১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে

 দশ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হবে
  • কিশোর-কিশোরী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে এখনও তিন কোটি মানুষ দরিদ্র যাদের মধ্যে এক কোটি অতিদরিদ্র। দেশে যে হারে দারিদ্র্য কমার কথা ছিল সে হারে কমছে না। তবে বছরে দুই শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমিয়ে আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করার আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘মেধা ও মননে সুন্দর আগামী’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া কিশোর-কিশোরী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সাবেক ডেপুটি গবর্নর নাজনীন সুলতানা, পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের বার্ষিক দারিদ্র্য দূরীকরণ হার এখনও দুই শতাংশের যথেষ্ট নিচে রয়েছে। এটাকে দুই শতাংশে যদি আমরা নিতে পারি

তাহলে হয়ত আগামী ১০ বছরে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করতে পারব। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে দারিদ্র্যসীমা অন্তত ১০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা। এ জন্য আমরা যে কার্যক্রম গ্রহণ করছি সে অনুযায়ী যদি ৭-৮ বছর চালিয়ে যেতে পারি তাহলে সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছে যেতে পারি। দারিদ্র্য বিমোচনে নেয়া কর্মসূচীগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে মুহিত বলেন, যেভাবে দারিদ্র্য কমছে, এতে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে আরও ৭-৮ বছর সময় লেগে যাবে। চলমান এসব কর্মসূচী নিয়ে নতুন করে রিভিউ করতে হবে। যদি কর্মসূচীগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে যথেষ্ট না হয় তাহলে প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচী নিতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে সার্বিক দারিদ্র্যের হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। অতিদারিদ্র্যের হার নেমেছে ১১ দশমিক ৩ শতাংশে।

মুক্তিযুদ্ধ সময়ের কঠিন পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ধ্বংসযজ্ঞ এবং হত্যাযজ্ঞের কারণে মানুষের কাজ করার সুযোগ ছিল না। আমাদের দেশ থেকে এক কোটি মানুষকে দেশ ছাড়তে হলো শুধু জীবন রক্ষার্থে। আর দেশের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ সারাটি বছর পালিয়ে বেড়িয়েছে; যাতে অত্যাচারের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়, অর্থাৎ দেশের অর্ধেক মানুষ তখন কাজ করেনি। তিনি বলেন, ওই অবস্থায় আমরা যখন দেশটাকে স্বাধীন করলাম তখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা হলো এ দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা। তখন দেশের অন্তত ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, সম্ভবত এটা ৮০-৯০ ভাগও হতে পারে। এদের উন্নয়নই হলো আমাদের দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র। প্রথম দিনই সেটা উন্নয়নের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। আজও সেটা একই কাজই করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে এই নয় যে, দেশে কোন গরিব লোক থাকবে না। কিছু দারিদ্র্য সব সময় থাকবে। প্রতিবন্ধী যারা আছে, বিধবা বা অসহায় বৃদ্ধ যারা আছেন তারা কোথায় যাবেন। তাদের রাষ্ট্রের দেখাশোনা করতে হবে এবং রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় যে কোন দেশের ১০ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ অবস্থান করে। আমেরিকার মতো অত্যন্ত ধনী দেশেও ১৪ শতাংশ মানুষ গরিব। তবে মালয়েশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে কম, মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে আছে। তবে আগামী ৭ থেকে ১০ বছর অত্যন্ত মূল্যবান সময় বলেও জানান মন্ত্রী।

দেশের অর্থনীতির এ রকম অবস্থার উন্নয়নে কিশোর-কিশোরীদের ভূমিকা উল্লেখ করে মুহিত বলেন, সোনার বাংলা গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। আজকের কিশোর-কিশোরীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত, তারাই দেশের নেতৃত্বে আসবে। এজন্য নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে উন্নয়নকে টেকসই করতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচীর আওতায় দেশের প্রায় ১১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় একলাখ শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৭১০ জনকে বাছাই করা হয়। বাছাই করা কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন ২০১৮’ আয়োজন করা হয়েছে। নবম হতে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতা অংশ নেয়।