১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোংলায় পৌঁছেছে ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ

মোংলায় পৌঁছেছে ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ

অনলাইন রির্পোটার ॥ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা ইতালির নাগরিক ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ মোংলায় এসে পৌঁছেছে।

তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আজ দুপুরে মোংলার সাধুপালের ক্যাথলিক মিশনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে।

বেশ কিছুদিন অসুস্থ থেকে ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ইতালির ভিচেঞ্চায় মারা যান ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ পাওয়া ফাদার মারিনো।

আজ রবিবার ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ বাগেরহাটের মোংলায় নেওয়া হয়। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে মংলায় সমাহিত করা হবে।শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগ জানায়, বাংলাদেশ সরকার তার শেষ ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সরকারিভাবে তার মরদেহ ইতালি থেকে দেশের আনার পর দুপুরে বাগেরহাটের মংলার শেলাবুনিয়ায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর সেন্ট পল্স গির্জার পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।

মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে মংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে থিতু হন এবং সেখানে চার্চ ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ধর্ম প্রচারের গণ্ডির মধ্যে থেমে থাকেনি। বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবা ও দুঃস্থ নারীদের উন্নয়নে তিনি সব সময় উদ্যোগী ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর গির্জায় ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাসহ অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা প্রদানের পাশাপাশি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।ফাদার রিগন বাগেরহাট জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট পল্স হাসপাতালসহ প্রতিষ্ঠা করেন ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মোংলায় থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

এরপর ২০১৪ সালে তার ভাই মংলায় এসে তাকে ইতালিতে নিয়ে যান। সেসময় ইতালিতে মৃত্যু হলে তার মরদেহ মংলার সেন্ট পল্স গির্জার পাশে সমাহিত করতে হবে এই শর্তে তিনি ভাইয়ের সঙ্গে যেতে রাজী হন। গেল বছরের ২০ অক্টোবর স্বদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ২৪ অক্টোবর গ্রামেরই একটি ক্যাথলিক গির্জায় তার শেষকৃত্য হয়। এসময় তার কফিনটি ঢেকে দেয়া হয় লাল-সবুজের পতাকায়।

ভাইবোন এবং আত্মীয়-পরিজনকে স্মরণ করিয়ে দিতেন তিনি সমাহিত হবেন শেলাবুনিয়ার সাধু পলের গির্জার সামনে। তার পরিবার একটি বছর সময় নিয়েছে ঐকমত্যে পৌঁছাতে। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ছিল তার অন্তিম প্রয়াণ। পরে পরিবার সম্মত হয় ঠিক এক বছর পর ২০ অক্টোবর ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করবেন বাংলাদেশের মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামের উদ্দেশে।