১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা

বিজয়া দশমীর দিন ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর জেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৬২ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহতের খবরটি মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। উল্লেখ্য, বিজয়া দশমীর দিন বাংলার বাইরে প্রায় সর্বত্র পালিত হয় দশেরা উৎসব। রাবণ তথা অসুর বধকে কেন্দ্র করে খুব ধুমধাম করে পালিত হয়ে থাকে এই উৎসব। দশেরা উপলক্ষে বিপুল আতশবাজি ও শব্দবাজি পোড়ানো হয়। পাঞ্জাবের অমৃতসর ও মানেওয়ালার মাঝখানে ভারতীয় রেলের ২৭ নম্বর রেলের দু’পাশে দশেরা উৎসব উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক ভক্তের মহাসমাবেশ ঘটে থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে অন্যান্য বছর এ সময়ে রেল চলাচল বন্ধ থাকে অথবা ট্রেন চললেও যায় শ্লতগতিতে। এবারই হঠাৎ করে উক্ত স্থান অতিক্রম করছিল দ্রুতগতির একটি ট্রেন। এ সময় মুহুর্মুহু আতশবাজি ও শব্দবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। যে কারণে লাইনের ওপর ও দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন আসন্ন ভয়াবহ বিপদ সম্পর্কে আদৌ টের পায়নি। মূলত এর জন্যই ভয়াবহ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পাঠানকোট থেকে আগত দ্রুতগতির ট্রেনটি যখন অকস্মাৎ এসে পড়ে লাইনের ওপর ঠিক তখনই আতঙ্কগ্রস্ত মানুষজনের হুড়োহুড়িতে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দেয়। ফলত বেড়ে যায় নিহত ও আহতের সংখ্যা। এমনিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেলওয়ে নেটওয়ার্কের দেশ ভারতের রেল ব্যবস্থা অত্যন্ত সুলভ, আরামদায়ক সর্বোপরি নিরাপদ। এর পরও সংঘটিত দুর্ঘটনাটি নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতার বিষয়টিকেই তুলে ধরে, যার কারণ উঠে আসতে পারে যথাযথ তদন্তে। ইতোমধ্যে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছে।

তুলনায় বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত অপরিকল্পিত, অগোছালো, দুর্বল ও ভঙ্গুর, সর্বোপরি অলাভজনক। সারাদেশে এক হাজার ৫০৭টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অরক্ষিত। অন্তত অর্ধেক ক্রসিংয়ে আদৌ কোন গার্ড নেই। প্রধানত এ কারণেই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে প্রায়ই। প্রতিমাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৪ থেকে পাঁচটি। মৃত্যুর হারও কম নয়। সারাদেশে ট্রেনে কাটা পড়ে ও দুর্ঘটনায় গত পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৪৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে ৪ হাজার ৪০৬টি। এ সময়ে রেললাইনে নানাভাবে হত্যা করা হয়েছে ১৩৪ জনকে। সর্বশেষ শুক্রবার রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ট্রেনের সঙ্গে নসিমনের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে পাঁচজনের। আরও যা অবাক ব্যাপার, তা হলো রাজধানীসহ সারাদেশে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃতের মধ্যে বড় একটি অংশের মৃত্যু হয়েছে কানে সেলফোন লাগিয়ে রেললাইন অতিক্রম করার মুহূর্তে।

আশার কথা এই যে, বর্তমান সরকার রেল যোগাযোগের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের সহযোগিতা ও সহায়তাও নেয়া হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় এক শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নেয়া হয়েছে রেলক্রসিংগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা। যথাযথভাবে তা বাস্তবায়িত হলে রেল দুর্ঘটনার হার কমে আসবে বলে আশা করা যায়। ভারত ও বাংলাদেশের মতো ঘনবসতি ও লোকসংখ্যা অধ্যুষিত দেশে ট্রেন দুর্ঘটনা একেবারে এড়ানো যাবে না। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, সতর্ক সঙ্কেত, নিরাপত্তা ইত্যাদি নিশ্চিত করা গেলে ট্রেন দুর্ঘটনার হার কমে আসবে নিঃসন্দেহে। ভারতের ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য রইল গভীর সহানুভূতি এবং সমবেদনা।

নির্বাচিত সংবাদ