১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি শূন্য তিস্তা নদী

শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি শূন্য তিস্তা নদী

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ শুস্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি শূন্য (অক্টোবরের মধ্য ভাগেই) পানি শুন্য হয়ে পড়েছে খরস্রোতা তিস্তা নদী । ফলে তার বুক গেছে উঠেছে বিশাল বিশাল চর। শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই তিস্তার নদীর এই বেহাল দশায় এই নদী সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাজ। বর্ষা মৌসুম শেষ না হতেই যৌবন হারিয়ে ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই নদীটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানিয়েছে, গত ১০দিনে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ গড়ে রয়েছে ১৭ হাজার কিউসেক। প্রতিদিনই কমছে পানি। ধীরে ধীরে পানি শুন্য হয়ে মরে যাওয়া এই তিস্তার সাথে মরছে তিস্তাপাড়ের কৃষক ও জেলেরা। পানি শূন্য তিস্তায় মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছে। অনেকে ঢাকাসহ বিভন্ন শহরে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। তিস্তায় পানি না থাকায় রংপুরের জেলা লালামনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নিলফামারী ও গাইবান্ধায় নদী প্রবাহিত উপকূলীয় অঞ্চলে মরু প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।

তিস্তা ব্যারেজের প্রায় ৭০ কিলোমিটার উজানে ভারতের গজলডোবা নামক স্থানে প্রবেশ মুখে ও লালমনিরহাটের দোয়ানিতে ব্যারেজ নির্মান করে এ নদীর উচ্ছল দুর্বার গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তিস্তা নদীর নাব্যতা এতোটাই হ্রাস পেয়েছে যে আসন্ন রবি মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিদিনই পানি কমছে। নদীর বুকভরা বালুচর । কোথাও সামান্য পানি আবার কোথাও দিগন্তজোড়া বালু চর।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র মতে,অক্টোবরের মাঝামাঝিতেই তিস্তার পানি প্রবাহ কমতে শুরু করেছে । আজ মঙ্গলবার ব্যারেজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল প্রায় ১৪হাজার ৮’শ কিউসেক। পাউবো কর্তারা বলছেন,পর্যাপ্ত পানির অভাবে তিস্তা ব্যারাজের সেচ কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে ব্যারেজে প্রকৃত পক্ষে পানির প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কিউসেক। তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের কর্তব্যরত ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী এ এস এম আমিনুর রশিদ জানায়, সেচপ্রকল্পের পানিসহ তিস্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে নূন্যতম পানির প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কিউসেক। অথচ বর্ষা শেষ না হতেই গত ১০ দিনের গড়ে ব্যারেজের মুল গেটের পানি প্রবাহ রয়েছে ১৪হাজার ৮’শ কিউসেক। যা দিয়ে তিস্তা ব্যারেজের সেচ কার্যক্রম শুরু করা কষ্টকর হবে।