১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশে জাপানী বিনিয়োগ

  • রাবাত রেজা খান

পৃথিবীর পরিশ্রমী জাতিগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। অর্থনীতি, বিজ্ঞান, টেকনোলজি সবদিক দিয়ে জাপান খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগে থেকেই অনেক ভাল ছিল। জাপানী বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশীবআদস্বরূপ। অর্থনীতিতে যুক্ত করতে পারে নতুন মাত্রা।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে জাপানী কোম্পানি ছিল ৭০টি, ২০০৯ সালে ছিল ৮২টি, ২০১১ সালে ১১৩টি, ২০১৩ সালে ১৬৭টি, ২০১৫ সালে ২৩২টি, সর্বশেষ ২০১৭ সালে জাপানী কোম্পানি হয় ২৬৯টি। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে জাপানী কোম্পানিগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

গত এক দশকের মধ্যে বাংলাদেশে জাপানী কোম্পানির সংখ্যা বেড়েছে চারগুণেরও বেশি। বড় বড় কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে। ২০১৭ সালে জাপানী কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ১ হাজার ১৩০ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করছে যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৮৪০ কোটি টাকার সমান। এই টাকার ৮৭ শতাংশই হলো মূলধন। ২০১৬ সালে এই বিনিয়োগ আরও বেশি ছিল।

সম্প্রতি আরও কিছু বড় বড় জাপানী কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাপানের মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী কোম্পানি ইয়ামাহা বাংলাদেশে মোটরসাইকেল কারখানা করার প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী কোম্পানি হোন্ডা মুন্সীগঞ্জে ২৫ একর জমিতে মোটরসাইকেল সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনের কারখানা তৈরি করেছে যা চলতি বছর থেকে পণ্য উৎপাদন করতে শুরু করবে।

হোন্ডা মোটর কর্পোরেশনের বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ৩৬৯ কোটি টাকা। জাপানের আরেকটি বড় কোম্পানি সজিত কর্পোরেশন মিরসরাইয়ে একটি শিল্পপার্ক তৈরি করার জন্য ১ হাজার একর জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে। দেশের বিদ্যুত খাতের বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সামিট কর্পোরেশন ২৪ হাজার কোটি টাকার একটি বিদ্যুত প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে জাপানী কোম্পানি মিতসুবিশি। তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান জাপান টোবাকো বাংলাদেশের আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কিনে নিয়েছে। এই কোম্পানিটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন এ্যান্ড সুমিতমো মেটাল ইস্পাত কারখানার জন্য জমি নিয়েছে। শীঘ্রই কোম্পানিটি তাদের কারখানা চালু করবে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে যেমন ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ইত্যাদি দেশগুলোতে জাপান যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে সেটা বাংলাদেশে বিনিয়োগের তুলনায় আরও বেশি। বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাপানী কোম্পানিগুলোকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। জাপানী কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্বায়নের এই যুগে পৃথিবীর পরিসর এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে। জাপানী বিনিয়োগে অন্যান্য দেশের অর্থনীতি উপকৃত হতে পারলে আমরা কেন পারব না? অবারিত সুযোগ যেহেতু আছে, তাই জাপানী কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে সরকারকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। তাহলেই দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে, দেশ হবে উপকৃত।

নির্বাচিত সংবাদ