১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১৩ পেশাদার ক্লাবের লাইসেন্স নেই ৯টিরই

রুমেল খান ॥ ভাবতে অবাক লাগে, পেশাদার ফুটবল লীগ শুরু হয়েছে প্রায় একযুগ আগে। অথচ বেশিরভাগ ক্লাবই এখনও অপেশাদারই রয়ে গেল। অথচ পেশাদার ফুটবলের মূল শর্তই হচ্ছেÑ ক্লাবগুলোর এএফসি ক্লাব লাইসেন্স থাকতে হবে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে এই শর্ত মানছে না ঢাকার ক্লাবগুলো। আবার অনেক ক্লাবের লাইসেন্স থাকলেও সেটা আবার নবায়ন করছে না।

পেশাদার লীগ খেলায় অংশ নেয়া দলগুলোর বেশিরভাগেরই লাইন্সেস নেই। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এএফসি ডেভলপমেন্টের দুই কর্মকর্তা যোগেশ দেশাই ও দোমেকা গ্রামান্দি ঢাকায় এসে ক্লাব লাইসেন্সের ওপর গুরুত্বরোপ করে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) তখন বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াস ছিল। তারা তখন ক্লাবগুলোকে এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল- এএফসি ক্লাব লাইসেন্স না থাকলে পেশাদার লীগে অংশ নিতে দেয়া হবে না। কিন্তু বাফুফের ওই আলটিমেটামকে থোড়াই কেয়ার করেছে বেশিরভাগ ক্লাব। আর কথাকে কাজে পরিণত করার জন্য ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বাফুফের সুনাম তো আগে থেকেই আছে! তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে অংশ নেয়া ১৩ ক্লাবের মধ্যে ৯টি ক্লাবেরই এএফসি ক্লাব লাইসেন্স নেই। উদাহরণস্বরূপ এবারের ফেডারেশন কাপে যদি রহমতগঞ্জ চ্যাম্পিয়ন হয় তারপরও তারা এএফসি কাপে খেলতে পারবে না। কারণ তাদের ওই লাইসেন্সটি নেই।

রহমতগঞ্জের মতো এরকম চড়া মাসুল দিতে হতে পারে লাইসেন্সবিহীন ক্লাব ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, ব্র্রাদার্স ইউনিয়ন, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, টিম বিজেএমসি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র এবং নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবকে। এদের যে কোন একটি ক্লাব ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন হলেও পরবর্তীতে এএফসি কাপে না দেখলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) অধিভুক্ত টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নিতে হলে এএফসি ক্লাব লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ঘরোয়া আসরে চ্যাম্পিয়ন অথচ এই লাইসেন্সটি নেই, এমন হলে ওইসব ক্লাব পুরোপুরি অপাংক্তেয় এএফসির কাছে। এএফসির এসব নিয়মনীতি বাস্তবায়ন করতে না পেরে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বাফুফে।

পেশাদার ফুটবল লীগের গত আসর শেষ হয়েছিল ডিসেম্বরে। ওই আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এএফসি কাপে সরাসরি চূড়ান্তপর্বে খেলেছিল ঢাকা আবাহনী। তার আগে ফেডারেশন কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। তাদের লাইসেন্সও ছিল। ফলে প্রিমিয়ার লীগ থেকে আরেকটি ক্লাব খেলেছিল এএফসি কাপে। সেরা চারে থাকা ছাড়াও লাইসেন্স ছিল বলেই এএফসি কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডে খেলেছিল সাইফ। এশিয়ার আসরে এবার খেলার সুযোগ থাকছে একটি ক্লাবের।

ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন দলকে এএফসি কাপে খেলার সুযোগ দেবে এএফসি। কিন্তু শর্ত ওই একটাই- লাইসেন্স থাকতে হবে। নিয়মানুযায়ী ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি কাপে সরাসরি খেলবে। আরেকটি দল প্রিলিমিনারি রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেত ঠিকই। কিন্তু এএফসি বর্তমান লীগ চ্যাম্পিয়ন দলকেই চাচ্ছে। তবে বাফুফে যে পঞ্জিকা প্রণয়ন করেছে তাতে লীগ তো এএফসির বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে শেষ হবে না। এ কারণেই ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি কাপে খেলার সুযোগ পাবে। তবে অবশ্যই ক্লাবটির লাইসেন্স থাকতে হবে। নয়তো সেই ক্লাবটি এএফসি কাপে খেলতে পারবে না।

তার মানে লাইসেন্স আছে মাত্র চারটি দল-ঢাকা আবাহনী, বসুন্ধরা কিংস, শেখ রাসেল এবং সাইফ স্পোর্টিংয়ের। তার মানে দাঁড়াচ্ছেÑ তাদের যে কোন একটি দল এবারের ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিততে না পারলে আগামী বছর এএফসি কাপে বাংলাদেশের কোন ক্লাবকে দেখা যাবে না।

উল্লেখ্য, গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগ হয় বর্ষা মৌসুমে। অনুপযোগী মাঠে খেলা শেষ করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত লাগিয়ে ফেলে বাফুফে। সেই ঝামেলা এড়াতে এবার তাদের লক্ষ্য শুকনো মাঠে পেশাদার লীগ আয়োজনের জন্য শীত মৌসুমে খেলা চালানো। আচমকা এই সূচী পাল্টানোর দরুন এই মৌসুমে ঘরোয়া লীগ চ্যাম্পিয়ন কোন ক্লাব এএফসি কাপে খেলতে পারবে না। তবে নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব এএফসি কাপের পরের আসরে খেলতে পারবে। হয়তো এক বছর ছাড় দিতে চাচ্ছে বাফুফে।