১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ জবির আধুনিকায়নে...

  • মোঃ তরিকুল ইসলাম

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের পছন্দের এবং গুণগতমানের দিক থেকে অন্যতম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর ‘জগন্নাথ কলেজ’কে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এটি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপে ছিল না। আইন এবং কাঠামোগতভাবে অনেক সমস্যা ছিল। যেমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ২৭(৪) ধারা নামে একটি কালো আইন বিদ্যমান ছিল। এই আইনে বলা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার ৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আয়ে চলবে। তার অর্থ হলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও তাদের নিজের টাকায় পড়াশোনা করবে। এখানে কোন সরকারী অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বাসা/বাড়িতে থাকতে হয়। এই মহাসঙ্কটের কারণে ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২৭(৪) ধারা বাতিলের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। সেই আন্দোলন ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে সচিবালয় ঘেরাও এর মতো কঠিন আন্দোলনে রূপ নেয়। তখন সেই সময়কার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনে অবাক হয়ে যান এবং শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সঙ্গে সঙ্গে ২৭(৪) ধারা বাতিল এর ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি সংসদে পাস করে ২৭(৪) ধারা স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেন। তারপর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এখন যেখানে একজন শিক্ষার্থী মাত্র তিন হাজার টাকায় এক সেমিস্টার শেষ করতে পারে, যদি ২৭(৪) ধারা বাতিল না হতো তাহলে এক সেমিস্টার শেষ করতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে লাখ টাকা গুনতে হতো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় সকল শিক্ষার্থীকে মেসে থেকে মানবতার জীবন যাপন করতে হয়। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টার শেষ করতে মেস ভাড়া এবং খাওয়া খরচ বাবদ প্রায় তিরিশ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয় এবং একই সঙ্গে মেসের নোংরা পরিবেশসহ নানা সমস্যা। একই সঙ্গে পরিবহন সঙ্কট থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অল্প কয়েকটা বাসে করে বাঁদুড়ের মতো করে ঝুলে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়। যার জন্য অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থী বাস থেকে পড়ে আহত-নিহত হয়। এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ করে আবাসনের জন্য হলের দাবিতে ২০১৫ সালে তীব্র আন্দোলন হয়। ২০১৫ সালের আগেও অনেকবার হলের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। ২০১৫ সালের আন্দোলন ছিল সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি শুনে হতবাক হয়ে যান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে একটি প্রকল্প দেবার ঘোষণা দেন। সেই লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসিক সঙ্কট দূরীকরণসহ একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি রূপকল্প তৈরি করতে বলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ডেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেয়া বার্তাটি শিক্ষার্থীদের কাছে এসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করে ক্লাসরুমে ফিরে যান। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারিত প্রকল্প পাস হয়। এ প্রকল্পে ২০০ একর জমির ওপর স্টেয়েডিয়াম, সুইমিংপুল, হেলিপ্যাড, খেলারমাঠসহ সকল প্রকার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এই প্রকল্প জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্র সৃষ্টি করে। এছাড়াও প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সঙ্কট, কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্কট দূরীকরণে নিয়োগ বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা অর্জনের জন্য এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেবার নির্দেশ দেন। সর্বোপরি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারই অবদান। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার চির কৃতজ্ঞ। এবারের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকছে নানা আয়োজন। আমরা শেখ হাসিনার এই অবদানের কাছে ঋণী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিকায়নের এই সফলতার সাথে শেখ হাসিনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

লেখক : ছাত্র নেতা