেরও ধারাবাহিকতা বাঞ্ছনীয়।

এ বছর রোমে এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে দুর্নীতিবাজ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিচার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িতদের বিচার হতেই হবে। যারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস করবে এবং জঙ্গীবাদে জড়াবে তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। দেশের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এটা প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে একটা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। আজকের বাংলাদেশ জাতির পিতার সেই লক্ষ্য সামনে নিয়ে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সারাবিশে^ সম্মান পেতে যাচ্ছি অতি শীঘ্রই। বর্তমান সরকারের সময়ে মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন সরকারপ্রধান। আন্তর্জাতিক নেতারা বাংলাদেশের নেতা শেখ হাসিনার প্রতি নানা সময়ে নানাভাবে তাদের আস্থা ও প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন। আশা করা যায় দেশবাসী দেশের জন্য কল্যাণজনক পথরেখার পক্ষে তথা সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষেই থাকবেন।