১৩ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২শ’ গ্রাম ইয়াবা পাওয়া গেলেই মৃত্যুদণ্ড ॥ সংসদে বিল উত্থাপন

সংসদ রিপোর্টার ॥ মাদক নির্মূলে কঠোর আইন করছে সরকার। ইয়াবা (এ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর ও সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ উত্থাপন করা হয়েছে। অবশ্য বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কম বেশির বিধান রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। পরে বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে বিলের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ফলে বিলটি এ অধিবেশনেই পাস হবে। প্রস্তাবিত বিলে কোকেন, কোকো মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। এছাড়া ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐ অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ১০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে কেউ যদি সজ্ঞানে কোন মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলী কোন বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজ-সরঞ্জাম কিংবা অর্থ-সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেন তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমন কোন ব্যক্তির কাছে অথবা তার জায়গায় যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোন যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায় সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি ন্যূনতম ২ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ বছর । বিলে আরও বলা হয়েছে, অনুমতি ব্যতীত কোন ব্যক্তি এ্যালকোহল পান করতে পারবে না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারী মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন কোন সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোন মুসলমানকে এ্যালকোহল পানের অনুমোদন দেয়া যাবে না। প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদÐ দেয়া হবে।