১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে...

  • সিডনির মেলব্যাগ

অজয় দাশগুপ্ত ॥ একেক করে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে। ড. কামাল হোসেনের এজেন্ডা এখন পরিষ্কার। তিনি একদিকে রাষ্ট্রপতি হতে চান, আরেক দিকে শেখ হাসিনার সরকারের পতন। মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম বললেও বাস্তবে তাঁর মাথায় অন্য এজেন্ডা। আসম রব বা মান্নার চেয়েও ভয়ঙ্কর তিনি। কারণ, তাঁর একটা সামাজিক মুখোশ আছে। অনেককাল আগে ঢাকার রাস্তায় বিএনপির দেয়া একটা দেয়াল লিখন মনে পড়ছে। তারা তাদের প্রার্থীর সমর্থনে ড. কামাল হোসেনের বিরোধিতা করতে গিয়ে লিখেছিলÑ ‘জ্ঞানী শত্রুর চেয়ে মূর্খ বন্ধু উত্তম।’ কে লিখেছিল বা কার মগজ প্রসূত জানি না তাকে পেলে আমি অন্তত পুরস্কৃত করতাম। এমন অমোঘ সত্য কিভাবে তিনি বুঝেছিলেন। অথচ দুর্ভাগ্য, আজ বিএনপি নিজেই এই জ্ঞানপাপী দোস্তের কাছে ধরা খেয়ে গেল।

মাহী বি. চৌধুরী এখন যাই বলুক না কেন তার পিতা কিন্তু জোটেই গিয়েছিলেন। আমি পেলে আঙ্গুর মিঠা আর আমি না পেলে আঙ্গুর টক এটা কোন কথা না। যদি এমন হতো সব ঠিকঠাক আর আপোসে চলছে বি. চৌধুরী কি চলে আসতেন? আসতেন না। কারণ থলের বিড়ালরা কে কেন গেছেন সেটা এখন স্পষ্ট। রাজনীতি থেকে মুছে যাবার সময় এসেছে বলেই আসম রব বা মান্নারা তৎপর। তাদের আসল উদ্দেশ্য জনগণ নয়। তাদের মূল চাওয়া ভাগ। সে ভাগ যতদিন না পাবেন তারা এমন করতেই থাকবেন। এদিকে শেখ হাসিনা টের পেয়ে গেছেন এদের দৌড় কতদূর। তাই তিনি আগের মতো দলবদলের বলদ দিয়ে হালচাষে রাজি নন। ফলে এদের হাতে একটাই অস্ত্র। জোট বেঁধে ঘোট পাকানো। বোঝার ওপর শাকের আঁটি জুটেছে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের আস্ফালন চলছে অনেককাল ধরে। নতুন যে জোটটি গঠিত হয়েছে এবং জোট গঠনের আগেই যেখানে ভাঙ্গনের পদধ্বনি সেখানে শীতের পাখি এই মইনুল হোসেন। বরাবরই তাই। সুযোগ্য নির্ভীক ও দেশদরদী সাংবাদিক মানিক মিয়ার কুযোগ্য পুত্র। পিতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ। ইত্তেফাক ছিল মুক্তিযুদ্ধের আশা-জাগানিয়া খবরের কাগজ। কথিত আছে মানিক মিয়ার মৃত্যুর পর ঢাকায় লাশ দাফনে পাকিস্তানী সরকারের গড়িমসি ও জায়গা না দেয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু নাকি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন একদিন দেশ স্বাধীন হলে ঢাকার বড় রাস্তার নামকরণ করা হবে মানিক মিয়ার নামে। হয়েছেও তাই। অথচ মইনুল হোসেন ঘোর আওয়ামী বিরোধী। তাও এখন থেকে না সেই চুয়াত্তর থেকে। সে সময় একগাদা রাজাকার আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাংবাদিকে ভরা ইত্তেফাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুঁড়িয়ে দেয়ার ভয়াবহ স্মৃতি ভুলে হয়ে উঠেছিল বঙ্গবন্ধু বিরোধী আস্তানা। মাছ ধরার জাল পরিহিত বাসন্তির ছবি ছেপে প্রমাণ করতে চেয়েছিল দেশে মানুষের কাপড় পর্যন্ত নেই। পরে তথ্য প্রমাণসহ বাস্তবতা বলে দিয়েছেÑ যে সময় দরিদ্র বাসন্তিকে ঠকিয়ে এমন ছবি ছাপানো হয় তখন কাপড়ের দাম ছিল মাছ ধরার জালের চাইতে কম।

