১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন তারেক ॥ মওদুদ

  • সংলাপের কোন বিকল্প নেই ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে নৌকার কোন অস্তিত্ব থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংলাপের কোন বিকল্প নেই। অপর এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে ফিরে অত্মসমর্পণ করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সরকারকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, সোজা রাস্তায় আসুন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। দেশের সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে আলাপ করুন। বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ করে সুষ্ঠু নির্বাচন কিভাবে হবে পথ বের করুন। এছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। দেশের মানুষের কল্যাণ আর শান্তিতে সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্যে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধান করুন। অন্যথায় এর সব দায়দায়িত্ব আপনাদের বহন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে কেন? বিরোধী দলের নেতাদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে কেন? উদ্দেশ্য একটাই রাজনীতিকে ধ্বংস করা। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান বলেই খালেদা জিয়া কারাগারে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, প্রতিশোধের রাজনীতিতেও বিশ্বাস করি না। সরকারী দলকে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা ভয় পাবেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন। আমরা ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐক্য গঠন করেছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দাবি-দাওয়া দিয়েছি।

ফখরুল বলেন, এ দেশের মানুষকে বোকা ভাববেন না। মানুষকে সব সময় নীরব ভাববেন না। তাদের যে রাজনীতিতে অনীহা, সেটাও ভাববেন না। এদেশের মানুষ বার বার তাদের নিজেদের প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে এসেছে এবং স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছে। দেশের মানুষ এতদিন সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। একটি মাত্র কারণ, আমরা বিশ্বাস করি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পরিবর্তন হোক। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। গণতন্ত্রের মাকে জেলে আটকে রেখে নির্বাচন করলে জনগণ মেনে নেবে না।

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশবাসী জেগে উঠবে, রাস্তায় নামবে। এজন্য সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না। আওয়ামী লীগের টার্গেট তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা, তারেক রহমানকে দূরে রাখা, ২০ দলকে দূরে রাখা। কারণ, তারা জানে খালেদা জিয়া নির্বাচনে এলে নৌকা নাই হয়ে যাবে এবং আওয়ামী লীগের কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিজেদের মধ্যেই কোন সমন্বয় নেই। একজন কমিশনার নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। বাকিরা একতরফা নির্বাচনের পক্ষে। সেখানে যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, সেটাই আজ রাষ্ট্রের চরিত্র। নির্বাচন কমিশন যদি সবকিছু উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, সেটা নিঃসন্দেহে অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সকল নেতাকর্মীকে মুক্তি দিতে হবে। নেতাকর্মীদের সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দিতে হবে। কারণ, সংসদ থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

ফখরুল বলেন, গোটা দেশে আজ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নামে মামলা ৯০ হাজার। এর মধ্যে গায়েবি মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গায়েবি মামলায় এখন পর্যন্ত আসামি করা হয়েছে ৫ লাখ। এই সরকার আসার পর থেকে সামগ্রিকভাবে মামলার আসামির সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে এনে সেখানেও ন্যূনতম সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। অনেক ঘটনার পরে তার চিকিৎসার মোটামুটি একটা ব্যবস্থা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৩ তারিখ সিলেটে জনসভা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা বলছে, নাশকতা হতে পারে। সুতরাং অনুমতি দেয়া যাবে না। আবার দেখা যাচ্ছে, সেখানে চরমোনাইর পীর সাহেব জনসভা করছেন। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাস্তাঘাট বন্ধ করে সরকারী টাকায় গাড়িঘোড়া নিয়ে এসে সভা করছেন। সেখানে কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা করলেই নাশকতার গন্ধ পায়। তিনি বলেন, ডাঃ জাফরুল্লাহর মতো মানুষ নাকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছেন। তার বিরুদ্ধে জমির মামলা হয়ে গেছে। কারণ একটাই তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এ বিষয়গুলো মানুষ বোঝে। মানুষকে বোকা ভাবার কোন কারণ নেই।

জাগপার সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের ছেলে রাশেদ প্রধান জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

]দেশে ফিরে অত্মসমর্পণ করবেন তারেক- মওদুদ ॥ লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রত্যাহারের দাবিতে মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। সারাদেশের মানুষ দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই ঐক্যের মাধ্যমেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো হবে।

মওদুদ বলেন, ২১ আগস্টে যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল তা একটি মর্মান্তিক ঘটনা। এটা অনেকটা জাতীয় ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা। আমরা এ ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা করেছিলাম। কিন্তু আজ এক বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে এই ভয়ঙ্কর ঘটনার বিচারকে বিতর্কিত করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার পর ইন্টারপোলের মাধ্যমে তদন্ত করেছিলাম। মুফতি হান্নানও প্রথমে এই হামলা একক সিদ্ধান্তে করেছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন। কোন তদন্ত বা স্বীকারোক্তিতেই কিন্তু কখনও তারেক রহমানের নাম আসেনি।

মওদুদ বলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার এই হামলার তদন্ত করেছিল। সেখানেও তারেক রহমানের নাম আসেনি। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মুফতি হান্নানকে অমানসিক অত্যাচার করে তারেক রহমান জড়িত বলে স্বীকারোক্তি নেয়। মুফতি হান্নান পরে আদালতে এই বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও আবেদন করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান যখন দেশে ফিরে আসবেন তখন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপীল করবেন। আদালত থেকে জামিন নেবেন এবং তিনি উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। তাই এই মামলা প্রত্যাহার হবে, রায়ও বাতিল হবে।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরও বক্তব্য রাখেন মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরজাহান ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি জেবা খান, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।