১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওটা অগ্নিসন্ত্রাসীদের ঐক্য ॥ এখানে রাজনীতি কোথায়? রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছি না

ওটা অগ্নিসন্ত্রাসীদের ঐক্য ॥ এখানে রাজনীতি কোথায়? রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছি না
  • গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী;###;নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে চরম ব্যবস্থা হুঁশিয়ারি ;###;নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা ছোট না করার ইঙ্গিত ;###;বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন সৌদি বাদশাহ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে সাধুবাদ জানালেও অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা হলে তা মোকাবেলায় চরম ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি বলেন, এখানে খুনী, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গীবাদ, জাতির পিতার খুনী, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নরা মিলে ঐক্য করেছে। এখানে স্বার্থ ছাড়া তো রাজনীতি নেই। সবাই মিলে এক জায়গায় হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে দেখেন সেটাই বিষয়। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে। নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষমতা সরকার ও আওয়ামী লীগের রয়েছে। খুনী, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসীরা এক হয়েছে। এখানে রাজনীতি কোথায়? আমি তো রাজনীতিটা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি দেখছি, কয়েকটা স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে।

২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার পুনর্বার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ বেঁচে আছি বাংলাদেশের মানুষকে আর আন্দোলনের নামে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার হতে দেব না। এ ধরনের ঘটনা যদি কেউ করার চেষ্টা করে তা মোকাবেলায় যা যা করার প্রয়োজন হবে তার সবই করা হবে। অতীতের মতো দেশের জনগণই যে কোন ধরনের অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতাকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে, রুখে দাঁড়াবে।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আগামী নির্বাচনের অঙ্গীকার কী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেটা প্রমাণ করার দরকার ছিল যে আমরা উন্নয়ন করতে পারি, সেটা আমরা করেছি। আমরা দিনবদল করতে পেরেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত। আমার লক্ষ্য, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেটুকু বাকি আছে আরেকবার ক্ষমতায় এলে সেটুকু আমরা করতে পারব এ বিশ্বাস আমার আছে। অন্তত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। এটুকু করতে পারব, এ বিশ্বাস আমার আছে।

সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরে ফিরে আগামী নির্বাচন, বিরোধী জোটের ঐক্য, নির্বাচনকালীন সরকারসহ রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাস্যোজ্জ্বলভাবেই সব উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও তার ওপর আস্থা রাখবে বলেও দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, দলের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপিসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে প্রস্তুত সরকার ও আওয়ামী লীগ ॥ নির্বাচনের প্রাক্কালে নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চিরাচরিত বিষয়। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছি। তার কারণ জনগণই আমাদের কাছে মূল শক্তি। জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আমার আছে। তাই আমার বিশ্বাস, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হবো।

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনভাবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন না থাকে। আর ধারাবাহিকতা না থাকলে তো কিছু লোকের সুবিধা হবে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যে সময় তারা নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা দেবে, ঠিক সে সময়েই নির্বাচন হবে। আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের কেউ চেষ্টা করলে তা মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। কেউ ফের অগ্নিসন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করলে দেশের জনগণ আবারও তাদের রুখে দেবে। দেশের জনগণকে আমি আহ্বান জানাব, এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান।

স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার সকলের ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। রাজনীতিতে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলারও স্বাধীনতা আছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে, সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা) সেখানে যুক্ত হয়েছেন, তারা কেমন? দেশের মেয়েদের প্রতি কেমন মনোভাব সেটাও সবাই দেখেছেন। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী, খুনী, সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, এতিমের টাকা আত্মসাত করে কারাদ-িত, একুশের আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারী, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের লালন-পালন ও পুরস্কৃতকারীরা এক হয়েছেন। ড. কামাল হোসেনরা তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। অনেকেই (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের) আওয়ামী লীগে ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগ থেকে চলে গিয়ে জোট করেছে আওয়ামী লীগেরই বিরুদ্ধে। এখন তো ইমার্জেন্সি নেই, মার্শাল ল’ নেই। গণতান্ত্রিক ধারায় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। রাজনীতিকে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গি- সেটাও দেখতে হবে। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না। বরং ভালই হয়েছে সব ধরনের লোক মিলেই একটা জোট হয়েছে। বাংলাদেশ মানুষ এটাকে কীভাবে দেখছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে করুন। এখানে অসুবিধার তো কিছু নেই।