বরাবর কটুভাষী চেহারা সুরতে উগ্র মইনুল হোসেনরা তো অনেক কা- করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে থাকাকালীন ইত্তেফাকের মালিকানা নিয়ে গোলাগুলি মারা যাবার ঘটনা ঘটলেও কোন এক অশুভ শক্তির দাপটে তিনি বেঁচে যান। শুধু বাঁচা না, একসময় পটপরিবর্তনের নামে তিনি ওয়ান ইলেভেন সরকারের সঙ্গেও যুক্ত হন। যথারীতি ছিটকেও পড়েন। কিন্তু বরাবরই তাঁর ভাষা আর আচরণ অসংযত। কোথা থেকে এই সাহস পান বলা মুশকিল। তাদের আমলের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক না। মানুষ এখন সভ্য ভদ্র মিডিয়ানির্ভর প্রাণী। মানুষকে বোকা বানানোর যেমন দিন নেই, তেমনি মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার দিনও বিগত। এখন আমাদের মিডিয়ায় নারী শক্তির প্রভাব আনন্দের। তারা আছেন বলে অনেক অকপট আর নির্জলা সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিনন্দন মাসুদা ভাট্টিকে। মাত্র এক প্রশ্নে এই লোকের মুখোশ খুলে দিতে পারার জন্য। আর ওই এক প্রশ্নবাণে তিনি দুটো বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন এক. তিনি মূলত জামায়াতের লোক। দুই. আর যাই হোক না কেন কোনভাবেই ভদ্র বা রুচিসম্পন্ন মানুষ তিনি নন। সামাজিক মিডিয়ায় তার কথোপকথন দেখলাম। গোড়া থেকে তেতে থাকা বয়সী মইনুল হোসেনরা আপডেটেড মানুষ নন। তাদের ধারণা নেই দুনিয়া এখন কোথায়। সামান্য একটা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি একজন সাংবাদিককে ‘চরিত্রহীনা’ বলার ধৃষ্টতা দেখালেন। এর একটা জবাব সংবাদ মহলকে দিতেই হবে। আমার মনে হয়েছে শারদীয় উৎসবের সময় এ যেন দেবীর সঙ্গে অসুরের লড়াই। আর এই অসুর নিজেকে যতই শক্তিশালী মনে করুক না কেন পতন তার অনিবার্য। ভদ্রতা সভ্যতা শিষ্টতাহীন এমন মানুষ ভুলে যায় এদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। এদেশের বিরোধী দলের নেত্রী একজন নারী। স্পীকার একজন নারী। এমন কি কারাবন্দী বিগত প্রধানমন্ত্রীও একজন নারী সেখানে সে দেশের টিভিতে এমন কথা বলার জন্য শাস্তি হওয়াই উচিত। আপনারা যে যেভাবে দেখেন না কেন, এটাও টিজিং। আর দশটা টিজিং এর মতো এর বিচার না হলে মইনুল হোসেনরা মনে করবেন তারা সব পারেন।

জী-না আপনারা সব করতে বা বলতে পারেন না। এবার যেন সে লেসানই দেয়া হয় তাকে। যাতে আমরা ভদ্রভাবে বাঁচার মতো একটা সমাজ পাই। এরা নাকি আবার দেশের নেতা। পিতার নাম ডোবানো পুত্র এককালে আওয়ামী নেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের মতো দল ও জাতির পিতার নাম ডোবানোর মানুষগুলো আর কতদিন তাদের স্বেচ্ছাচারিতা চালাবে? তাদের লাগাম টেনে ধরার সময় এসেছে এখন। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে জোট বানানো বা জোট হওয়ার ঘটনা উপমহাদেশে পুরনো। না হলেই বরং অস্বাভাবিক। ভাবতে অবাক লাগে আমাদের দেশের এবারে যে জোট তার না আছে কোন আদর্শ না কোন সংকল্প। মানুষ কি এত বোকা যে মনে করে নেবে এরা এলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? যারা নারীকে সম্মান দিতে জানে না তাদের মুখোশ খুলে দিতে না পারলে এমন সংরাই আমাদের রাজনীতির পুরোভাগজুড়ে বিরাজ করবে। মনে করি, আজকের বাংলাদেশ আজকের প্রজন্ম বা জনগণ এটা ডিজার্ভ করে না। তাদের সামনে নতুন রক্ত আর মেধার বিকল্প নেই। এসব বাতিল মাল আর থলের বিড়ালের গলায় দড়ি বাঁধার নেতারা কোথায়? তারা কি এগিয়ে আসবেন?

শেখ হাসিনার সরকারের বিরোধিতা আর তাঁকে সরানোর জন্য নোংরামি এক বিষয় না। তিনি যদি ভুল করেন বা করে থাকেন তার গঠনমূলক সমালোচনা করুন। উড়ে এসে জুড়ে বসে ডান বাম এমনকি জামায়াত মিলে যা খুশি তা করবেন আর সবাই বসে বসে দেখবে এমন ভাবা ঠিক না। আপনাদের আন্তর্জাতিক মুরব্বিরা আগেও চেষ্টা করেছিল। কামিয়াবী পায়নি। এখন আর আগের দুনিয়া নেই। যে পাকিস্তান চাইলেই আমেরিকাকে চটিয়ে কাম হাসিল করতে পারে। চীন-ভারত আপনাদের কথা থোড়াই শুনবে। যে অবৈধ অর্থ আর লবিংয়ের জোরে বিড়ালেরা থলের বাইরে তাতে টান পড়লেই সুড়সুড় করে থলের ভেতর ঢুকে যাবে। ফলে এদের থেকে সাবধান জাতি।