১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর ॥ ৭১ টিভি চ্যানেলের টকশোতে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে কটূক্তি করায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে জামালপুর সদর সিআর আমলি আদালতে ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। রবিবার সকালে জামালপুর জেলা যুব মহিলালীগের আহ্বায়ক ফারজানা ইয়াসমিন লিটা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির বাদী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ মামলাটি আদালতে দাখিল করেন। নাজনিন আক্তার রুমীসহ আটজন নারীকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট সোলায়মান কবীর বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে আসামি ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ জারি করেছেন। আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। মামলার আরজিতে বাদী ফারজানা ইয়াসমিন লিটা বলেছেন, বিবাদী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১ টিভিতে ফারজানা রূপার উপস্থাপনায় সরাসরি সম্প্রচারিত ‘৭১ এর জার্নাল’ টকশোতে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন প্রখ্যাত নারীনেত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে মন্তব্য করেন।

তার ওই মন্তব্য মানহানিকর, শিষ্টাচার বহির্ভূত, নীতি-নৈতিকতা বর্জিত এবং সমগ্র নারী সম্প্রদায়ের প্রতি অবজ্ঞা ও মানহানিকর। মামলাটির আরজিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পীকার, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী, মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক বিচারপতি, সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের অসংখ্য নারী কর্মকর্তাসহ আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ সকল পেশায় নারী সম্প্রদায় কর্মরত থাকায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করায় নারী সমাজের প্রতি অবজ্ঞা ও চরিত্রহরণের অপচেষ্টা করেছেন।

এতে মামলাটির বাদী চরমভাবে অপমানিত এবং মানহানিকর পরিস্থিতিতে নিপতিত হয়েছেন, যা অর্থের মানদন্ডে পূরণ করা সম্ভব নয়। বিবাদীর উক্ত মন্তব্য বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য একটি অপরাধ। তাই নারী জাতির সম্মান, মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার্থে বিবাদী ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২০ হাজার কোটি টাকার মানহানির এই মামলাটি দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।