১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ইবি সংবাদদাতা ॥ ‘একটি রিকশা চাই, শৈশব ও কৈশরে ফিরে যাবার জন্য।’ নাজমুল হাসান নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে এই স্ট্যাটাসটি দেয়ার ২ ঘন্টা পর শুক্রবার সন্ধ্যার পর সাদ্দাম হোসেন হলের নিজ কক্ষে (২২৯ নং) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। নাজমুল হাসান সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার বারাত গ্রামের আব্দুল মালেক গাজীর ছেলে।

তার বন্ধুরা জানায়, নাজমুলের ৩য় বর্ষ চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে। সে সব সময় বলত আমার কোন পড়া মুখস্ত হয় না। যা পড়ি সবকিছু ভুলে যাই। কিছুই মনে রাখতে পারি না। সব সময় সে হতাশাগ্রস্থ থাকত।

সহপাঠিরা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে নাজমুল হাসান ক্যাম্পাসে ঘুরতে বের হয়। পরে সে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হলে ফিরে নিজ কক্ষে (২২৯ নং) নাদিম নামে একজনকে এসএমএস করে তার রুমে আসতে বলে। সে কক্ষের সামনে গিয়ে তার কক্ষ ভিতর থেকে বন্ধ পায়। পরে পাশের রুমের লোকজন ডেকে দরজা ভেঙ্গে ফেলে। পরে কক্ষের ভেতরে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় নাজমুলকে দেখতে পায় তারা। দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ বদিউজ্জামান নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাকে রাত ১১ টার দিকে লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, নাজমুল হাই প্রেসারের রোগী ছিল। আনেক দিন ধরে সে অসুস্থ্য। প্রতিদিন সে ১২টি করে ট্যাবলেট সেবন করত এবং সবসময় বিষণ্যতা ও হতাশার মধ্যে থাকতো। এছাড়াও তার মাইগ্রেন, চোখের সমস্যা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কক্ষ ও লাশ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসলে তার লাশ হস্তান্তর করা হবে।’