১৪ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদীশাসনের চ্যালেঞ্জ

দেশে নাব্য সঙ্কটের কারণে প্রায়ই বিঘিœত হচ্ছে নৌপথে চলাচল। বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী পরিবহনগুলোকে। সর্বশেষ নাব্য সঙ্কটের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বিঘিœত হওয়ায় যানবাহনের সারি দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। নাব্য সঙ্কটের কারণে কয়েকদিন আগে তিনটি ফেরি ডুবোচরে আটকে পড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশে বর্ষা-বৃষ্টি মৌসুম শেষ না হতেই যদি পরিস্থিতি এমন হয়, তবে সামনে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তা যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পদ্মা নদীর পানি কমছে এবং এখন প্রতিদিন পানির প্রবাহ কমবে বিধায় নদীর নাব্য সঙ্কটে যেন নৌচলাচল বিঘিœত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। কারণ, নাব্য সঙ্কটের ফলে শীতের মৌসুমে ফেরি ও নৌযান চলাচলে বিঘœ হলে যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি হবে, তেমনি মৌসুমী সবজি-ফলমূলসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ এবং দামেও তার প্রভাব পড়বে। নিয়মিত ড্রেজিং করার পরও কেন নাব্য ঠিক রাখা যায় না এবং ড্রেজিংয়ে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

নদীমাতৃক বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদীপথের গুরুত্ব কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না, বিশেষ করে মালামাল ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে। এও সত্য যে, দেশের অধিকাংশ নদ-নদীই বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুম বাদে নাব্য নয়। যে কারণে সারা বছর নৌপথগুলো সচল রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে নদ-নদী ভরাট হয়ে শীর্ণতোয়া অথবা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু তীর নয়, নদী দখলের খবরও আছে। সেসব স্থানে চাষবাস হয়ে থাকে এবং গড়ে ওঠে জনবসতি। সে অবস্থায় নদীর নাব্য উন্নয়ন ও নদী সিকস্তি পুনরুদ্ধার করে অভ্যন্তরীণ নৌপথে সারা বছর নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইচ্ছুক সরকার। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি একনেক সভায় আপাতত চারটি নদী ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবার নাব্য রক্ষা ও উন্নয়নে ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়ন করবে। যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সারা বছর নৌযান চলাচল বৃদ্ধি পাবে, একই সঙ্গে হ্রাস পাবে বন্যার ঝুঁকি এবং সেচ কার্যক্রম হবে সহজতর। তবে নদীর নাব্য রক্ষার অন্যতম উপায় ড্রেজিং নিয়ে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এমনকি পুকুর চুরির কথা শোনা যায়। এমনটি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি অনুরূপ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে দেশের অন্যান্য নদ-নদীর ক্ষেত্রেও। কেননা, নাব্য সঙ্কট রয়েছে প্রায় সর্বত্র। নদী ভাঙ্গনের সমস্যাও সুবিদিত।

যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কমছে নৌরুট। অথচ কম খরচে, নিরাপদ ও সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য নৌপথের বিকল্প নেই। বিশেষত, পণ্য আনা-নেয়ার জন্য নৌপথ পৃথিবীজুড়েই আদর্শ মাধ্যম। এ অবস্থায় শুষ্ক মৌসুম সামনে রেখে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়াসহ দেশের সব নৌরুটকে নির্বিঘœ রাখার উদ্যোগ নেয়া দরকার। নদীশাসনে দক্ষতা অর্জন, নৌপথগুলোকে সচল রাখা ও নাব্য সঙ্কট কাটাতে নিয়মিত ড্রেজিংসহ সব ধরনের উদ্যোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।