ঐক্যফ্রন্টের মোট দাবি কত দফায় দাঁড়ায় দেখি ॥ ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে তারা ৫ দফা দাবি দিল। পরে আবার হলো সাত দফা। আগামী নির্বাচনের আগে তাদের দাবি মোট কত দফায় দাঁড়ায় তা আগে দেখি। আর সরকারে সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা কোন চিঠি পাইনি।

ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন কার সঙ্গে ঐক্য করেছেন? ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের দ-প্রাপ্ত আসামি, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মানিলন্ডারিং মামলার দ-িত আসামি যে দলটির নেতৃত্ব দেয় (বিএনপি), সেই দলের নেতৃত্ব মেনে তিনি ঐক্য করেছেন। যিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার নামে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়েছিলেন, তিনিও (ব্যারিস্টার মইনুল) এই ঐক্যে রয়েছে। ড. কামাল হোসেন যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদর-আলশামস, যারা (বিএনপি-জামায়াত) পুড়িয়ে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে এক হয়েছেন। খুনী, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, জঙ্গীগোষ্ঠীদের সঙ্গে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এখানে রাজনীতি কোথায়? এখানে তো রাজনীতি নেই, এটা স্বার্থান্বেষীদের নিয়ে এই ঐক্য।

তিনি আরও বলেন, ড. কামাল হোসেন যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই কামাল হোসেনই ’৭২-এর সংবিধান নিয়ে আপত্তি আছে বলে জানিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন নিজেকে সংবিধানের প্রণেতা বলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করেন তো, ৭২-এর সংবিধান নিয়ে তিনি আপত্তি করেন কি-না? তিনি বলেন, মানুষ আমাকে চাইলে ভোট দেবে, না চাইলে দেবে না। আমরা যেটুকু করার ছিল করেছি। দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলাম তা করেছি। তবে দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস রয়েছে। আমরা শক্তিও দেশের জনগণ।

মইনুল ইংরেজী খাবার খেতে শিখলেও ব্যবহার শেখেনি ॥ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের একজন নারী সাংবাদিক সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে বার-এট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা ও ভাষা শিখতে পারেননি। সেই আমলে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া কম কথা না। কিন্তু তিনি গিয়ে শিখলেন ইংরেজদের খাবার খাওয়ার কায়দা। ইংরেজ খাবার ছাড়া তিনি খেতে পারতেন না। তার অবস্থাটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হওয়ার মতো। তিনি ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, কথা বলা শিখেননি। এটাই হলো বাস্তবতা, এই হলো সেই লোক।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা সরকার প্রধান বলেন, একজন নারী সাংবাদিককে তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা অত্যন্ত জঘন্য, বাজে। তার বাচনিক ভঙ্গি, এ্যাটিচিউড সবই খারাপ। তার কাছে মানুষ কী আশা করব? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তো তিনি পাকিস্তানের দালালি করেছেন। ইত্তেফাকের সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা। এর জন্যও তিনি কম দায়ী নন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনী মোশতাক যে দল করেছিল, সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্যারিস্টার মইনুলের। উনি কিন্তু পরে একটা দলও করেছিলেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি যারা, তাদের নিয়ে তিনি দল করেছিলেন। ইত্তেফাকেও তো মার্ডার করে ভাইকে (বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের যে জমি, সেটা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। তাদের জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে মামলা আছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে দেখেন। তার (ব্যারিস্টার মইনুল) আসলে গুণের শেষ নেই।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বাবা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুসম্পর্কের সুবাদে মইনুল হোসেনের জীবনের অনেক তথ্যই জানেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উনি সেই আমলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। এইটা তো কম কথা না। তিনি ব্যারিস্টারি পাস করে সাহেব হয়ে ফিরলেন। তিনি আর বাংলাদেশী খাবার খেতে পারেন না, তার সাহেবি খাবার দরকার। মানিক কাকা (তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া) আমার মায়ের কাছে এসে আফসোস করে বলেন, ছেলে তো ইংরেজ খাবার ছাড়া কিছু খায় না। সেই যুগে মানিক কাকা ছেলের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি রাখলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে মইনুল হোসেন ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেননি, এ্যাটিকেট শিখেননি, কথা বলা শিখেননি। এসব কথা সবার জানার কথা না। আরও জানি, এখন বলব না, পরে বলব।

