১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শালীনতাবোধ

শালীনতাবোধ সবার কাছ থেকেই প্রত্যাশিত। সমাজে একে অপরের সঙ্গে আলাপচারিতা, সম্ভাষণ এবং অভিমত প্রকাশে শালীনতা বজায় রাখবেনÑ এমনটাই কাক্সিক্ষত। তবে এর সঙ্গে শিক্ষা ও রুচির সম্পর্ককে অস্বীকার করা যায় না। শিক্ষার অভাবে অনেক সময় একজন মানুষের ব্যবহার ও আচরণে এমন কিছু প্রকাশিত হয়ে পড়তে পারে, যা শালীনতার সীমাকে অতিক্রম করে যেতে পারে। কারও কারও রুচিই থাকে এমন যে, কিছুটা অশালীন ইঙ্গিত না দিয়ে তারা কথাই বলতে পারেন না। এ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এক ধরনের আনন্দ কুড়িয়ে থাকেন। বলাবাহুল্য, এটি বিকৃত রুচিরই পরিচায়ক। মানুষ যত বয়স্ক, যত জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ হন, ততোই তার আচরণ ও বক্তব্য প্রকাশে সুমার্জিত ভাব ও বিবেচনাবোধের প্রকাশ ঘটে। ওই বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রাজ্ঞ প্রবীণের কাছ থেকে মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম শিক্ষালাভ করে থাকে। কিন্তু বয়স্ক ব্যক্তির আচরণে ও অভিমত প্রকাশে যখন বিবেচনাবোধ লোপ পায় এবং সেই সঙ্গে শালীনতাবোধও অতিক্রম করে যায় তখন সেটি হয়ে ওঠে দুর্ভাগ্যজনক।

এখানে বিশেষভাবে বলা দরকার যে, নারীর সঙ্গে আচরণে ও আলাপে পুরুষের আরও সচেতন থাকাটাই প্রত্যাশিত। নারীত্বের ওপর আঘাত হেনে পৌরুষ ফলানোর অগ্রহণযোগ্য আচরণ করে থাকে সাধারণত যুক্তিতে পরাস্ত অস্থির রাগী এবং কর্তৃত্বপরাষণ পুরুষ। এতে বিলক্ষণ নারী-পুরুষের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ঘরের ভেতর একজন নারীর প্রতি পুরুষ যদি অবাঞ্ছিত আচরণ করেন তাহলে সেটি ঘরের বাইরে নাও আসতে পারে। কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে কোন পুরুষ যদি কোন নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেন, যেটি শালীনতাবোধের সীমা অতিক্রম করে যায়, সেক্ষেত্রে সমাজে সমালোচনা তৈরি হয়। কিন্তু টেলিভিশনের মতো গণমাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং বয়সে যথেষ্ট প্রবীণ একাডেমিক উচ্চশিক্ষার সনদধারী ব্যক্তি যদি সন্তানের বয়সী একজন নারীর উদ্দেশে এমন কিছু বলেন, যা সরাসরি ব্যক্তি আক্রমণমূলক এবং শালীনতার সীমা অতিক্রমকারীÑ তখন সমাজে তার প্রকাশ্য প্রতিবাদ ওঠা স্বাভাবিক ও আবশ্যক। কেননা লাখ লাখ মানুষ সরাসরি সম্প্রচারিত ওই গর্হিত আচরণটি চাক্ষুষ করেছেন। তাছাড়া ওই প্রবীণ ব্যক্তিটি যদি হোন কিংবদন্তিতুল্য একজন ব্যক্তিত্বের সন্তান, সেক্ষেত্রে হতাশা ও ক্রোধও প্রবল হয়ে ওঠে। একটি বেসরকারী টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারকৃত টক শোয়ে সম্প্রতি এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাই ঘটেছে। প্রশ্নকারী নারী সাংবাদিকের ওপর ব্যক্তিগত আক্রমণ করে অশালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন একজন বয়স্ক ব্যারিস্টার। তবে বিষয়টি যে শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একদিকে পুরুষতন্ত্রের দাপট এবং অপরদিকে ব্যক্তিপুরুষের মনোজগতের অন্ধকার দিকটিকেই আলোয় নিয়ে এসেছে, সেকথা বলতে দ্বিধা নেই। ওই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নারী সাংবাদিকরা সঙ্গত কারণেই বিক্ষুব্ধ মত দিয়েছেন। সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওই বক্তব্যকে বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেয়া যায় না। কারণ আমরা মনে করি, মাসুদা ভাট্টি একজন নারী বলেই সরাসরি তাকে চরিত্রহীন বলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। তিনি সব নারীকে অপমান করেছেন। তাই মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে তার অপরাধ স্বীকারপূর্বক নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।’

আমরা মনে করি, এটি কেবল নারীদেরই প্রতিবাদ জানানোর বিষয় নয়। এমন প্রতিবাদ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেই ওঠা সঙ্গত। দুঃখজনক বিষয় হলো, শালীনতাবোধ ছাড়িয়ে যাওয়া আচরণের সমালোচনা করেই আজকে সমাজে শালীন আচরণ করার দাবিটি তুলতে হচ্ছে। তাহলে আর আমরা নিজেদের সভ্য, শিক্ষিত, রুচিবান এবং সুনাগরিক হিসেবে কিভাবে দাবি করতে পারি!