মন্ত্রিসভা ছোট না করার ইঙ্গিত ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা ছোট না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, সব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। মন্ত্রিসভা ছোট করলে সে কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। তিনি চান উন্নয়ন কাজ যেন একদিনের জন্যও থেমে না থাকে।

এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের বেশি বাকি নেই। কাকে যে ছোট করব সেটাতো খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে কি অসুবিধা আছে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমি বিএনপিকে বলেছিলাম আসুন আমরা সব দল নিয়ে একটি বড় মন্ত্রিসভা করি। সেখানে আপনারা আপনাদের পছন্দমতো মন্ত্রণালয় নিবেন। সেটা কিন্তু হয়নি। পরে নির্বাচনে আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি হয়। তারপরও কিন্তু আমরা সংসদে যেসব দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে তাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা করেছি। এ সংস্কৃতি কিন্তু অতীতে ছিল না।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কাঁটছাঁট করলে তো অনেক সমস্যা হতে পারে। আপনারা জানেন অনেক প্রজেক্ট আছে। দু’তিন মাসের মধ্যে এ কাজ আমাদের করতে হবে। আমি দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজগুলো শেষ করতে চাই। মন্ত্রিসভা ছোট করলে সে ক্ষেত্রে কোনরকম বাধা হবে কি না সে বিষয়টি রয়ে গেছে। আমি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছি, বিরোধী দলের নেতার সঙ্গেও কথা বলেছি।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে তাদের দেশে তো নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভার পরিবর্তন করে না। আমি তাদের জিজ্ঞেস করেছি। তারা বলেছে, এর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। তারা এভাবেই নির্বাচন করেন। তারপরও অপজিশন ডিমান্ড করলে করব। না করলে যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। সুশীল সমাজ থেকে কাউকে নেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে বলেন, সুশীল বাবুরা সুশীলই থাক। তারা মন্ত্রী হলো তো আর সুশীল থাকবেন না। তখন তো তাদের অনেক অসুবিধা হবে।

পরিবহন নেতাদের পিটুনি দিলে কী সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে? সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন করল। কিন্তু এই আন্দোলন হওয়ার পরও তো মানুষ সচেতন হয়নি। এখনও চলন্ত গাড়ির ফাঁক-ফোকর দিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছেন। ফুটপাথ আছে, আন্ডারপাস আছে, ফুটওভার ব্রিজ আছে। কিন্তু দেখা গেল স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে মায়েরা গাড়ির সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটলে দোষটা কার?

সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো খুঁজে বের করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকায় দুই স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনায় বাসচালকের দোষ ছিল, সেটা স্বীকার করি। বাস তাদের ওপর উঠে যায়। কিন্তু অন্যান্য যে সব দুর্ঘটনা হচ্ছে তারা ফুটপাথে ছিল কি না? রাস্তায় ছিল কি না এগুলো দেখতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে ড্রাইভারদের দোষ দেন। পরিবহন নেতাদের পিটুনি দিলেই কী চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে লোক দৌড় মারা বন্ধ হয়ে যাবে? যারা আন্দোলন করল, তারাই দেখি রাস্তা দিয়ে পার হচ্ছে, চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছে। অথচ কাছেই ফুটওভার ব্রিজ। তার কিন্তু আর বয়স্ক না, ইয়ং।

তিনি বলেন, সড়ক আইন পাস করেছি। সবকিছু করেছি। চাইলেই তো হঠাৎ করে যানবাহন বন্ধ করে দেয়া যাবে না। যান্ত্রিক ব্যাপার, চলন্ত গাড়ি থামাতে গেলেও তো সময় লাগে। যারা রাস্তা পার হচ্ছেন তাড়াহুড়ো না করে আমাদের উচিত হাতে একটু সময় নিয়ে বের হওয়া। আপনারা এ বিষয়টি তুলে ধরেন। তাই দেশবাসীকেও বলব, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, পারাপারের সময় আইন মেনে চলুন।

বাংলাদেশ সফরে সম্মত সৌদি বাদশাহ ॥ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিলন আবদুল আজিত আল আল সৌদ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, সৌদি বাদশাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সাক্ষাতকালে সৌদি বাদশা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এক পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামীতে আমাদের সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে ইতোপূর্বে উচ্চ পর্যায়ের সফরগুলোতে সেদেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাধান্য পেত। কিন্তু এবারের সফরে গতানুগতিক ধারার বাইরে অভিন্ন অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, মুসলিম বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতামূলক তৎপরতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়। সফরকালে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের নবধারা সূচিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।